শুক্রবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং ৪ঠা মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

নগর সেবক জাহাঙ্গীর আলম…

আপডেটঃ ১:৪৯ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

শতাব্দী আলম : গাজীপুর তিন সড়ক এলাকার স্টাইল ক্র্যাফ্ট কারখানার ১২ হাজার শ্রমিক বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে। তিন সড়ক থেকে শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত সড়কে সারবেঁধে কয়েক হাজার শ্রমিক বসা। সড়কের উপর বিদ্যুতের খুটি আড়াআড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা হয়েছে। চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ। আন্দোলনরত শ্রমিকদের একটাই দাবি দুই মাসের বকেয়া বেতন পেলে তবেই কাজে ফিরবে। গত ১১ ডিসেম্বর সকাল থেকে শ্রমিকরা এই অবরোধ করে।
মাইকে যখন একজন শ্রমিক বলে যাচ্ছে বেতন না পাওয়াতে সে চাল কিনতে পারেনি। মুদি দোকানদার বাকীও দিচ্ছে না। অনেকের সন্তানের স্কুলের বেতন দেয়া হয়নি। দুই মাসের ঘর ভাড়া বকি। তারাতো নতুন জামা কেনার টাকা চাচ্ছে না। কোন সাহায্য না। ন্যায্য শ্রমের পাওনা পেলেই খুশি। শ্রমিকদের আকুতি ক্লান্ত পথচারীকেও ব্যথিত করে।
খবর পেয়ে বেলা দেড়টার দিকে ছুটে এলেন গাজীপুর নগর পিতা জাহাঙ্গীর আলম। ক্ষুধার্ত সন্তান যেমন অভিভাককে কাছে পেয়ে নিজের অভাবের কথা বলে! মেয়রকে কাছে পেয়ে শ্রমিকরা যেন স্বস্তি পেলো। তাদের চোখে মুখে আশ^স্তের ঝিলিক। অনেকে করতালি দিয়ে আনন্দও প্রকাশ করে। এক মাসের বেতন মেয়র নিজে পরিশোধের আশ^াস দেন । শ্রমিকরা সড়কের অবরোধ তুলে কাজে যোগদান করেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা আমি প্রত্যক্ষ করি।

মেয়র হিসাবে নগরের সকল কিছুর দেখভাল করা তার দায়িত্ব। তাই বলে কারো ব্যক্তিগত সমস্যা এভাবে কাঁধে নেবার নজির মেলা ভার। তৎক্ষণাত উঁচুতে দাড়িয়ে শ্রমিকরে মাঝে দাড়িয়ে ঘোষণা দিলেন। ‘আমি আপনাদের এক মাসের বেতনের টাকা সাথে এনেছি। এই বেতন নিয়ে কাজে ফিরেন।’ সেখানে দাড়িয়েই মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করে জানালেন বাকি বেতনের টাকা এ মাসের ২৩ তারিখ পরিশোধ করা হবে। শ্রমেকরা আশ^স্ত। সবাই নিরবে কারখানায় প্রবেশ করে।
আমি শ্রমিকদের আবেগকে শ্রদ্ধা জানাই। নগর পিতার আহ্বানে বাধ্য সন্তানের মত আচরন করেছে। আর নগর পিতার ভুমিকা ভাষায় বুঝানো সম্ভব না। বিক্ষুদ্ধ ১২ হাজার শ্রমিক তাকে কাছে পেয়ে মুহুর্তেই শান্ত হলো। মেয়রের অবয়বে, প্রকাশ ভঙিতে, কথায় শ্রমিকদের জন্য দরদ খুব সহজেই বুঝা গেছে। মানুষের জন্য দরদ যখন হৃদয় থেকে অনুভূত হয় সেই মানুষের হৃদয়েও তা প্রভাব ফেলে। মেয়র যখন কথা বলছিলেন শ্রমিকদের প্রশস্তি তাদের চোখেমুখে দেখা গেছে। একজন নগর পিতা হিসাবে না। অর্থমূল্যে পরিশোধ করে লোক দেখানো না। মানুষের সেবা করার তাগিদেই তার এই পদক্ষেপ। তিনি মানবতার জননী শেখ হাসিনার হাতে গড়া মানবিক জাহাঙ্গীর আলম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। তিনি গাজীপুর মহানগরের সেবক একজন জাহাঙ্গীর আলম। জয়বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

শতাব্দী আলম
সাংবাদিক ও সাহিত্যিক ।