বৃহস্পতিবার ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আগামী ১০ -১২ জানুয়ারি প্রথম পর্ব ও ১৭-১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ৫০তম বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচেছ -মাঠ প্রস্তুতির কাজ বেশ জোরেসোরে এগিয়ে চলছে……

আপডেটঃ ১:৫০ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

এস.এম.মনির হোসেন জীবন -:সারা বিশ্ব মুসলিম জাহানের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় মহাসমাবেশ বিশ্ব তাবলিগ জামাতের সব চেয়ে বড় আসর তিন দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ নদীর সুবিশাল তীরে আগামী বছর ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচেছ।

টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে প্রথম পর্বের তিন দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা আগামী ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর একটানা চার দিন বিরতি দিয়ে ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইতজেমা শেষ হবে। মাঝ খানে ১৩ থেকে ১৬ জানুয়ারি একটানা চার দিন বিরতি থাকবে।

প্রথম পর্বের শেষ দিন ১২ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিন ১৯ জানুয়ারি উভয় পর্বে সারা মুসলিম জাহানের সুখ, শান্তি, অগ্রগতি, ভ্রাতিত্বরোধ, ও সারা বিশ্বের সকল মুসলিম জাহানের কল্যাণ কামনা করে ৫০তম বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।বুধবার দুপুরে টঙ্গী বিশ্বইজতেমা মাঠে প্রথম পর্বের সূরায়ে নেজার কর্মী বাংলাদেশী ইজতেমার মুরুব্বি মো: মামুনুর রশীদ আজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, এবারের বিশ্ব ইজতেমাকে সফল ও স্বার্থক করার জন্য ইজতেমা আয়োজক কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ প্রস্তুতির কাজ গত এক মাস যাবত বেশ জোরেসোরে এগিয়ে চলছে। এখন বেশ জোরেসোরে চলছে কাজ। শত শত স্বেচছাসেবী প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাজ করে যাচেছন। তারা এখন মাঠের ভেতরে বাঁশের খুঁটি সারিবদ্ধ ভাবে লাগানো,কাঁচা টয়লেট নির্মাণ, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ,রাস্তা সংস্কার সহ সার্বিক উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এটি ৫০তম বিশ্ব ইজতেমার আসর।বুধবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা মাঠ সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম পর্বে অংশ নেওয়া সূরায়ে নেজার সাথী (কর্মী) সহ শিক্ষক-ছাত্র, পেশাজীবি সহ সাধারণ মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এসে মাঠের নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছেন। সম্পূর্ণ বিনাশ্রমে তারা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাছে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাঁশ এনে বাঁশের খুটি ও কাঁচা টংলেট সহ অন্যান্য কাজ করতে দেখা গেছে।

মাঠে নির্মাণ কাজে অংশ নেওয়া টঙ্গী এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো: শাহ আলম আজ জানান, আমি দীর্ষ প্রায় ২০ বছর ধরে ইজতেমা মাঠে কাজ করে আসছি। এখানে কাজ করতে আমার খুব ভাল লাগে এবং মনে আনন্দ পাই। আমি যত দিন বাঁচবো ততো দিন আল্লাহ’র রাস্তায় ইজতেমা ময়দানে কাজ করে যাবো।

ইজতেমার মুরুব্বি মো: মামুনুর রশীদ বলেন, প্রতিদিন ইজতেমা ময়দানে সূরায়ে নেজার সার্থী সহ শতশত পুরুষ ও যুবকরা দলে দলে বিনা পরিশ্রমে ইজতেমা মাঠে কাজ করে যাচেছন। বিগত ১ মাস ধরে মাঠের ভেতরে বাঁশের খুটি নির্মাণ, কাঁচা টয়লেট নির্মাণ, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, রাস্তা সংস্কার সহ অন্যান্য যাবতীয় মাঠ প্রস্তুতির কাজ বেশ জোরেসোরে চলছে। পাশাপাশি মাঠের উত্তর পশ্চিম কোনে বিদেশী নিবাসে উন্নয়ন কাজও বেশ তড়িতগতিতে চলছে।এদিকে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে (সচিবালয়ে) বিশ্ব ইজতেমা সংক্রান্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাবলীগ জামাতের বিদ্যমান দু’পক্ষ আলাদাভাবে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে সম্মত হওয়ার পর এবারের বিশ^ ইজতেমা আগামী ১০ জানুয়ারী থেকে ১২ জানুয়ারী প্রথম পর্ব জোবায়ের পন্থীরা আলমি শূরার সাথীরা অংশগ্রহণ করবেন।এছাড়া ১৭ জানুয়ারী থেকে ১৯ জানুয়ারী পর্যন্ত মাওলানা সাদ কান্ধলভির ওয়াসেকুল ইসলামের অনুসারীর ইজতেমা পরিচালনা করবেন।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল, মুক্তিযোদ্বা বিষয়ক মন্ত্রী আ,ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মো: জাহিদ আহসান রাসেল, পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাব ডিজি ড. বেনজীর আহমেদ, বিশ্বইজতেমার দু’পক্ষের শীর্ষ মুরুব্বিয়ান সহ আইনশৃংখলাবাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ইজতেমা আয়োজক কমিটি সুত্রে জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর ২০১৯ টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ প্রস্ততি কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। গাজীপুর-২ আসনের (এমপি) ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মো: জাহিদ আহসান রাসেল প্রস্তুতি উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জিএমপি পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন, মুফতি মাসুদুল করিম, ময়দানের জিম্মাদার ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার, মুফতি লেহাজ উদ্দীন, মুফতি কেফায়েত উল্লাহ ও মাওলানা জাকির হোসেন সহ অন্যান্য সংশ্লিস্টরা সাথে ছিলেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মো: জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও সুষ্ঠুভাবে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের সকল প্রস্ততি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিবাদ হানাহানি ইসলাম ধর্মে নেই। গত বারের মতো যাতে এবারও কোন বিশৃঙ্খলা না ঘটে সে দিকে নজর রাখার জন্য দু’পক্ষের মুরুব্বীদের প্রতি তিনি আহবান জানান।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সরকার থেকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গত ১১ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার ইজতেমা মাঠের চতুরদিকে ১৩টি ডিপ টিউবওয়েলে স্থাপন করেছে। মুসল্লীদের সুবিধার্থে মাঠের চতুর দিকে ৩ তলা বিশিষ্ট টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি দুই পক্ষের বিশ্ব ইজতেমা মুরুব্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সংযত মনোভাব এবং সহমর্মিতার মাধ্যমে কোন বিশৃঙ্খলার মধ্যে না গিয়ে ইসলামের দাওয়াত চালিয়ে যাওয়াই হচ্ছে একজন প্রকৃত মুসলমানের কাজ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ভারতের ইসলামি পন্ডিত মাওলানা ইলিয়াস আখতার কান্ধলভি ১৯২০ এর দশকে তাবলিগ জামাত নামের এই সংস্কারবাদী আন্দোলনের সূচনা করেন। ১৯৪১ সালে দিলীøর নিজামউদ্দীন মসজিদের কাছে নূহ মাদ্রাসায় তাবলিগ জামাতের প্রথম ইজতেমা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে রাজধানী ঢাকার কাকরাইল মসজিদ প্রাঙ্গনে বাংলাদেশে প্রথম ইজতেমা শুরু হয় । তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে, ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগাড় ও ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বর্তমান ইজতেমা ময়দানে শুরু হয় এই বার্ষিক ইসলামিক মহাসম্মেলন। যার নাম হয় বিশ্ব ইজতেমা। সরকারি ভাবে ঐতিহ্যবাহী এক সময়কার কহর দরিয়া বর্তমান তুরাগ তীরের ১৬৫ একর জমি স্থায়ীভাবে বিশ্ব ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।