সোমবার ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর পরিচয়দানকারী- গ্রেফতার…..

আপডেটঃ ২:২২ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :চ্যানেল সেভেন – গাজীপুর -: প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর পরিচয়দানকারী প্রতারক ইল্লাম শাহরিয়া(৩৭)কে গাজীপুর শিমুলতলী এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১, গাজীপুর ক্যাম্প।
জানাযায়,৮ অক্টোবর বিকেলে র‌্যাব-১, স্পেশালাইজড কোম্পানী, পোড়াবাড়ী ক্যাম্প, গাজীপুর এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, জিএমপি, গাজীপুর সদর থানাধীন শিমুলতলী এলাকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর মননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর পরিচয়দানকারী প্রতারক ইল্লাম শাহরিয়া(৩৭) অবস্থান করছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অত্র কোম্পানীর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, (জি), বিএন এর নেতৃত্বে এবং গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস এর উপস্থিতিতে সঙ্গীয় অফিসার/ফোর্সসহ গাজীপুর জেলার সদর থানাধীন শিমুলতলী মৌবাগ ওবায়দুল হক এর বাড়ী নং-৪২৪/১৩ এর ২য় তলা ধৃত আসামী ইল্লাম শাহরিয়া এর ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। ইল্লাম শাহারিয়া(৩৭), পিতা-মোঃ সাদিক হাসান, বাসা নং-১৩৭, ডিওএইচএস, ক্যান্টনমেন্ট বারিধারা, ঢাকা, এ/পি-সাং-মৌবাগ চতর (ওবায়দুল হক এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া), ওয়ার্ড নং-২৪, থানা-সদর, জিএমপি, গাজীপুর’কে গ্রেফতার করে। এসময় ধৃত আসামীর দখলে থাকা নি¤œবর্ণিত মালামাল উদ্ধার করা হয়ঃ
১। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারির নামে আইডি কার্ড-০১ টি।
২। এডিশনাল ডাইরেক্টর এর নামে আইডি কার্ড -০১ টি।
৩। ডেপুটি ডাইরেক্টর এর নামে কাগজের প্রিন্ট করা কার্ড-০২ পাতা।
৪। ডেপুটি সেক্রেটারির কার্ড-০১ পাতা।
৫। ডেপুটি ডাইরেক্টর এর নামে ভিজিটিং কার্ড-৫০০ টি।
৬। সত্যায়িত প্রজ্ঞাপন-০২ পাতা।
৭। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অফিস আদেশ-০৪ পাতা।
৮। বিভিন্ন প্রকার ব্যক্তির নামে (এসএসএফ পরিচালক, সচিব, ব্রিটিশ হাইকমিশনার, বিভিন্ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন অফিসের নামে)-১৫ টি সীল।
৯। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মনোগ্রামের ট্রাকসুট (শার্ট জলপাই রং-০১ টি, সাদাকালো-০১ টি)।
১০। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মনোগ্রাম ছোট/বড়-২০ টি।
১১। বাংলাদেশের মানচিত্র মনোগ্রাম-০৫ টি।
১২। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মনোগ্রাম যুক্ত আইডি কার্ডের ফিতা-০২ টি।
১৩। এসএসএফ এর মনোগ্রাম সহ ফিতা-০৩ টি।
১৪। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের চেক বই-০১ টি।
১৫। সাউথইষ্ট ব্যাংকের চেক বই-০১ টি।
১৬। সোনালী ব্যাংকের চেক বই-০১ টি।
১৭। ট্রাস্ট ব্যাংকের চেক বই-০১ টি।
১৮। নগদ ০৬ লক্ষ টাকা।
১৯। ০২ টি মোবাইল ফোন।
২০। টয়োটা আলফার্ড সাদা রঙ্গের মাইক্রোবাস-০১ টি (যার নম্বর-ঢাকা মেট্টো-চ-১১-৯৫৯৫)।
২১। পিএমও লিখা কালো ক্যাপ-০১ টি।
২২। জ্যাকেট বাদামী রং-০১।
২৩। এসএসএফ এর জলপাই রং এর পোষাক-০১ টি।
২৪। সিগন্যাল লাইট-০১ টি।
২৫। ওয়াকিটকি সেট-০২ টি।
২৬। লাইটার পিস্তল-০১ টি।
২৭। খেলনা পিস্তল-০১ টি।
২৮। এসএসএফ এর আইডি কার্ড-০১ টি।
২৯। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আইডি কার্ড-০১ টি।
৩০। ঢাকা মেট্টো-র-১০১২ লিখা ০১ টি গাড়ীর নেইম প্লেট এবং উল্লেখিত গাড়ীর সমস্ত কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণঃ গ্রেফতারকৃত আসামী ইল্লাম শাহরিয়া(৩৭) পেশায় একজন আইটি বিশেষজ্ঞ। কিন্তু উক্ত পেশার আড়ালে সর্বসাধারণের কাছে সে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আইটি সেকশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর পরিচয়দানের পাশাপাশি তার ব্যবহৃত গাড়ী যার নম্বর-ঢাকা মেট্টো-চ ১১-৯৫৯৫, যাহাতে মননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিভিন্ন ষ্টিকার, মনোগ্রাম, ওয়াকি-টকি সেটসহ এসএসএফ এর ব্যবহৃত পোষাক ও ক্যাপ ব্যবহার করে আসিতেছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আইটি সেকশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকতা/কর্মচারীদেরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাধারণ মানুষের নিকট হইতে চাকুরী, পদোন্নতি, বদলী, বিদেশে প্রেরণের কথা বলে প্রতারনার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে আসামী স্বীকার করে।
এছাড়াও সরকারী কাজে বাধা প্রদানের জন্য উপস্থিত গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাবা জান্নাতুল ফেরদৌস গ্রেফতারকৃত আসামী ইল্লাম শাহরিয়া(৩৭) কে বাংলাদেশ দঃ বিঃ ১৮৬ ধারা মোতাবেক ০৩(তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান পূর্বক আসামীকে গাজীপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আইটি সেকশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর পরিচয় দিয়ে সরকারী বিভিন্ন অফিসের আইডি কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকতা/কর্মচারীদেরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাধারণ মানুষের নিকট হইতে চাকুরী, পদোন্নতি, বদলী, বিদেশে প্রেরণের কথা বলে প্রতারনার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে র‌্যাব কর্তৃক উক্ত আসামীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হইতেছে।