মঙ্গলবার ২৪শে জুন, ২০১৯ ইং ১১ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙ্গনে শতাধিক ঘর বাড়ী নদীগর্ভে বিলীন

আপডেটঃ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ | জুন ১৫, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:-:গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে ফিরে: গত কিছু দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তিস্তার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে রাস্তা-ঘাট সহ শতাধিক বসতবাড়ি ও দুই শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চন্ডিপুর ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামের ঠাকুরডাঙ্গী ও পার্শ্ববর্তী হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর খেয়াঘাট সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট বসতবাড়ী ভেঙ্গে যাওয়ায় ঐসব গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। নদী ভাঙনের তীব্রতার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে চন্ডিপুর, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মূল তিস্তায় পলি জমে মূল নদী একাধিক শাখায় পরিণত হয়েছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে ওইসব শাখা নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। স্রোতের কারনে উজানের ভাঙনে তিস্তার বালু চরের আবাদি বিভিন্ন ফসলের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে ভূট্রা, বেগুন, মরিচ, পটল, করলা, শষা, ঢেড়স, পাটসহ নানাবিধ ফসল রয়েছে।

কিন্তু নদীর ভাঙনের কারণে সে সব ফসল কৃষকরা ঘরে তুলতে পারছে না। কথা হয়, চন্ডিপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকার অা.ব.ম. শরিতুল্যাহ মাস্টারের সাথে তিনি বলেন, তিস্তার ভাঙনে চরাঞ্চলের লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ সময় নদী ভাঙনের কথা নয়। অথচ গত চার মাস থেকে দফায় দফায় নদীতে ব্যাপক ভাঙন চলছে। যার কারণে চন্ডিপুর ইউনিয়নের প্রায় হাজার বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চরের মানুষ শাক-সবজির আবাদ করে ৬ মাস সংসার চালায়। কিন্তু এ বছর নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় কৃষকরা শাক সবজি ঘরে তুলতে পারছে না, কষক হয়ে পড়ছে দিশে হারা। তিনি আরো জানান, অনেক আগে তার বাপ-দাদার ভিটে-মাটি সহ বেশ কয়েক বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চন্ডিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া জানান- ড্রেজিং করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ঠিক রাখা ছাড়া রোধ সম্ভব নয়। কারন দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। নদী ভাঙন ঠেকাতে হলে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোলেমান আলী জানান, নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি তিনি জানেন। এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, নদীভাঙন রোধ একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। তবে ভাঙন ঠেকাতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে গত ২মে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার তিস্তানদীর বিভিন্ন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন তিস্তা নদীকে রক্ষা এবং ভাঙন রোধ করতে হলে নদীর গতিপথ একমুখি করতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।