শুক্রবার ৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

এই দিনে হানাদারমুক্ত হয় ঝালকাঠি’র দু’উপজেলা…

আপডেটঃ ১:৩০ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

খাইরুল ইসলাম-ঝালকাঠি প্রতিনিধি: আজ ৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠি ও নলছিটি হানাদার মুক্ত হয়। একাত্তরের এইদিন শত্রুমুক্ত হয় ঝালকাঠি এ দু’উপজেলা। নলছিটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার তাজুল ইসলাম চৌধুরী দুলাল জানান, ৮ ডিসেম্বর নলছিটি থানার ওসি কাসেম মোল্লাসহ রাজাকার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশের পতাকা হাতে রাইফেল কাঁধে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শহরের শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে জয় বাংলা শ্লোগানে মুখোরিত করে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের তামাক পট্টির খালের পাড় ধরে তালতলা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পথে কুখ্যাত রাজাকার নিজাম উদ্দিনকে পিটিয়ে মেরে ফেলে মুক্তিযোদ্ধা ও শোকাহত গণমানুষ ।
এদিকে৭ ডিসেম্বর রাতে বর্তমান ঝালকাঠি জেলা শহরে কার্ফু জারি করে এক পাকি দোসর। কিন্তু ৮ ডিসেম্বর ভোর হওয়ার আগেই পাক সেনারা ঝালকাঠি শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিকেলে তাদের দোসর স্থানীয় রাজাকাররা তরুণ মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার হাতে আত্মসমর্পণ করে। সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধারা ঝালকাঠি থানা দখল করলে চুরান্তভাবে মুক্ত হয় ঝালকাঠি।
মুক্তিযুদ্ধকালীন ঝালকাঠি মহকুমা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমএ বায়েজীদ জানান, ৭ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানী দোসর জেবালুল ইসলাম জেবেল শহরে কার্ফু জারির মাইকিং করে ‘সকালে যাকে রাস্তায় দেখা যাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে।’ স্থানীয় ওই রাজাকার বিভিন্ন সময় মাইকে পাকিস্তনীদের ঘোষণাপত্র পাঠ করতেন। এদিকে কার্ফু জারি করে স্থানীয় রাজাকারদের নিয়ে বিলা লে অপারেশনের নাম করে ৮ডিসেম্বর ভোর হওয়ার আগেই ঝালকাঠি শহরে থাকা পাকসেনারা নৌযোগে পালিয়ে যায়, জানান যুদ্ধকালীন কমান্ডার এমএ বায়েজীদ।
বিকেলের দিকে শহরের কাঠপট্টি এলাকায় বাসন্ডা নদীতে নৌযোগে স্থানীয় রাজাকাররা ফিরে আসে। এসময় কিশোর মুক্তিযোদ্ধা ( বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষক) আনোয়ার হোসেন পান্নার নেতৃত্বে স্থানীয় যুবক তরুণরা রাজাকারদের আটক করে।
শিক্ষক ও সংগঠক এবং যুদ্ধকালীন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পান্না জানান, বেশকাটি রাইফেলসহ তখন কুখ্যাত বারেক রাজাকারের নেতৃত্বে ৩৬ জন রাজাকার তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। আর বাকের রাজাকারকে তখন তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নির্যাতিত ও শোকাহত সাধারণ মানুষ গণধোলাই দিয়ে মেরে ফেলে।
এদিকে সকাল থেকেই ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষমান মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে শহরে ঢুকতে থাকেন। সন্ধ্যায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ঝালকাঠি থানা অবরুদ্ধ করে। তৎকালীন পুলিশের সিআই শাহ আলম তখন আনুষ্ঠানিক ভাবে সমর্পণ করে। ঝালকাঠির তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেলিম শাহনাজের কাছে ঝালকাঠি থানা পুলিশ অস্ত্রসহ অত্মসমর্পনের করলে চুরান্ত ভাবে মুক্ত হয় এ জেলা। হানাদার মুক্তির খবর শহরবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে গভীর রাত পর্যন্ত আনন্দ উল্লাস আর জয় বাংলার শ্লোগানে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ।