শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

চিলমারীতে প্রবল বর্ষনে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তানদের পানি বৃদ্ধি ॥ ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্দী !

আপডেটঃ ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৪, ২০১৯

এম.জি.ছরওয়ার:-চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃকুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে গত ৪ দিনের টানা প্রবল বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তানদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে এক দিকে প্রবল বৃষ্টির পানি আর অন্যদিকে ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা নদীর পানি এক যোগ হয়ে চিলমারী উপজেলায় বন্যা শুরু হয়েছে। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় পচিশ হাজার মানুষ। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ব্যাপক নদীভাঙ্গন। এতে করে চিলমারী উপজেলার বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলার পুটিমারী কাজল ডাঙ্গা, রানীগঞ্জ এলাকার কাঁচকোল, চিলমারী ইউনিয়নের অষ্টমির চর, কোদাল কাঠি, বান্ডালের চর, শাখাহাতি ও বোলমন্দিয়ার খাতা। অপরদিকে রমনা মডেল ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া, মাঝিপাড়া, ভট্টপাড়া, দক্ষিণ খড়খড়িয়া, টোনগ্রাম, জামের তল, পাকার মাথা, চর পাত্রখাতা সহ বিভিন্ন গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অন্য দিকে নয়ারহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ খাউরিয়া, ঠাকুরের চর, বজরা দিয়ারখাতা ও ফেইচকা এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে গরু ছাগল নিয়ে অতি কষ্ঠে জীবন যাপন করছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম বলেন, গত ৪ দিনে উপজেলার অষ্টমীরচর, নয়ারহাট ও চিলমারী ইউনিয়নে প্রায় ১৬১টি বাড়ী  নদীতে ভেঙ্গে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াবশ, রমনা ইউনিয়নের ভরট্টপাড়া ও চিলমারী ইউনিয়নের মনতোলা এলাকা সমুহ। বন্যার্তদের জন্য সরকারীভাবে যা বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সরকারীভাবে ত্রাণ সামগ্রী আসতে শুরু করেছে পর্যায়ক্রমে আসতে থাকবে। বন্যা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রনের বাইরে যায়নি। ইতোমধ্যে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, গত ৪৮ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৪৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৮  সেন্টিমিটিার উপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভারী বর্ষন অব্যাহত থাকলে যে কোন সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। পানি বৃদ্ধির ফলে অনেক স্থানে নদী ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে