শনিবার ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং ৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশ্বের মধ্যে রোল মডেল ————স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটঃ ৪:২৩ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশ্বের মধ্যে রোল মডেল।

জঙ্গি দমনে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ বিরোধী জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন, জঙ্গিবাদ দমনের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই কাজটি আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সুন্দরভাবে করেছে।

আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কুড়িল বসুন্ধরায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী উগ্রবাদ বিরোধী জাতীয় সম্মেলন ২০১৯-এ সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসিইউ), ইউএসএইড ও জাতিসংঘ (ইউএন) যৌথভাবে এর যৌথ উদ্যোগে দুই দিন ব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সন্তানদের সবসময় ভালো কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে যাতে তারা উগ্রবাদে জড়িয়ে না পড়ে। আমাদের সন্তানরা অদম্য মেধাবী।

নিজের সন্তানদের দিকে সর্বদা খেয়াল রাখার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানদের সবসময় ভালো কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে যাতে তারা উগ্রবাদে জড়িয়ে না পড়ে।

তিনি বলেন, অতীতে টার্গেট করে দেশের নানা প্রান্তে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর দেশ হিসেবে পরিচিত করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে বাছাই করে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ হত্যা করা হয়।

ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। এদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ কখনো জঙ্গিবাদ পছন্দ করেনা। শান্তি প্রিয় এই দেশে জঙ্গি, সন্ত্রাস আসবে এটা কোনো ভাবেই বিশ্বাস করা যায়না। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ হয়েছে, কিন্তু জঙ্গি-সন্ত্রাসের কাহিনী ছিলনা।

বাংলাদেশের জনগণ জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়নি উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করেই টার্গেট কিলিং শুরু হলো। প্রথমে ইতালির নাগরিক, তারপর জাপানি নাগরিককে টার্গেট করা হলো। পরিস্থিতিই হোক না কেন সেখান থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

কোনো মাদরাসা জঙ্গি তৈরি করে না উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কেননা ইসলামে এটার কোনো স্থান নেই। তাছাড়া বিশ্বের কোনো ধর্মেই মানুষ হত্যাকে বিশ্বাস করে না। সমাজকে বুঝতে হবে কেন তাদের সন্তান জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার কারন খুঁজে বের করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আমাদের ছেলে মেয়ে যেন নিঃসঙ্গতা, বিষন্নতা ও একাকীত্বে না ভোগে। তাদের বিভিন্নভাবে যুক্ত করতে হবে। তাহলে তাদেরকে আমরা জঙ্গিবাদের মতো মতবাদ বা চিন্তা-ভাবনা থেকে দূরে রাখতে পারবো।

তিনি বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করবো ইন্টারনেটে কোনো কিছু দেখে সহজে বিশ্বাস না করতে। শুধুমাত্র নিশ্চিত হলেই সেটা বিশ্বাস করা উচিত। নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগাতে হবে আমি বিশ্বাস করবো কি করবো না।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ধারণা ছিল, শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত, অসচ্ছল পরিবারের ছেলেরাই জঙ্গিবাদে ছড়ায়। তবে, এখন আমাদের ধারণা চেঞ্জ হয়েছে। সচ্ছল পরিবার বা উচ্চশিক্ষিত সাধারণ পড়াশানা থেকে আসা ছেলেরাই জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) বলেন, আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তির অবাধ ও সহজলভ্য ব্যবহারের ফলে পথভ্রষ্ট, নীতিভ্রষ্ট ও বিকৃতমনা আদর্শ তথা ভয়ঙ্কর বিপদজনক উগ্রবাদ ও দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করেছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। সেজন্য আজ উগ্রবাদ পরিবার সমাজ রাষ্ট্র ও আ লিক গন্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক রূপ লাভ করেছে।

আইজিপি বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ আজ জঙ্গি দমনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার বিষয় হয়েছে। সেই সাথে বাংলাদেশ কিভাবে জঙ্গিবাদ রুখতে সক্ষম হচ্ছে তা আজ পৃথিবী জানতে চায়। জঙ্গি দমনে পৃথিবী জুড়ে একটি রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করেছে।

আইজিপি আরো বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে বা নিয়ন্ত্রণে এই সাফল্য সহজভাবে আসেনি এর পেছনে রয়েছে অনেকের আত্মোৎসর্গ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ‘জিরো টলারেন্স টু টেরোরিজম’ নীতির কারণে এই সাফল্য এসেছে।

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আর যদি একটি হলি আর্টিজান হতো, আমাদের সকল উন্নয়ন কাজ থমকে যেত। কেননা যারা জঙ্গিবাদ চায়। তারা দেশের উন্নয়ন চায় না।
তিনি আরো বলেন, জঙ্গিবাদ একটা বৈশ্বিক সমস্যা। এটাকে বৈশ্বিকভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। বাংলাদেশে যারা জঙ্গি আছে তাদের ৯০ ভাগই আহলে হাদিস মতবাদি। তাদের এভাবে হবে না, বড় হুজুর দিয়ে বোঝাতে হবে বলে মন্তব্য করেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
উগ্রবাদ বিরোধী দুই দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) ও ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিপিএম(বার) প্রমুখ।
সম্মেলনের সভাপতি ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ মনিরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ মনিরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে আগত অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ দেন। বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করে এখন থেকে একযোগে কাজ করে অধিকতর ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করেন।

জঙ্গি দমনে বিশেষ অবদান রাখা বাংলাদেশ পুলিশের এই চৌকশ কর্মকর্তা আরো বলেন, উগ্রবাদের বীজ সমাজ থেকে নির্মূল করতে পারলেই দেশ থেকে সব ধরনের উগ্রবাদী কর্মকান্ড দমন করা সম্ভব হবে।

সোমবার দুই দিন ব্যাপী জাতীয় সম্মেলন ২০১৯ এর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। এই সম্মেলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ধর্মীয় প্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিদেশী কূটনৈতিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এসময় উপস্থিত ছিলেন।