বৃহস্পতিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

স্থানিয় এমপি’র সাথে প্রতারণা- স্বামীকে মৃত দেখিয়ে সরকারী ঘরের আবেদন….

আপডেটঃ ২:১৩ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৯, ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধি, চাঁদপুর থেকেঃএক নারী স্বামীকে মৃত দেখিয়ে সরকারী ঘর পাওয়ার জন্য স্থানীয় এমপি’র সুপারিশ নিয়ে আবেদন করেছেন।তিনি চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদসদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের সুপারিশ নিয়ে সরকারী ঘর পাওয়ার জন্য আবেদনটি করেন।ঘটনাটি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পৌর ১১নং ওয়ার্ডের ভাটনীখোলা গ্রামের।জানা যায়, ওই গ্রামের মজিদ কবিরাজ বাড়ির আলমাছ মিয়া’র (৬৭) স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৮) গত ২৮/০৮/২০১৯ইং তারিখে স্থানীয় সংসদসদস্য মহোদয়ের সুপারিশ নিয়ে সরকারী ঘর পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করেন।ওই আবেদনে লেখা রয়েছে স্বামীমৃত- আবুল বাসার। মাতা- কুলছুমের নেছা, সাং ভাটনীখোলা, পোস্টঃ টামটা, উপজেলাঃ শাহরাস্তি, জেলাঃ চাঁদপুর। আরও লেখা আছে, ওনার ২টি মেয়ে।

বড়টি বিবাহিত আর ছোটটি অধ্যায়নরত।স্বামী বয়ঃবৃদ্ধ, কোনো কাজকর্ম করতে পারেননা। তাই সংসারে উপার্জনক্ষম কোনো ব্যক্তি নেই। স্বামীর ৪ শতক জায়গা রয়েছে। ওই জায়গায় তিনি ঘরটি তুলতে চান।
এবিষয়ে রহিমা বেগম বলেন, আমি একটি সরকারী ঘর পাওয়ার আশায় আমার প্রথম স্বামীর নাম দিয়েছে। যিনি অনেক পূর্বেই মৃত্য বরণ করেছেন। বর্তমান স্বামী আলমাছ মিয়া। আমার প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর আমি আবারও ভাটনীখোলা মজিদ কবিরাজ বাড়ির আলমাছ মিয়াকে বিয়ে করি। আমার আগের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
রহিমা বেগমের বর্তমান স্বামী আলমাছ মিয়া বলেন, রহিমা আমার স্ত্রী। আমি বয়স্ক ভাতা পাই। আমার ২ ছেলে ২ মেয়ে । বড় ছেলে মিন্টু বিবাহিত, ছোট ছেলে হিরন এখনও বিয়ে করেনি। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। ছেলেরা ক্ষেত-খামারে কাজ করে। তারা অনেক অভাবে আছে। আমি কাজ করতে পারিনা। আমার নিজের কোনো ঘর নেই। ছেলেরা আমার ভাইয়ের ঘরে বসবাস করে। নিজেদের বসবাসের কোনো ঘর না থাকায় আমার স্ত্রী রহিমা বেগম এমপি সাহেবের কাছে একটি ঘর চেয়ে আবেদন করেছে। 
স্থানীয় আওয়ামীলীগ সমর্থকরা বলেন, আলমাছ মিয়া বিএনপির আলমে তৃণমূল দলকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। তিনি তার অবৈধ স্ত্রীকে দিয়ে সরকারী ঘর পাওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদসদস্য মহোদয়ের সাথে প্রতারণা করেছেন। যেখানে ওই বাড়ির মৃত- বশিরউদ্দীনের পুত্র পঙ্গু আবদুস ছালাম সরকারী ঘর পাওয়ার উপযুক্ত সেখানে কি ভাবে, কার মাধ্যমে আলমাছ মিয়ার সাজানো স্ত্রীকে দিয়ে ঘর পাওয়ার আবেদনে এমপি মহোদয়ের সুপারিশ গ্রহন করেন। এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
প্বার্শবর্তি পাটোয়ারী বাড়ির মৃত আবদুল মতিন পাটোয়ারীর পুত্র আবদুর রাজ্জাক পাটোয়ারী বলেন, আলমাছ মিয়া গরীব নন। তার ছেলেদের আর্থিক অবস্থা বর্তমানে অনেক ভালো। আলমাছ মিয়ার বড় ছেলে মিন্টু ক’দিন আগে আমার কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার জমি কিনেছে। 
এলাকাবাসী বলেন, রহিমা বেগম আলমাছ মিয়া অবৈধ স্ত্রী। তাদের বিয়ে হয়নি এমন কি কাবিন নেই। রহিমার মৃত-স্বামীর বাড়ি শোরসাকে, তিনি এখানে কি ভাবে ঘরের আবেদন করেন। এছাড়া আলমাছ মিয়ার ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে। তারা হলেন, মিন্টু- (ওমান প্রবাসী), মিলন- ঢাকায় ব্যবসায়ী, হিরন- দৈনিক শ্রমিক (প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি চলমান), কিরন- চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে কাঁচা মালের ব্যবসায়ী। শাহানারা, জাহানারা, মনি বেগম, মাহমুদা বেগম তারা সবাই বিবাহিত। ২৯ বানের চৌকাঠের চৌচালা একটি টিনের ঘর ও দো-চালা দুটি টিনের ঘর রয়েছে তার। সে একজন প্রতারক, ঠকবাজ ও মিথ্যাবাদী লোক।তারা আরও বলেন, এই বাড়িতে ধনীদের তালিকা করা হলে আলমাছ মিয়া অন্যতম ধনী বলে প্রমানিত হবেন। আর সবচাইতে গরীব এবং অসহায় আবদুস ছালাম। যিনি পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন যাপন করেন। যার ৪টি কন্যা সন্তান অতি দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। সরকারী ঘর পাওয়ার যোগ্যতা থাকলে একমাত্র ছালামেরই আছে। মাননীয় সংসদসদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের বিশেষ নজরদারিতা ও স্থানীয় আওয়ামী নেতা-কর্মিদের সুচারু দেখভালের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যক্তিকে সরকারী ঘর প্রদানের জন্য উদ্বাত্ত আহবান জানান তারা।