মঙ্গলবার ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বদরগঞ্জের ৭৩ বছরের পুরনো সেতু এখন মরণফাঁদ

আপডেটঃ ১:৪৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধি-:ময়দুল ইসলাম -:রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা কুতুবপুর এলাকায় সেতুর ওপর দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার মানুষ। সেতুর মাঝ অংশের দুটি স্তম্ভ (পিলার) ফেটে গেছে। প্রায় ৭৩ বছরের পুরনো একটি সেতু পুনঃনির্মাণ না হওয়ায় পথচারিদের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিচের অংশের ইট ধসে পড়ায় সেতুটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এত কিছুর পরেও সেতুটি পুণঃ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার দুই পারের মানুষের যাতায়াতের জন্য বদরগঞ্জের কুতুবপুর এলাকার সমাজসেবক ‘চান্দু মন্ডল’ নামে এক ব্যক্তি কাঠগড়ি নদীর ওপর নিজের অর্থ ব্যয় করে স্টিলের কাঠামোর ওপর চুন-সুরকি দিয়ে একটি সেতু নির্মাণ করেন। এরমধ্যে সেতুর নিচের একটি স্তম্ভ প্রায় ভেঙে গেছে। অপরটির অবস্থাও ভয়াবহ। যে কোন মুহুর্তে সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। অথচ এ অবস্থায় সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ভারি যানবাহনসহ হাজার হাজার মানুষ।

সরেজমিন দেখা যায়, কুতুবপুর ইউনিয়নের রোস্তমাবাদ এলাকার সেতুটি চরম ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। সেতুর ওপর দিয়ে নির্বিঘেœ চলাচল করছে বিভিন্ন বিদ্যালয়গামী কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। সেতুর একটি স্তম্ভের ভেতরে থাকা স্টিলের পাত অনেক আগেই ঝরাজীর্ন হয়ে নষ্ট হয়েছে। সেতুর অপর স্তম্ভটির বেহাল অবস্থা। পুরনো ইট চুন-সুরকিও খসে পড়েছে। দুর্বল ভিত্তির ওপর কোন রকম আটকে আছে সেতুটি। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে মালবাহী ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন নির্বিঘেœ চলাচল করছে।
এলাকাবাসী বকুল মিয়া বলেন, এর আগেও সেতুটির পাটাতন ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সংস্কার করে চলাচলের উপযোগি করা হয়। এখন সেতুর দুইটি পিলার ভেঙে পড়ার অবস্থা। পিলারগুলো মাঝ বরাবর ফেটে গেছে। সেতুটি ভেঙে পড়লে রোস্তমাবাদ হাইস্কুলসহ ওই এলাকার তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যামপুর সুগারমিলসহ পাশের মিঠাপুকুর উপজেলায় হাজার হাজার মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান দুলু বলেন, ‘এলজিইডি থেকে মাঝে-মধ্যে মাপজোক করে নিয়ে যায়। কিন্তু ব্রিজ হয় না। জরাজীর্ন হয়ে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।দ্রুত সেতুটির কোন ব্যবস্থা নানিলে যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।লাগানো হয়েছে সতর্কতার জন্য সাইনবোর্ড । তার পরেও কেন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তা আমার জানা নেই।’
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে সেতুটি সম্পুর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। সেখানে আরেকটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি পুণঃনির্মান করা সম্ভব হবে।