বৃহস্পতিবার ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

সরকারী করণের নামে শাহরাস্তি বহুমুখী উবির ৩৯ লক্ষ টাকার হরিলুট…….

আপডেটঃ ৩:০১ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৪, ২০১৯

* স্থানীয় সাংসদ মেজর রফিকুল ইসলামের নাম ভাঙিয়ে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ !
* হাইকোর্টের রিট নিষ্পত্তির নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় !
  * সরকারি কর্মকর্তাদের বকশিস প্রদানের নামে শিক্ষকদের দেড় বছরের বেতন অগ্রিম উত্তোলন !
 *  আত্মসাৎ করা হয়েছে শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও শিক্ষক সমিতির সকল টাকা !

বিশেষ প্রতিনিধি :  শাহরাস্তিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো উপজেলার অন্তত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারিকরণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে জাতীয়করণ করা হয় উপজেলার শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। বহুল আরাধ্য সরকারিকরণের ঘোষণায় শিক্ষক সমাজ যখন সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে ব্যস্ত তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ গুটি কয়েক শিক্ষক সরকারিকরণের ঘোষণাকে নিয়েছেন অর্থ উপার্জনের পথ হিসেবে। স্কুলের আদর্শ শিক্ষকদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা অর্থ বাগিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার স্বপ্নে মেতেছেন তারা। স্থানীয় সাংসদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ প্রদানের নাম করে শিক্ষকদের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৩৯ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন কামরুন্নাহার নামের এক অভিভাবক। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে স্কুল পরিদর্শন করে দুদকের পর্যবেক্ষক টিম। স্কুল জাতীয়করণের নামে কোথায় কীভাবে উত্তোলন করা হয় ৩৯ লাখ টাকা? সে বিষয়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদকের চলে দীর্ঘ অনুসন্ধান। দীর্ঘদিনের এ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত দেশব্যাপী প্রতিটি উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর জাতীয়করণের তালিকাভূক্ত ৩৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তালিকায় নাম আসে চাঁদপুরস্থ শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টির। এইদিন শিক্ষা সংক্রান্ত অনলাইন পত্রিকা দৈনিক শিক্ষায় স্কুল জাতীয়করণের সংবাদটি গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় নাম সম্বলিত ঐ সংবাদে উল্লেখ করা হয়, জাতীয়করণকৃত ৩৭টি স্কুলের নামের তালিকা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এর কিছুদিনের মধ্যে মাউশি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে স্কুল পরিদর্শন তালিকা পাঠানোর জন্যে মাধ্যমিক স্কুলগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। যেখানে পূর্ব ঘোষিত ৩৭টি স্কুলের স্থলে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের নাম আসে। রহস্যজনকভাবে বাদ পড়ে শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম!
জাতীয়করণ ঘোষণার পরও কেন শুধুমাত্র এ স্কুলটির নামই বাদ পড়লো তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে যখন এ নিয়ে হতাশা কাজ করছে তখনই হতাশার দুর্বলতাকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগান বলে অভিযোগ উঠেছে স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. ইমাম হোসেন বিরুদ্ধে।
জানা যায়, স্কুলে শিক্ষকদের এক বিশেষ মিটিংয়ে প্রধান শিক্ষক সব শিক্ষকদের জানান রাজনৈতিকভাবে তাদের স্কুল জাতীয়করণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিভাবে আবার স্কুলকে জাতীয়করণের তালিকায় আনা যায় সব শিক্ষকদের মধ্যে যখন এই প্রশ্ন তখন শিক্ষক কনফারেন্স হলে প্রধান শিক্ষক বলেন, শাহরাস্তি উপজেলার সংসদ সদস্য মেজর রফিকুল ইসলামকে টাকা দিতে হবে। টাকা দিলে তিনি কাজটি করে দিবেন। প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন ১৫ লাখ টাকা!
ওই মিটিংয়ে প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, এমপি সাহেব টাকা সরাসরি নিবেন না। অন্য নেতাদের মাধ্যমে টাকা দিতে হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিন্টুর সাথে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন এমপি সাহেব ১৫ লাখ টাকায় কাজটি করে দিতে রাজি হয়েছেন। এর চেয়ে একটি টাকাও কমে তিনি রাজি হবেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাকা গ্রহীতা কামরুজ্জামান মিন্টু প্রধান শিক্ষকের আপন ভ্রাতুষ্পুত্র। স্কুলের নাছোরবান্দা শিক্ষকরা প্রত্যেকে প্রধান শিক্ষককে নিজেদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হন।
এ সিদ্ধান্তের পরদিন থেকে শুরু হয় অর্থ সংগ্রহের পালা। প্রধান শিক্ষকের সব অপকর্মের সহযোগী এক সিনিয়র শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-কর্মচারীদের মাথাপিছু ভিন্ন অঙ্কের টাকা ধার্য করেন। সর্বনিম্ন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের জনপ্রতি ধার্য করা হয়। চাঁদা ধার্যের মধ্যেও দেখা দেয় স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য। যেসব শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের অপকর্মের সহযোগী তারা দিয়েছেন পরিমানে স্বল্প অংকের টাকা। অপরদিকে যেসব শিক্ষকদের নতুন এমপিও হয়েছে তাঁদের দিতে হয়েছে মোটা অংকের টাকা।
জানা যায়, সরকারিকরণের কাজে প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের এক বা একাধিক সিনিয়র শিক্ষক যতবারই ঢাকা গিয়েছেন ততবারই ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করে নিয়ে গেছেন। ঢাকা থেকে ফেরার পর টাকাগুলো কিভাবে খরচ হয়েছে তার কোনো হিসাব কাউকে দেয়া হয়নি। কোনো শিক্ষক হিসাব চাইলে প্রধান শিক্ষক বলতেন, আগে সব কাজ শেষ হোক তারপর জানতে পারবেন। এ ঘটনার কিছুদিন পরই মাউশি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এককভাবে শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিদর্শন চিঠি চাওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রচার করেন, এটি কামরুজ্জামান মিন্টুকে দেয়া ১৫ লাখ টাকার কেরামতি!
ঘটনার কিছুদিন পরই উপজেলার পার্শ্ববর্তী স্কুল নিজ মেহার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষে আলী আজগর নামের এক অভিভাবক শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন। এবার রিটের মামলায় জেতার জন্য নতুন করে আবারো অর্থ ব্যয়ের কথা বলে টাকা উত্তোলনের প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রধান শিক্ষক শিক্ষকদের বলেন, উজ্জ্বল নামক এক ব্যারিস্টারের সাথে কথা বলেছেন। তাকে ১২ লাখ টাকা দিলে রিট নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। রিট নিষ্পত্তির জন্যে প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে আদায় করা হয় আরও ৭০ হাজার টাকা করে! প্রধান শিক্ষক শিক্ষকদের জানান, আপনাদের এই টাকাতেও কোন কাজ হবে না। স্কুল ফান্ড থেকে আরও টাকা ব্যয় করতে হবে। কিছুদিন পর স্বাভাবিক নিয়মে হাইকোর্টে আপিলকৃত রিট খারিজ হয়ে যায়। প্রধান শিক্ষক তখনও প্রচার করেন এটিও ব্যারিস্টার উজ্জ্বলের ১২ লাখ টাকার কেরামতি!
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। সরকারিকরণের ব্যয় দেখিয়ে স্কুলের সব শিক্ষক-কর্মচারীর আগস্ট-২০১৭ থেকে ডিসেম্বর-২০১৮ পর্যন্ত বেতন বিল তৈরি করে সবার স্বাক্ষর নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ‘টাকা বুঝিয়া পাইলাম’ বলে সব শিক্ষক স্বাক্ষর প্রদান করলেও দেড় বছরের ৭ লাখ ১০ হাজার ৮শ’ টাকা চলে যায় অদৃশ্য শক্তির পকেটে। শুধু তাই নয়, স্কুলে গত ২ বছরে বিভিন্ন কোম্পানির গাইড বই পাঠ্য করার নামে যে বখশিস আসতো এবং শিক্ষকদের বিশেষ ক্লাস নামধারী কোচিং ক্লাসের সম্মানিও জাতীয়করণের কাজে খরচ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টাকা দিতে হবে বলে তড়িঘড়ি করে একই দিনে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও