শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কালীগঞ্জে হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় রোগীর স্বজনরা- ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি -দাবি কর্তৃপক্ষের…

আপডেটঃ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ১৫, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধিঃ গাজীপুর : হাসপাতাল থেকে প্রকৃত চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকা নেওয়ার পথে রোগী মারা যাওয়ায় রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাঙচুর চালিয়ে হাসপাতালের ১০/১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ দাবি করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর বারোটা ৪৩ মিনিটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রোর ভেতরে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত মো. মোবারক হোসেন(৩০) গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বড়নগর গ্রামের মো. মোজাম্মেল হকের ছেলে।

হাসপাতাল থেকে প্রকৃত চিকিৎসা পায়নি তাই স্বজনরা এই হামলা চালিয়েছে বলে নিহতের পরিবারে লোকজন এমন দাবি করেন। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষরা দাবি করেন তারা রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছেন।নিহতের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, বুকের ব্যথা উঠলে মো. মোবারক হোসেন নামে এক যুবককে তার স্বজনরা কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রোর জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন সকাল আটটা পাঁচচল্লিশ মিনিটে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুশফিক-উস সালেহীন ওই রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং তার ইসিজি করান। ইসিজির রিপোর্টের পর তাকে কিছু ঔষধ দেন এবং স্পেশাল কার্ডিওলজিকে দেখানোর পরামর্শ দিয়ে ওই রোগীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এর পর রোগীর স্বজনরা তাকে হাসপাতালে না নিয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বড়নগর বাড়িতে নিয়ে যান। ঘন্টাখানিক পর ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন রোগীকে জরুরি বিভাগের বেডে বসিয়ে গ্যাস স্প্রে দেওয়া হয়। হঠাৎ মোবারক বেড থেকে নিচে পড়ে যায়। তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে যাকে এবং রক্ত বমি করে। চিকিৎসক তাকে দ্রুত গাজীপুর হাসপাতালে নেয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের অনুরোধ করে।

পরে স্বজনরা বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে ঢাকা হাসপাতালে নেয়ার পথে পূবাইল থানার মীরেরবাজার পৌছলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে তালটিয়া এলাকায় করমতলা খ্রিষ্টান হাসপাতালে স্বজনরা নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মোবারক মারা গেছেন বলে স্বজনদের তিনি জানান।

পরে বারোটা ৪৩ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সযোগে লাশ নিয়ে মোবারকের স্বজনরা কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো এসে হাসপাতালের ভেতর ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সেবা নিতে আসা রোগীরা দৌড়িয়ে হাসপাতাল থেকে বের হতে থাকে। রোগীর স্বজনরা ভাঙচুর চালিয়ে হাসপাতালের ১০/১৫ লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ দাবি করেন।

হামলাকারীদের বাঁধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন জরুরি বিভাগের এটেনড্রেস মো.নাইম। জরুরি বিভাগ থেকে (এসএসিএমও) অনিতা রানী দাসের মোবাইল সেট ও টাকাসহ ব্যাগ নিয়ে যায় হামলাকারীরা বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কনফারেন্স রুম, কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক, ওয়াটার ফিল্টার, টয়লেট, চিকিৎসকদের ডিউটি রুমের জানালার কাচ ব্যাপক ভাঙচুর করে। ইসিজি ও আল্ট্রানোগ্রাম রুমে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। জরুরি বিভাগের চেয়ার, টেবিল ও ফুলের টব ভেঙ্গে ফেলে। এদিকে হামলাকারীরা হামলা চালিয়ে ঔষধ বিতরণ কক্ষের ও টিকেট কাউন্টারের কাঁচের জানালা ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়।

ঘটনার খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শিবলী সাদিক, কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত ও কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) কেএম সোহেল রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হামলাকারীদের শনাক্ত করার জন্য হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেন পুলিশ প্রশাসন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ছাদেকুর রহমান আকন্দ হাসপাতালে রোগীর স্বজনরা ও বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, হামলার সময় তিনি হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে একটি মিটিংয়ে ছিলেন। রুম থেকে বের হয়ে দেখেন ১০/১৫ জনের একদল যুবক হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করছে।

ঘটনার পরে তিনি জানতে পারেন, সকালে বুকে ব্যথা নিয়ে বড়নগর গ্রামের মোবারক হোসেন নামে এক রোগী তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুশফিক-উস সালেহীন তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

গাজীপুর হাসপাতালে নেয়ার পথে ওই রোগী মারা যায়। রোগীর স্বজনরা কোনো ধরনের অভিযোগ না করে হাসপাতালে এসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলায় হাসপাতালের প্রায় ১০/১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুশফিক-উস সালেহীন জানায়, সকালে বুকে ব্যথা নিয়ে ওই রোগী হাসপাতালে আসলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। স্পেশাল কাডিওলজিকে দেখানোর পরামর্শ দিয়ে ওই রোগীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বেলা বারোটা পাঁচচল্লিশ মিনিটে রোগীর স্বজনরা কেউ কিছু না বলে হাসপাতালের ভেতর ঢুকে ভাঙচুর চালায়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) কেএম সোহেল রানা জানান, ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে তথ্য উপাত্ত নেয়া হয়েছে। কারা হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে তাদের শনাক্ত করার জন্য সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ছাদেকুর রহমান আকন্দ বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শিবলী সাদিক বলেন, হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। ভাঙচুর চালিয়ে যারা সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।