শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

রাজধানীর উত্তরখানে চা ল্যকর সাকিব হত্যার মূলহোতা শাহীন সহ আটক-৩ ॥ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১ টি সুইচ গিয়ার উদ্বার

আপডেটঃ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ | জুন ১৮, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন ॥ রাজধানীর উত্তরখানে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সাকিব (২০) নামে এক যুবককে হত্যার চা ল্যকর ঘটনায় মূলহোতা শাহীন ওরফে ব্ল্যাক শাহীনসহ (২৪) তিনজনকে আটক করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। আটককৃতরা হলেন-মোঃ শাহীন মিয়া ওরফে ব্ল্যাক শাহীন (২৪), মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে মিজু (২৪) ও মোঃ ফরহাদ হোসেন (২৬), । এসময় র‌্যাব সদস্যরা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১ টি সুইচ গিয়ার ধারালো ছোড়া উদ্ধার করা হয় এবং তাদের নিকট হতে ৩ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সোমবার দিনগত রাতে রাজধানীর উত্তরখান সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি মো: মিজানুর রহমান ভুঁইয়া আজ বাসসকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এবিষয়ে আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুর ১২টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
র‌্যাবের এই সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার সাংবাদিকদেরকে জানান, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন বাটুলিয়া এলাকায় আভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের মূলহোতা ১) মোঃ শাহীন মিয়া ওরফে ব্ল্যাক শাহীন (২৪), পিতা- মোঃ আব্দুল মান্নান, মাতা- শাহানারা বেগম, বাড়ী নং-৩০৫, কোটবাড়ী, ডাকঘর- ফায়দাবাদ, থানা- দক্ষিণখান, ডিএমপি, ঢাকা, ২) মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে মিজু (২৪), পিতা- বিল্লাল হোসেন, মাতা- পারভীন বেগম, সাং- পুরাতন বাশকান্দা, থানা- বকশীগঞ্জ, জেলা- জামালপুর, বর্তমানেঃ সাং- কোটবাড়ি, থানা- দক্ষিণখান, ডিএমপি, ঢাকা এবং ৩) মোঃ ফরহাদ হোসেন (২৬), পিতা- মোঃ আওয়াল (ড্রাইভার), মাতা- মরিয়ম বেগম, সাং- ফায়দাবাদ চরেরটেক, ডাকঘর- ফায়দাবাদ, থানা- দক্ষিণখান, ডিএমপি, ঢাকা সহ ৩জনকে আটক করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যমতে উত্তরখান থানাধীন আটিপাড়ার পাশ¡বর্তী কাঠালতলা নামক স্থান থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১ টি সুইচ গিয়ার ধারালো ছোড়া উদ্ধার করা হয় এবং তাদের নিকট হতে ৩ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ শাহীন মিয়া ওরফে ব্ল্যাক শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদে সে র‌্যাবকে জানায় যে, সে ২০১৫ সালে সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যা নিকেতন, টঙ্গী হতে এসএসসি পাশ করার পর পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। সে দীর্ঘ দিন যাবৎ ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করে আসছে বলে স্বীকার করে। পাশাপাশি সে ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসার সাথেও জড়িত। তার বিরুদ্ধে উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানায় একাধিক ছিনতাই, মারামারি ও মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
তার দেওয়া তথ্য মতে, হত্যাকান্ডের দিন গত গত শনিবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান এলাকার বাটুলিয়া নদীর পাড়ে সে এবং ধৃত অপর দুই আসামীসহ জিয়া, তানভীর, রুবেল, মিঠু, সবুজসহ ৭/৮ জন ঘটনালে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করছিল। এসময় মিঠু ভিকটিমদের দেখে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবাইকে নিয়ে তাদের নিকট গিয়ে গায়ে পড়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে তারা ভিকটিমদের মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিতে চাইলে তারা বাঁধা দেয়। এসময় দুই পক্ষের হাতাহাতি হলে রুবেল তার নিকটে থাকা একটি সুইচ গিয়ার ছোড়া বের করে। এসময় শাহীন মিয়া রুবেলের নিকট হতে ছোড়াটি নিয়ে সাকিব ও শিপনকে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানান,গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে মিজু’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যা নিকেতন, টঙ্গী হতে নবম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখার করেছে। সে পেশায় বাইপাইল-সায়দাবাদ রুটে দোয়েল পরিবহনের হেল্পার। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামল রয়েছে এবং এসব মামলায় সে কারাভোগ করেছে বলে জানায়।
এছাড়া মোঃ ফরহাদ হোসেন র‌্যাবকে জানায় যে, সে পেশায় একজন টিউবওয়েল মিস্ত্রী। সে এই চক্রের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। সে প্রায় পাঁচ বছরের বেশী সময় ধরে মাদকাসক্ত। এছাড়াও সে দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে পাঁচটির বেশী মাদক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় সে বেশ কয়েকবার কারাভোগ করেছে বলে জানায়। এই সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদেরকে ধরতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। আটককৃতদের বিরুদ্বে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে।