শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

রাজাকারের পুত্র আওয়ামী লীগের নেতা !

আপডেটঃ ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ | জুন ১৮, ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধি-শাহরাস্তি চাঁদপুর থেকে : চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌর সভার ৭ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের আহবায়ক হিসাবে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বাঙ্গালী নিধনে সক্রিয় কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার চেরাগ আলীর পুত্রকে দায়িত্ব দেয়ার সংবাদ পাওয়া গিয়াছে। এবিষয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরেজমিনে জানা গিয়াছে, আহবায়কের দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙ্গালী নিধনে সক্রিয় অংশ গ্রহনকারি কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার চেরাগ আলীর পুত্র মোহাম্মদ আলী মানিক। সে শাহরাস্তি পৌর সভার ৭ নং ওয়ার্ডের নিজ মেহার গ্রামের বাসিন্দা। মানিকের বাবা ছিলেন একজন স্বীকৃত রাজাকার যাকে পাক হানাদার বাহিনী লোকেরা ডাকতো “চেরাগ আলী ওয়ান ওয়ান ফায়ার”।

একজন রাজাকারের ছেলেকে বর্তমান স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব দেয়ায় জৈনক সাজ্জাদুল কবীর নামে এক ব্যক্তি আওয়ামী লীগের চাঁদপুর জেলা শাখায় সভাপতির বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। লিখিত অভিযোগ হুবহু পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল :-

“সভাপতি/সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখা চাঁদপুর । বিষয় : শাহরাস্তি উপজেলাধীন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক শাহরাস্তির কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার চেরাগ আলীর পুত্র কেন ? আওয়ামী লীগকে কলষ্কমুক্ত করার জন্য এর প্রতিকার চাই। মহোদয়, শ্রদ্ধা ও সম্মান সহকারে উপরোক্ত বিষয়ে জ্ঞাতব্য এই যে, শাহরাস্তি পৌরসভার প্রানকেন্দ্র ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসাবে খ্যাত। উক্ত ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী সক্রিয় থাকার পরও কিভাবে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বাঙ্গালী নিধন সক্রিয় কুখ্যাত যুদ্ধাপরধী রাজাকার কমান্ডার চেরাগ আলীর পুত্র মোহাম্মদ আলী মানিককে আহবায়ক বানানো হলো ?

এটা গোটা ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন ? মুক্তিযুদ্ধের সময় শাহরাস্তিতে চেরাগ আলী মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে হাঁসতে হাঁসতে। হত্যা, ধর্ষণ এবং হিন্দুদের ঘর-বাড়ি লুটপাটে শাহরাস্তির প্রধান নেতৃত্বদানকারী কমান্ডার চেরাগ আলী। চেরাগ আলীর পুত্র মোহাম্মদ আলী মানিক জিয়াউর রহমানের যুব কমপ্লেক্সের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে শাহরাস্তির আরেক কুলাঙ্গার কর্ণেল শাহজাহানের (নরিংপুর,খিজির হায়দারের খালাতো ভাই) সাথে ফ্রিডম পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেছে।

হঠাৎ করে মোহাম্মদ আলী মানিকের পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আহবায়ক হিসেবে আবির্ভাব ঘটে। এতে করে আওয়ামী লীগকে প্রশ্নবিদ্ব করা হয়েছে। ঘৃণা ও ধিক্কার জানাই যে কুখ্যাত রাজাকার পুত্র মোহাম্মদ আলী মানিককে আহবায়ক হিসেবে কমিটি অনুমোদন করেছে। তারও যথোপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি। উপরোক্ত বিষয়ে আশু হস্তক্ষেপ গ্রহন করতঃ আওয়ামী লীগকে কলষ্কমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাধিত করিবেন। নিবেদক (সাজ্জাদুল কবীর) নিজমেহার,শাহরাস্তি,চাঁদপুর।

” উল্লেখিত বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উল্লাহ চৌধুরীর নিকট মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দুঃখিত,আমি লজ্জিত,আমি ক্ষমা প্রার্থী। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে একজন যুদ্ধাপরাধীর সন্তানকে একটি ওয়ার্ডের আহবায়ক করার বিষয়টি শুনার আগে আমার কেন মৃত্যু হল না।

” আমি যুদ্ধাপরাধীর সন্তানের নেতৃত্বে গঠিত আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দিব না  !! বিষয়টি নিয়ে উপজেলাবাসির ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেরই প্রশ্ন এই ওয়ার্ডটি আওয়ামী লীগের দূর্গ বলে খ্যাত এবং উপজেলায় তথা শাহরাস্তি পৌরসভায় অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ এখানে কেন একজন স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধীর সন্তানকে ওয়ার্ড কমিটির আহবায়ক করা হল? এই ওয়ার্ডে কি আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেয়ার মত কোন ব্যক্তি ছিল না? ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকগণের দাবি এই ওয়ার্ডের আহবায়ক হিসাবে একজন ত্যাগী আওয়ামী লীগারকে আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হউক।