মঙ্গলবার ১৫ই জুলাই, ২০১৯ ইং ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

বদরগঞ্জের সহকারী কমিশনার(ভূমি)’র কার্যালয় ১৬ পদের ৯ টি ফাঁকা॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে ভূমি মালিকরা….

আপডেটঃ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৩, ২০১৯

ময়দুল ইসলাম বদরগঞ্জ,(রংপুর)প্রতিনিধিঃ রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি)’র কার্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ওই কার্যালয়ে মোট ১৬টি পদ থাকলেও ৯টি পদই ফাঁকা রয়েছে। ফলে নামজারিসহ ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অবশিষ্ট কর্মচারিদের। পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছেন ভূমি মালিকরা।
অফিস সুত্রে জানা গেছে- ওই কার্যালয়ে মোট ১৬টি পদ রয়েছে। পদগুলো হলো- সহকারী কমিশনার(ভূমি) একজন, সার্টিফিকেট পেশকার একজন, অফিস সহকারী একজন, প্রসেস সার্ভার দু’জন, অফিস সহায়ক দু’জন, কানুনগো একজন, সার্ভেয়ার একজন, প্রধান সহকারী একজন, নাজির কাম ক্যাশিয়ার একজন, সার্টিফিকেট সহকারী একজন, ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী দু’জন এবং চেইনম্যান দু’জন। ২০১৭সালের ১৩আগস্ট থেকে সহকারী কমিশনার(ভূমি)’র পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া কানুনগো, সার্ভেয়ার, প্রধান সহকারী, অফিস সহকারী, নাজির কাম ক্যাশিয়ার, সার্টিফিকেট সহকারী এবং ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে। তবে সার্ভেয়ার ও অফিস সহকারী পদে অন্য উপজেলা থেকে দু’জন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার(ভূমি)’র অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ভুক্তভোগি জমির মালিকরা জানান- অধিকাংশ পদ শূন্য থাকার কারণে নামজারিসহ অন্যান্য কাজে বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে। কারণ নামজারির জন্য সকল প্রক্রিয়া শেষ হলেও দেখা যায় সার্ভেয়ার নেই। আবার সার্ভেয়ার থাকলেও নাজিরের খোঁজ মেলেনা। আবার সার্ভেয়ার ও নাজির থাকলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার না থাকার কারণে সকল কাজ আটকে থাকে। কথা হয় উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের জাকির হোসেন ও দামোদরপুর ইউনিয়নের রুহুল আমিনের সাথে। তারা দু’জনই জানান- নামজারির কাজে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়েছি আর ঘুরতে ইচ্ছে করছেনা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে এসে মনে হয় জমি না থাকলেই ভাল হত। একই কথা বলেন নামজারির কাজে আসা অন্যরাও।

বদরগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস সরকার বলেন, সঠিক সময়ে নামজারি না হওয়ায় দলিল লেখালেখির কাজ অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নবীরুল ইসলাম বলেন, আমি এই উপজেলায় যোগদান করার পর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একজন এসিল্যা- পেয়েছি। কিন্তু তিনি যোগদান করেই পাঁচ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণে চলে গেছেন। তিনি নিয়মিত অফিসে বসতে পারলেই লোকজনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনবল সঙ্কটের কারণে অন্য পদগুলো আপাততঃ পুরণের কোন সম্ভাবনা নেই।