শুক্রবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং ৪ঠা মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বেদে সম্প্রদায়ের স্থায়ী আবাসন না থাকায় বেদে সম্প্রদায়ের শিশুরা,বেদে সন্তানদের পড়ালেখার তেমন কোন সুযোগ নেই….

আপডেটঃ ২:৫১ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

হাসান মামুন -পিরোজপুর – “জল আর ডাঙাই যাদের নিত্যসঙ্গী” তারা হল বেদে সম্প্রদায়ের ওদের জন্ম, বিয়ে এবং সকলের শেষ ঠিকানা যেখানে ওদেরও শেষ ঠিকানা সেখানে! নিতান্ত দুর্ঘটনা ছাড়া অন্য সকলের চেয়ে ওদের মধ্যে প্রার্থক্য হল মৃত্যুর পরে তাদের নিজ নিজ প্রথা অনুযায়ী বিভিন্ন ভাবে সমাহিত করা হলেও বেদে পরিবার গুলোর জন্ম হয় জীবন চলার পথে পথে কখনও জলে আবার কখনও ডাঙায়, ওদের প্রথা অনুযায়ী বিয়েও হয় তাও জলে-ডাঙায়। এই বেদে সম্প্রদায়ের মাঝেও আবার একটি শ্রেণি হত দরিদ্র। মূলত স্থায়ী আবাসনের অভাবে বেদে সন্তানদের পড়ালেখার তেমন কোন সুযোগ নেই। তাই বেদে বহরের সদস্যরা স্থানী আবাসনের দাবী জানিয়েছেন সরকারের কাছে। স্থায়ী আবাসন হলে দীর্ঘদিনের যাযাবর জীবন থেকে বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক ও স্থায়ী জীবন-যাপনে যুক্ত হতো। তাদের সন্তানরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মত মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হতো।

পিরোজপুর সদর উপজেলার বেকুটিয়া ফেরি ঘাট থেকে দক্ষিনে কচা নদীর ওপর সরেজমিনে বেশ কয়েকদিন ঘুরে কথা হয় বেদেদের কিছু মানুষের সাথে। কেউ কেউ আফসোস করে বলেন সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই!! কথা গুলো যেন অনেকাংশে বলার জন্য বলা। এদিন দুপুরে রদ্দুরের তাপ এড়াতে কোন কাজ না থাকায় এমনিতেই অলস সময় কাটাতে হয়। তাই নদীর তীরে দক্ষিণা হাওয়া খাওয়ার ফাঁকে একদল শিশু কিশোরদের উপস্থিতি দেখা গেল। আচমাই একটু কৌতুহল জাগল। তাই তাদের কাছে গিয়ে দেখা গেল তাস খেলতে। কথা হয় ওখানে থাকা সব চেয়ে বয়স্ক সবুর (১০) এর সাথে। সবুর জানান, আমাদের তো আর স্কুল নেই!! কি করব নৌকায় ভেসে বেড়াই। পরিবরের আয় রোজগার নেই। তাস খেলা বুঝিনা তাই ছবি মিলিয়ে কজনে সময় পার করছি। ওই এলাকায় বহরে আশা প্রায় ২০০ জন মানুষ রয়েছেন। এর পর কথা হয় কয়েক জনের সাথে। তারা জানান আমরাতো আর স্থায়ী না। বছরের শুরু থেকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াই। তাই ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারিনা। আমাদের সরদার আছে। সে চেষ্টা করে যাচ্ছে একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য। আমাদের দাবি সরকার যদি স্থায়ী আবাসনের ব্যাবস্থা করে তা হলে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখা করাতে পারতান। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলেন আমাদের ভোট নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা ভাবত!! আমরা একটি স্থায়ী বসবাস যোগ্য স্থান ও ভোটের নিশ্চয়তা দাবি জানিয়েছি সরকারের কাছে। বেদে স¤প্রদায়ের অভিযোগ রয়েছে, দেশে যখনই কোন নির্বাচনী প্রক্রিয়া আসে তখন প্রায়শই একদল অতিথির মত নিজের পক্ষে লোক ভেড়াতে তাদের কৌশল হিসেবে ব্যাবহার করে।

কিশোরগঞ্জ জেলা লৌহজং থানা হরীয়া গ্রামের বেদে সরদার আব্দুল বারেক এর সাথে কথা হলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও গিয়ে ছিলাম সেখান থেকেও আশ্বাস ছাড়া অন্য কিছু মেলেনি। বর্তমানে কালকিনি, মুলাদী, বাবুগঞ্জ, নলছিটি, ঝালকাঠী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেদে রয়েছে। বর্তমানে এই পেশায় ধস। তাই অনেকে মাছ শিকার, রাজ মিস্ত্রি সহ নান কাজে জড়িয়ে গেলেও স্থানান্তরিত হওয়ায় ছেলে মেয়েদের পড়া লেখা করানোর সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানিয়ে বেদে স¤প্রদায় বলেন, বিভিন্ন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও সেখানে কোন বেদে পরিবার গুলোর লোক একটি শীতবস্ত্র পায়নি বলে অভিযোগ।
বেদে সম্প্রদায়ের আরো বলেন, আমাদের স্থায়ী আবাসনের জন্য দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি! বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কোন্দলের কারনে এটি হয়না। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের বঙ্গবন্ধুর আশ্বাসের ফলে কাজটির প্রক্রিয়া শুরু হলেও অন্যর ক্ষমতায় এসে আগের সরকারে সব কাজ পরিবর্তন করে ফেলে। তাই বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা’র প্রতি আমাদের যোর দাবি যত দ্রুত সময় সম্ভব আমাদের জন্য একটি স্থায়ী আবাসন নির্মানের। অন্তত মরার আগে যদি দেখে যেতে পারতান আমাদের ছেলে মেয়েরাও অন্য ছেলে মেয়েদের মত স্কুলে যেতে পারছে !!

আলাপকালে কিছুটা আফসোসের সাথেও তারা বলেন, সবার উপরে মানুষ সত্য এ কথা ভাবলে এই হতদরিদ্র বেদে সম্প্রদায়ের মাঝেও যারা পাওয়ার যোগ্য তাদের দু একটা শীতবস্ত্র দিলে হয়তবা মানুষের জন্য মানুষ এ কথাটির তাৎপর্যতা পায়।