বৃহস্পতিবার ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

টঙ্গীতে চাঞ্ছল্যকর দুই সহোদর কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনায় দুই ধর্ষণকারী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ..

আপডেটঃ ৩:১৯ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

এস,এম,মনির হোসেন জীবন -রাজধানীর অদূরে গাজীপুর মহানগরীর শিল্পনগরী টঙ্গীতে চা ল্যকর দুই সহোদর কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনায় দুই ধর্ষণশারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ শরীফ (২২) ও মো: মমিন মিয়া (২৪)।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তি সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা।
র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১) এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) লেফটেন্ট্যান্ট কর্ণেল মোঃ সারওয়ার-বিন-কাশেম আজ বুধবার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব সুত্রে জানা যায়, গত সোমবার ভিকটিম কিশোরী (১৮) ও তার ছোট বোন কিশোরী (১৭)’দ্বয়কে ধৃত আসামী শরীফ ও মমিন এবং পলাতক সহযোগী নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন ও আরাফাত’গন মিলে ধর্ষণের শিকার দুই ভিকটিমকে টঙ্গী বাজার তুরাগ নদীর পাড় থেকে চর-থাপ্পর মেরে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে টঙ্গী ইজতেমা মাঠের নির্জন জায়গায় নিয়ে আসে। আসামীরা প্রথমে জোরপূর্বক ভিকটিমদ্বয়কে দেশীয় চোলাই মদ এবং মদের সাথে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খাওয়ায়। পরবর্তীতে ভিকটিমদ্বয় যখন স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তখন সকল আসামীরা মিলে তাদেরকে উপর্যুপরি জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় ভিকটিমদের চিৎকারে আশেপাশের এলাকার লোকজন জড়ো হলে আসামীরা দুইজন ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

ধৃত ধর্ষণকারী শরীফ র‌্যাবকে জানান, টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ১নং গেইটের পাশে তার একটি মুদির দোকান আছে। সে দীর্ঘ ৮/৯ বৎসর যাবত সেখানে ব্যবসা করে। পলাতক আসামী নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন, আরাফাত এবং ধৃত আসামী মমিন তার বন্ধু। ঘটনার দিন পলাতক আসামী রাসেল তাকে ফোন করে তুরাগ নদীর পাড়ে আসতে বলে। তখন সে তার ফোন পেয়ে তুরাগ নদীর পাড় যায়। পরবর্তীতে তারা ভিকটিমদেরকে চার-থাপ্পর মেরে জোড়পূর্বক ইজতেমা মাঠের নির্জন জায়গায় নিয়ে আসে। তারা ভিকটিমদের টঙ্গী ইজতেমা মাঠে নিয়ে এসে জোরপূর্বক মদ খাইয়ে মাতাল করে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে বলে স্বীকার করে।

অপর ধর্ষনকারী মমিন’কে জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে বলেন, সে দীর্ঘ ৬/৭ বৎসর যাবত আব্দুল্লাহপুর মাছের আড়তে ব্যবসা করে আসছে। তাদের পলাতক আসামী নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন, আরাফাত এবং ধৃত আসামী শরীফ তার বন্ধু। ঘটনার দিন পলাতক আসামী নাঈম ও রাসেল তাকে ফোন দিয়ে তুরাগ নদীর পাড়ে আসতে বলে। সেখানে গিয়ে সে দুইজন মেয়েসহ তার বন্ধুদের দেখতে পায়। পরবর্তীতে তারা ভিকটিমদের জোরপূর্বক ইজতেমা মাঠের নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং মদ খাইয়ে মাতাল করে প্রথমে ভিকটিমদের নিকট থেকে নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা সকলে মিলে দুইজন ভিকটিমকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে স্বীকার করে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং দিবাগত রাত ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন টঙ্গী বাজার এলাকায় কিশোরী (১৮) ও তার ছোট বোন কিশোরী (১৭) তাদের ফুফাতো ভাই মোঃ জয়নাল মিয়া (৩২) এর সাথে দেখা করতে আসে। টঙ্গী বাজার আসার পর ভিকটিমদ্বয় জয়নাল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পেলে তারা তুরাগ নদীর পার্শ্বে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। তখন ভিকটিমদ্বয়কে একা দেখতে পেয়ে বিবাদী ১) মোঃ নাঈম (২২), ২) মোঃ রাসেল, ৩) মোঃ শরীফ সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন তাদের সাথে যাওয়ার জন্য ভিকটিমদের চর-থাপ্পর মারতে থাকে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে বিবাদীরা ভিকটিমদের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তির পিংকী গার্মেন্টস এর পিছনে দক্ষিণ পার্শ্বে ফাকা জায়গায় নিয়ে এসে ভিকটিমদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম (১৮) বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহা মামলা নং-১০ তারিখ ১০/১২/২০১৯ ইং ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১)/৩০।

র‌্যাব-১ সুত্রে জানা যায়, ধৃত ধর্ষনকারী মোঃ শরীফ (২২) এর পিতার নাম মোঃ বাবুল মিয়া, মাতা- মোছাঃ হালিমা বেগম, সাং- হাজীর মাজার বস্তি, থানা- টঙ্গী পশ্চিম, জিএমপি, গাজীপুর ও তার সহযোগী বন্ধু মোঃ মমিন মিয়া (২৪), পিতা- মোঃ নাজিম মিয়া, মাতা- মোছাঃ বেবী আক্তার, সাং- সান্দারপাড়া, থানা- টঙ্গী পশ্চিম, জিএমপি, গাজীপুর। জিঞ্জাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃত দুই ধর্ষনকারীকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।