শিক্ষক সমিতির জমানো টাকা উত্তোলন করে ফেলা হয়। তৎকালীন ব্যাংক স্ট্রেটমেন্ট তার স্পষ্ট প্রমান পাওয়া যায়। বিষয়টি ইতিমধ্যে জানাজানি হলে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র কতিপয় শিক্ষক দফায় দফায় মিটিং করেন। স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষক কর্মচারীকে পৃথকভাবে ডেকে নিয়ে জানানো হয়। অর্থ গ্রহণের কথা যেন স্কুলের বাইরে কেউ জানতে না পারে। না হয় টাকাও হারাবে, স্কুলও সরকারি হবে না। এভাবে বিভিন্ন ধাপে সর্বমোট ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে! যার পুরোটাই ধামাচাপা দিতে মিথ্যা নাটক তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিজে সরকারি প্রতিষ্ঠানে একদিন চাকরি করবে এমন স্বপ্নে বিভোর যে শিক্ষকরা তাঁরা কথা দেন, প্রধান শিক্ষকের কথার বাইরে একটি কথাও বলবেন না। অর্থ যা ব্যয় করেছেন তা অস্বীকার করার প্রতিশ্রুতি নেয়া হয় সবার কাছ থেকে।
সম্প্রতি দুদক থেকে আগত পর্যবেক্ষক টিম স্কুল পরিদর্শন করলে প্রধান শিক্ষকের সাজানো মঞ্চ নাটক অনুযায়ীই চলে সব কার্যক্রম। দুদকের পর্যবেক্ষক টিমের সামনে টাকা দিয়েছেন বলে মুখ খোলেননি একজন শিক্ষকও। যাদেরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেছেন আমি কিছু জানি না। কোন কোন শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করার আগেই বলে দিয়েছেন, আমরা কোন টাকা দেইনি। এ যেন ‘ঠাঁকুর ঘরে কেরে? আমি কলা খাই না’- প্রবাদটির মতই।
এ বিষয়ে স্কুলের একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বলা হলে একেক জন একেক বক্তব্য দেন। স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. আবুল কাশেম ও নাজমা আক্তারের সাথে কথা বলা হলে তারা প্রথমেই বলেন, আমরা কাউকে কোন টাকা দেইনি। এ সবই ষড়যন্ত্র। যখন তাদের অভয় দিয়ে বলা হয় আমরা প্রধান শিক্ষকের পক্ষের লোক। আপনারা কি উনাকে টাকাটা স্বেচ্ছায় দিয়েছেন নাকি উনি আপনাদের কাছ থেকে জোর করে নিয়েছেন? তখনই সিনিয়র শিক্ষিকা নাজমা আক্তার বলেন, না, না জোর করে নিবেন কেন? খরচ যা হয়েছে ওটা আমরা নিজেরা স্বেচ্ছায়ই দিয়েছি। তবে এ নিয়ে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। আমরা সবাই চাই স্কুলটি সরকারি হোক। শিক্ষকদের সাংঘর্ষিক বক্তব্য ঘটনাটিতে আরও ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে। প্রথমে এক বাক্যে জানালেন কোন অর্থ দেননি। কিছুক্ষণ পরই প্রধান শিক্ষকের পক্ষের লোক বলায় একই ব্যক্তি বলে দিলেন, যা দিয়েছি আমরা স্বেচ্ছায়ই দিয়েছি, আমাদের জোর করেননি!
কথা বলা হয় স্কুলের সহকারী শিক্ষক শরাফাত উল্লাহ ও নারায়ণ চন্দ্র দাসের সাথেও। বরাবরের মত তাঁরা দুজনও বলেন, এ সবই ষড়যন্ত্র। পার্শবর্তী একটি প্রতিষ্ঠানের অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা হেড স্যারকে একটি টাকাও দেইনি। ফের যখন প্রশ্ন করা হয়, হেড স্যার কি আপনাদের কাছ থেকে জোর করে টাকা নিয়েছেন নাকি আপনারা স্বেচ্ছায় টাকা দিয়েছেন? তখনই ভিন্ন কথা বলেন সহকারী শিক্ষক শরাফাত উল্লাহ। তিনি হেড স্যারের পক্ষ নিতে গিয়ে বলেন, হেড স্যার কখনোই জোর করে টাকা নেননি। আমরাই স্বেচ্ছায় দিয়েছি। কেন দিয়েছেন তা জানতে চাইলে বলেন, ‘না দিয়ে কোন নিস্তার ছিলো না। কারণ আমাদের যে একটা লক্ষ্য, সে লক্ষ্যে তো পৌঁছতে হবে। কে না চায় তার লাকটাকে (ভাগ্যকে) চেঞ্জ করতে? স্কুল ন্যাশনালাইজেশনের জন্য আমরাই স্যারকে ইন্সপায়ার করেছি। বলেছি, স্যার আপনি যেখানে যা লাগে খরচ করেন।’
যদি শিক্ষকরা কোন অর্থ নাই দিবেন তবে শিক্ষকরা কেন দু’রকমের বক্তব্য দিবেন- তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা নিশ্চই অস্বাভাবিক নয়।
এ বিষয়ে কথা বলা হয় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল খায়েরের সাথে। তিনি বলেন, আমরা ম্যানেজিং কমিটি যা যা ব্যয় করার কথা তা যথা নিয়মেই করেছি। এর বাইরে কোন শিক্ষক যদি কাউকে কোন টাকা-পয়সা দেন বা খরচ করেন সেই বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না।
