শুক্রবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং ৪ঠা মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

টাঙাইলের ঘাটাইলে ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯’’ বানচাল ও শহীদের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র..

আপডেটঃ ৩:৩১ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধিঃ  চ্যানেল সেভেন –:টাঙাইলের ঘাটাইলে ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ছালাম মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে ১৯৭১ইং সনের ৮ই অক্টোবর টাঙ্গাইল এর ভুয়াপুর যুদ্ধে সিঙ্গুরিয়া নামক জায়গায় হানাদার বাহিনীর সঙ্গে প্রকাশ্যে যুদ্ধে শাহাদাৎ বরন করেন (ইন্নালিল্লাহে……রাজেউন)।

এলাকাবাসী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার নামকে সম্মান প্রদর্শন করে ১৯৭২ইং সনে “শহীদ ছালাম উচ্চ বিদ্যালয়” নামকরণ করে খায়েরপাড়া গ্রামে একটি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে, যাহা শিক্ষা কার্যক্রমে ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৯ইং সালের এ পর্যন্ত সুনামের সাথে নিজ গতিতে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অনুপ্রেরণায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ছালাম এর স্মৃতি ধরে রাখার লক্ষে মরহুম আব্দুল করিমের সহযোগিতায় তৎকালীন ২০০৮ইং সনের জানুয়ারী মাসে “শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশন” নামে একটি সংগঠন করে এর কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হয়। “শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে অত্র ইউনিয়নের দুস্থ, এতিম, বিধবা ও হতদরিদ্রদের মাঝে নিজেস্ব অর্থায়নে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে “শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশন”। এরই ধারাবাহিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সালাম এর ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে গত ৪ঠা নভেম্বর ২০১৯ইং তারিখে এক দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও স্বরণ সভার আয়োজন করা হয়। অত্র মিলাদ মাহফিলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানসহ মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ ছালাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম এলাহী বক্স মিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। স্মরণ সভা অনুষ্ঠানে অত্র স্কুল, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী, ৫ নং আনেহলা ইউনিয়নবাসী, অত্র উনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান, গণ্যমান্য মুরুব্বীয়ান, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ ঘাটাইল এর সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্জ আমানুর রাহমান খান রানা স্বতঃস্পুর্তভাবে অংশ গ্রহন করেন। এসময় আলহাজ্ব আমানুর রাহমান খান রানা শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশনের এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এই বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের কথা সমগ্র ঘাটাইল তথা টাঙ্গাইলের সর্বস্তররের মানুষ এর মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। ভবিষ্যতে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে আয়োজিত যেকোনো অনুষ্ঠানে উনি পাশে থাকবেন এবং সর্বোপরি সহযোগিতা করবেন বলে ঘোষণা করেন। আমানুর রাহমান খান রানা এর উৎসাহমুলক বক্তব্যে উৎসাহিত হয়ে শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। শহীদ সালাম এর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এবং গরীব মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের অর্থনৈতিক সহযোগীতার লক্ষে শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বৃত্তি কার্যক্রম করে শহীদ সালাম উচ্চবিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হয়। শহীদ সালাম উচ্চবিদ্যালয় ও  শহীদ সালামের নাম ধরে রাখতে মোঃ শহিদুল ইসলাম রাজু মুঠোফোনে শহীদ সালাম উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব হারুন আর রশিদ ও  প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদকে জানালে আলোচনা সাপেক্ষে ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” এর নিম্নলিখিত তারিখ নির্ধারণ করা হয়। 

* ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” আবেদনপত্রসংগ্রহেরশেষতারিখ ৩০/১১/২০১৯ ইং

* ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” আবেদনপত্রজমাদানেরশেষতারিখ ১০/১২/২০১৯ ইং

* ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯”পরীক্ষারতারিখ ২০/১২/২০১৯ ইং

এছাড়া ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রধান শিক্ষক মহোদয়কে কমিটি গঠন করে বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য অনুরোধ করা হলে এতে প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ সম্মতি প্রদান করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত বৃত্তি পরীক্ষার আবেদন পত্র এবং সিলেবাস বিনামূল্যে শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অত্র ঘাটাইল উপজেলার সবগুলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদেরকে প্রেরন করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় গত ২১/১১/২০১৯ইং তারিখে প্রধান শিক্ষক মহোদয় শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশনকে জানান যে গ্রামের কতিপয় কিছু যুবক ছেলে আগামী ২০/১২/২০১৯ ইং তারিখে পরীক্ষার সমাপনি নাচ, গান ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তাই শহীদ সালাম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বৃত্তি পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবে না। এজন্য শহীদ সালাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করা হয় যেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে হলেও যাতে বৃত্তি পরীক্ষা নির্ধারিত তারিখে সম্পন্ন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান এই বিষয়ে পরে জানানো হবে। পরবর্তীতে, প্রধান শিক্ষক মহোদয় ২৬/১১/২০১৯ইং তারিখে  ”শহীদ সালাম ফাউন্ডেশনকে” টেলিফোনের মাধ্যমে জানান ফ্রেন্ডস ক্লাব নামক একটি সংগঠন আরো একটি বৃত্তি পরিক্ষার আয়োজন করেছে এবং সেই বৃত্তি পরীক্ষার জন্যেও একই দিন তথা ২০/১২/২০১৯ইং তারিখ ধার্য করা হয়েছে।  তাই প্রধান শিক্ষক ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” বাদ দিয়ে ফ্রেন্ডস ক্লাব এর ঘোষণা করা স্মৃতি বৃত্তি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। যার ফলে ৫নং আনেহলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে অবহিত করে শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি -২০১৯ইং এর কার্যক্রম ২০/১২/২০১৯ইং এর পরিবর্তে আগামী ২৭/১২/২০১৯ ইং নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত ৩০/১১/২০১৯ইং তারিখে শহীদ সালাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ শাহিদুল ইসলাম শয়ং উপস্তিত হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ২৭/১২/২০১৯ইং তারিখে ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” পরীক্ষা পরিচালনার জন্য অনুরোধ করলে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি স্কুলের সভাপতির সাথে আলোচনা করে জানাবেন বলেন ও স্কুলের সভাপতির সাথে সরাসরি কথা বলতে বলেন। টেলিফোনে স্কুলের সভাপতি হারুন অর রশিদ এর সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করলে ফ্রেন্ডস ক্লাব (এখানে উল্লেখ্য ফ্রেন্ডস ক্লাব এর সভাপতি মেহেদি হাসান খোকন স্কুলের সভাপতি হারুন অর রশিদ এর বড় ছেলে) কে ২০/১২/২০১৯ইং তারিখ ফ্রেন্ডস ক্লাব এর স্মৃতি বৃত্তির জন্য ছেরে দিয়ে ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” পরীক্ষা পরবর্তী ২৭/১২/২০১৯ইং তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেন শহীদ সালাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ শাহিদুল ইসলাম। অথচ শহীদ সালাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ০২/১২/২০১৯ ইং তারিখে শহীদ সালাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ শাহিদুল ইসলামকে টেলিফোনে জানান উক্ত গ্রামের ফ্রেন্ডস ক্লাব তাদের স্মৃতি বৃত্তি বাতিল করেছে তাই শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশনের ঘোষণাকৃত  ২৭/১২/২০১৯ ইং তারিখে ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য। কারন হিসাবে তিনি জানান গ্রামের সাধারণ জনগন এই ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯”এর বিপক্ষে। পরবর্তীতে বিষয়টি জনাব আব্দুল কাদের, উপ-সচিব, কৃষি মন্ত্রনালয়ে কর্মরত উনাকে টেলিফোনে জানাই এবং মতামত জানতে চাই কিন্তু সচিব মহোদয় শহীদ সালাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ শাহিদুল ইসলামকে সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক এর সাথে আলোচনা করতে বলেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে যারা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি কারণ তাদের আত্মত্যাগ ও জীবনের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে তাই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক আমরা আরও জানি এইদেশের সরকার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছেন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আজও কতিপয় কিছুসংখ্যক মানুষ এই মুক্তিযোদ্ধাদের এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করছে এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রমূলক কাজে সরাসরি লিপ্ত থাকছে অথবা সহযোগিতা করছে। এদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদান করা উচিত।

যেহেতু, ”শহীদ ছালাম স্মৃতি বৃত্তি–২০১৯” একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ছালাম এর পরিচিতি এবং স্মৃতির উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে যাহার মাধ্যমে কোমলমতি শিশুরা জাতির জনক এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারবে। এমতাবস্থায়  শহীদ ছালাম উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি হারুন অর রশিদ এবং  শহীদ ছালাম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মাদ, খায়েরপাড়া, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল এর বিরুপ আচরণ নিতান্তই রহস্যজনক। ঘাটাইলের দরিদ্র ও অসহায় ছাত্র ছাত্রীরা এই বৃত্তির মাধ্যমে উপকৃত হত।  যে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এ বিদ্যালয়ের নামকরণ তারই নাম ধরে রাখার জন্য শহীদ ছালাম ফাউন্ডেশনের এ বৃত্তির অয়োজনে স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক অনুমতি দিয়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বৃত্তির ফরম, সাজেশন প্রেরণ করার পর এ বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ করা হলে গরীব অসহায় ছাত্র ছাত্রিরাই বঞ্চিত হবে না শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কে লাঞ্চিত করা হবে। যা নিতান্তই লজ্জাজনক। যারা এ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম মুছে ফেলার কাজে লিপ্ত ঘাটাইলবাসী তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানায়।