সোমবার ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

গাজীপুর প্রেসক্লাবে- মিথ্যাচারের প্রতিবাদে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন…..

আপডেটঃ ২:০৫ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :চ্যানেল সেভেন – : গাজীপুর -: সীমাহীন অপপ্রচার, হত্যার হুমকি, হামলার উস্কানি ও ফতোয়া দিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। গতকাল বুধবার সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় গাজীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে হেযবুত তওহীদের নেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ এ নেতা বলেন, ‘হেযবুত তওহীদ আইন মান্যকারী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি আন্দোলন। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের সন্তান এমামুয্যামান মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী কর্তৃক ১৯৯৫ সালে এ আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। হেযবুত তওহীদ মানবতার কল্যাণে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-ধর্মব্যবসা-অপরাজনীতি-মাদক ইত্যাদির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আদর্শিক সংগ্রাম করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে সেই শ্রেণিটি যারা ইসলামকে তাদের রুটি-রুজির মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে এবং যারা অপরাজনীতিতে ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন জাতিবিনাশী কর্মকা- ঘটিয়েছে। এ শ্রেণিটি জনগণের কাছে হাজারো বিভ্রান্তিমূলক অসত্য তথ্য, গুজব, বানোয়াট বক্তব্য প্রচার করে হেযবুত তওহীদের মতো মহান একটি আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করে এসেছে। শুধু তাই নয়, তাদের অন্ধ অনুসারীদের লেলিয়ে দিয়েছে, হত্যা করতে প্ররোচনা দিয়েছে। এ পর্যন্ত তারা আমাদের চারজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। বহুজনকে আহত করেছে, বহু বাড়িঘর ভস্মীভূত করেছে, লুটপাট ভাঙচুর চালিয়েছে, বহু সদস্যকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। সম্প্রতি এই শ্রেণিটি আরও ব্যাপক পরিসরে দেশজুড়ে সীমাহীন অপপ্রচার, হত্যার হুমকি, হামলার উস্কানি ও ফতোয়া দিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে গভীরভাবে লিপ্ত হয়েছে।’
হেযবুত তওহীদ আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম নিয়ে দাঁড়িয়েছে দাবি করে আন্দোলনটির শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কোর’আন ও শেষ রসুল মোহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ পরিপন্থী একটি কথাও বলিনি। আমরা কেবল ধর্মব্যবসায়ীদের ওইসব অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ির বিষয়ে কথা বলেছি যেগুলো আল্লাহ ও রসুল (সা.) এর আদর্শের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও তারা ইসলামের নামে চালিয়ে দিতে চায় এবং তার মাধ্যমে প্রগতির পথকে রুদ্ধ করতে চায়। তাদের বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে বললে কেউ কাফের-মুরতাদ হয়ে যায় না। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে তারা সুপরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে ইসলামবিদ্বেষী, মুরতাদ, কাফের, বাতিল, খ্রিষ্টান, গোমরাহ, ধর্ম অবমাননাকারী, কোর’আন-হাদিস অস্বীকারকারী হিসেবে ফতোয়া দিচ্ছে। তাদের এসব ফতোয়ায় প্ররোচিত হয়ে তাদের অন্ধ অনুসারীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে- তোকে জবাই করা হবে, হত্যা করা হবে, মাথা কাটা হবে, বিনা জানাজায় দাফন করা হবে, কবর দেওয়া হবে, পুড়িয়ে হত্যা করা হবে ইত্যাদি।’
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রমাগত হুমকির প্রেক্ষিতে কয়েকটি জেলায় আমরা মামলা দায়ের করেছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অথচ আইন সবার জন্যই সমান। আলেম-ওলামা নাম নিলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যায় না। আমাদের দাবি- আইসিটি আইন লঙ্ঘনকারী এবং
মসজিদ-মাদ্রাসা ও ওয়াজ-মাহফিলের মত যেসব স্থানে ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্মীয় কর্তব্য পালনার্থে যায়, সেসব দায়িত্বপূর্ণ স্থানকে অপব্যবহারকারী যে কোন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আন হোক এবং ইতঃপূর্বে দায়েরকৃত মামলায় আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’ তিনি এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।