স্কুল ফান্ড থেকে জাতীয়করণের কাজে কোন অর্থ ব্যয় করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুল যথা নিয়মে সরকারি হয়েছে। আমরা একটি টাকাও কোথাও ফান্ড থেকে ব্যয় করিনি।
পরক্ষণেই কথা বলা হয় ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য মো. শুকুর আলমের সাথে। তিনি বলেন, স্কুলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যে রিট করা হয়েছিলো সে মামলা চালাতে স্কুল ফান্ড থেকে একটা অংকের টাকা ব্যয় করা হয়। যার ভাউচার স্কুলে সংরক্ষিত রয়েছে।
যদি জাতীয়করণে কোন অনিয়ম না-ই থাকবে তবে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সভাপতির দু’রকমের বক্তব্য কেন? – তা নিয়েও রয়েছে গোলক ধাঁ-ধাঁ।
সর্বমোট ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইমাম হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। কোন শিক্ষকের কাছ থেকে কোন টাকা গ্রহণ করা হয়নি। শুধুমাত্র মামলা চালাতে স্কুল ফান্ড থেকে টাকা ব্যয় করা হয়। যাতে ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন রয়েছে।
‘স্কুলের কতিপয় শিক্ষক বলছেন আপনাকে খরচ করার জন্য স্বেচ্ছায় টাকা দিয়েছেন অথচ আপনি বলছেন কোন টাকাই গ্রহণ করেননি তাহলে কার কথা মিথ্যে; আপনার নাকি সহকারী শিক্ষকদের?’ -এমন প্রশ্ন করতেই তিনি মুঠোফোনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে বহুবার পূনঃসংযোগের চেষ্টা করলেও তার ফোনে কল যায়নি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর রফিকুল ইসলামের নামে যার মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কথা বলা হয় সেই কামরুজ্জামান মিন্টুর সাথে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, আমাদের বর্তমান এমপি সাহেব চাননি শাহরাস্তি বহুমুখী স্কুলটি সরকারিকরণ করা হোক। তিনি চেয়েছেন নিজ মেহার মডেল স্কুলটি যেন সরকারি করা হয়। সে লক্ষ্যে তিনি কাজও করেছেন। তাই এমপি সাহেব যেহেতু নিজেই চান না বর্তমান শাহরাস্তি বহুমুখী স্কুলটি সরকারি হোক সেহেতু তাঁর নাম ভাঙ্গিয়ে শাহরাস্তি বহুমুখী স্কুলের জন্য টাকা নেয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। এমপি সাহেবের সাথে কেউ কোন অর্থনৈতিক লেনদেন করেছেন কিনা তা আমার জানা নেই। তবে আমি কোন টাকা হস্তান্তর করিনি।
চাঁদপুর-৫ আসন (হাজীগঞ্জ-শাহারাস্তি উপজেলা) সংসদ সদস্য মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম বলেন, শুধু এ ঘটনা কেন? আমি জীবনে কারও কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেছি তার কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না।
যদি স্থানীয় সাংসদ অর্থ গ্রহণ নাই করেন, যদি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানও কোন অর্থ গ্রহণ না করেন তবে কোথায় গেল বিপুল অংকের এই টাকা? -তা অধিকতর তদন্ত এখন সময়ের দাবি। প্রধান শিক্ষক যদি কোন টাকা না-ই নিয়ে থাকেন তবে কেন শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র বক্তব্য? কি লুকাতে চাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক? এমন অসংখ্য প্রশ্ন এখন শাহরাস্তিবাসীদের মধ্যে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের সচেতন একজন অভিভাবক বলেছেন, অর্থ প্রদানের বিষয়টি কেউ স্বীকার করলে তার চাকরি সরকারি হবে না বলে ভয়ে শিক্ষকদের মুখ বন্ধ করা হয়েছে। তবে অর্থগ্রহণের উল্লেখিত তারিখে প্রধান শিক্ষকের বর্তমান মোবাইল নম্বরের কল লিস্ট যাচাই করলে তার সাথে কোথায় কোথায় কিভাবে অর্থ প্রাচার হয়েছে, এই অর্থ আত্মসাতের সাথে মুখোশধারী কে বা কারা জড়িত তার সবকিছুই বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, স্কুলটি জাতীয়করণ করা হোক এটা আমরাও চাই। তবে জাতীয়করণের নাম করে যদি কোন অবৈধ অর্থ প্রধান শিক্ষক গ্রহণ করে থাকেন তবে সেই দুর্নীতির দায়ে তার যেন যথাযথ বিচার করা হয়।