শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

ধকালিয়াকৈরে পুলিশ পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি ভূমি দস্যুর দখলে…….

আপডেটঃ ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০২, ২০১৯

কালিয়াকৈর থেকে ফিরে মোঃ ইলিয়াছ মোল্লাঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক পুলিশ পরিবারের পৈত্রিক প্রায় ২একরেরও অধিক মুল্যবান জমি স্থানীয় এক ভুমি দস্যুর দখলে রয়েছে বলে গুরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে । অভিযোগ সুত্রে জানাজায় কালিয়াকৈরে আসারিয়াবাড়ি মৌজাস্থিত ৪৯৩নং জোতে এস এ ৯৩, ১৪৫ আর এস ১৪ ও ১৫ নং খতিয়ানে এস এ ২৫৫, আর এস ৩২৪ নং গং দাগে মোট ৬একর ৫৩ শতাংশ জমির কাতে ২একরেরও অধিক জমি পৈত্রিক ও রেকর্ড মুলে প্রকৃত মালিক মৃত্যু আব্দুল হামিদ । বাকি জমির মালিক তার ভাই সুজাত আলী, বোন বাছাতন নেছা ও ফাতেমা বিবি । এই জমির নিকটেই তাদের বসত বাড়ি, এক সময় জৈনক তাইজদ্দিনের সাথে বিবাহ হয় মৃত্যু আব্দুল হামিদের বোন বাছাতনের । বিয়ের পর থেকেই তাইজদ্দিন ঘরজামাই হিসেবে ঐ বাড়িতেই বসবাস করে । কয়েক বৎসর পর আব্দুল হামিদ, পার্শ্ববর্তী ঢোলসমদ্র এলাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন এবং অপর বোন ফাতেমা বিয়ের পর থেকে তার স্বামীর বাড়িতেই থাকত, আর ঐ বাড়িতে মৃত্যু আব্দুল হামিদের ছোট ভাই সুজাত আলী ও বোন বাছাতন নেছা স্বামী সহ বসবাস করে । তার কয়েক বসর পর সুজাত আলীর বসত ঘরে রাতের অন্ধকারে বাহির থেকে কে বা কাহারা দরজার সিটকানি মেরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভিতরে আটকা পরে অগ্নদগদ হয়ে সুজাত আলী মৃত্যু বরন করেন। সুজাত আলীর মৃত্যুর পর থেকে উক্ত জমি চাষাবাদ করতে থাকে বাছাতনের স্বামী তাইজদ্দিন । ঐ সময় থেকেই জমির উদপাদিত ফসলের একটি অংশ আব্দুল হামিদকে দেওয়া হত । এই ভাবেই চলছিল ভাই আব্দুল হামিদ ও বোন বাছাতনের সম্পর্ক । গত কয়েক বৎসর পূর্বে আব্দুল হামিদ ও তাইজদ্দিন মৃত্যু বরন করেন । তার পর থেকে তাইজদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী গংরা ঐ জমি চাষাবাদ করে কয়েক বৎসর হামিদের সন্তাদেরকেও উদপাদিত ফসলের একটি অংশ দিয়ে আসছিল । হটাত করে ৪/৫ বৎসর যাবত তাইজদ্দিনের ছেলেরা ঐ জমির উৎপাদিত ফসল দেওয়া বন্ধ করে দেয় । এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে কয়েকবার বিচার শালিসও হয় । এক পর্যায় তাইজদ্দিনের ছেলে ভুমিদস্যু মোঃ আলী গংরা জালজালিয়াতির মাধ্যমে কিছু কাগজ পত্র তৈরি করে ঐ সম্পত্তি নিজেদের দাবী করে এবং মৃত্যু আব্দুল হামিদের সন্তান ১/ হারুন অর রশিদ, ২/ শহিদুল ইসলাম, ৩/ খোরশেদ আলম, ৪/ রতন আলম, ৫/ পুলিশ সদস্য মুঞ্জুরুল করিম, ৬/ জাকির হোসেন, ৭/ হাবিবুর রহমান, ৮/ মোছাঃ রাজিয়া পারভিন, ৯/ মোছাঃ দেলয়ারা বেগম, ১০/ মোছাঃ রওশনারা বেগমের নামে প্রায় ১একর ৫৯ শতাংশ জমির নামজারি বাতিল করার জন্য ভুয়া কাগজ পত্রের সুত্র দিয়ে সহকারী কমিশনার (ভুমি) কালিয়াকৈর, গাজীপুর বরাবর একটি আবেদন করেন এবং মৃত্যু আব্দুল হামিদের সন্তানরাও তাদের নামে নামজারি বহাল রাখতে সহকারী কমিশনার (ভুমি) কালিয়াকৈর, গাজীপুর বরাবর একটি আবেদন করেছেন যা বর্তমানে বিচারাধীন । পুলিশ পরিবার অভিযোগ করে বলেন, এই জমি আত্মসাৎ করতেই পেলান মাফিক ভুমিদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাবা তাইজদ্দিন আগুন দিয়ে সুজাত আলিকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে । তারা আরও জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরিয়া ভুমিদস্যু মোহাম্মদ আলী গংরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে । তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ পরিবারের পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর থানায় ২টি সাধারন ডায়রি করা হয়েছে, যার নং- ১০৬০ ও তাং ২৬/৭/২০১৮ইং । ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ সহ অন্যান্য ওয়ারিশগণের দাবি, তাদের নামে নামজারি বহাল রাখতে এবং জমির দখল বুঝে পেতে কোন হয়রানির শিকার না হতে হয় । এজন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট ক্রতিপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন । উপরোক্ত অভিযোগের বিষয় জানতে, মোহাম্মদ আলীর ব্যাবহারিত মোবাইলে একধিকবার ফোন দিলেও সে ফোন রিসিভ করেননি ।