মঙ্গলবার ২৪শে জুন, ২০১৯ ইং ১১ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

জাতীয় বীরের সম্মান নিয়ে মরতে চায়-মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা গেদন আলী

আপডেটঃ ১:২২ পূর্বাহ্ণ | জুন ১৫, ২০১৯

জীবন মাহমুদ ডাবলু-:একাত্তরের বীর সন্তান কুমারখালী উপজেলার উত্তর মিরপুর গ্রামের মৃত আছরফ আলীর তৃতীয় পুত্র গেদন আলী। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯ বছর বয়সে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে বাড়ি থেকে পিতার অনুমতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন এই বীর সন্তান।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আজও পাইনি তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা গেদন অালী।১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে শৈলকূপা থানার কাছের খোল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস ভাইয়ের সাথে প্রথমে প্রশিক্ষণ করতে মেহেরপুর মজিবনগর উপস্থিত হই।এরপর কুদ্দুস ভাইয়ের নেতৃত্বে গেদন অালী সহ ১৫ জন চলে যায় ভারতীয় রানা ঘাটে। সেখানে প্রায় ২ মাস ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে কুমারখালী কালী নদীর পাশে পাথর বাড়ির মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন।

সেখান থেকে প্রথমে বংশীতলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।গেদন অালী বলেন,অামি অামার বাবা অাছরফ অালী ও মা লুতফুন নেছা কে কুষ্টিয়া সুগারমিলের পাসে জগতি এলাকায় অামার এক অাত্নীয় বাড়িতে নিরাপদে রেখে অাসার পথে বিঅাইডিসি বাজার এর সামনে থেকে পাকবাহিনী গেদন সহ অারো চার জনকে অাটক করে এসময় পাক অার্মি অফিসার বলে,তুম মুসলিম হ্যায়,অাবার বলে তুম মুক্তি হ্যায়।এ অামাকে কলেমা পড়তে বলে।তারপর অামাদের গাড়ীতে করে কুুষ্টিয়া শহরে হাসপাতাল মোড় দিকে ওয়্যারলেস অফিসের মিলিটারী ক্যাম্পে নিয়ে যায়।সেখানে অামাদের যে ঘরে অাটকিয়ে রাখে,রক্ত অার রক্ত।

অামাদের কে হাত পিঠের পিছনে নিয়ে দড়ি দিয়ে বেদে লাইন করে দাড় করিয়ে দেয়।এরপর একে একে সকলকে ঘাড়ে গলায় কোপ দিয়ে জবাই করতে থাকে।অামাকে প্রথমে ঘাড়ের পিছনে কোপ দিয়ে ফেলে দেয়। এর পর অামার মৃত্যু নিশ্চিত করতে অামার পেটে ভোজালি দিয়ে ৩ জায়গায় ফুটো করে দিয়ে মৃত্যু হয়েছে কিনা নিশ্চিত করে।গেদন অালী বলেন,দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্ত মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসে অাজও পায়নি অামার সম্মান।

তিনি সরকারের কাছে দাবি করেন,সঠিক যাচাই বাছাই করে অামাকে রাষ্ট্রীয় এই সম্মান টুকু দেওয়া হোক।