শুক্রবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

গাজীপুরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সড়ক পরিবহন মটর শ্রমিক ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন

আপডেটঃ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ | মে ০৫, ২০২০

শেখ রাজীব হাসান,বিশেষ প্রতিনিধিঃ গাজীপুরে জাতীয় সড়ক পরিবহন মটর শ্রমিক ফেডারেশনের (রেজি নং-২৭২৩) এর উদ্যেগে মরণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনা মেনে শ্রমিকদের সার্বিক পরিস্থিতি ও দাবীর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৪মে সোমবার বড়বাড়ির কুনিয়া এলাকায় সাত্তার মার্কেটে জাতীয় সড়ক পরিবহন মটর শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর শাখার কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সড়ক পরিবহন মটর শ্রমিক ফেডারেশনের ঢাকা বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল সিকদার সবুজ, কার্যকারী সভাপতি আফজাল হোসেন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদ গোলাম রসুল, দপ্তর সম্পাদক জাহিদুজ্জামান জাহিদ, সহ দপ্তর সম্পাদক আরিফ হোসেন, কার্যকারী সদস্য হারুন- আর রশিদ। আরো উপস্থিত ছিলেন, সদস্য মোঃ সোলেমান, মোঃ সারোয়ার , মিজানুর রহমান, মোঃ ইব্রাহীম, মোঃ রুবেল হোসেন, শেখ রাসেল, মোঃ মিরাজ হোসেন, মোঃ বিল্লাল, মোঃ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সড়ক পরিবহন মটর শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল সিকদার সবুজ লিখিত বক্তব্যে বলেন, শুরুতেই শ্রদ্ধা জানাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে । আমরা আমাদের জাতীয় সড়ক পরিবহন মটর শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শ্রমিক দরদী পল্লী বন্ধু হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সাহেবের বিদেহী আত্মার মাকফিরাত কামনা করছি ।
আমাদের নির্ভীক সাংবাদিক, ডাক্তার ও পুলিশসহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সেই সকল ভাইদের শ্রদ্ধা ও বিদেহী আত্মার মাকফিরাত কামনাসহ তাদের পরিবার পরিজনদের ধোয্য ধারন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করছি।
আমরা শ্রদ্ধা জানাই বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। দেশ স্বাধীনের ৪৯ বছর পার হলেও কোন দেশ প্রধান অসহায় পরিবহন শ্রমীকদের কথা চিন্তা করেনি । বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পরিবহন শ্রমীকদের জন্য ত্রাণ ও নগদ অর্থ দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন । আমরা আমাদের জাতীয় সড়ক পরিবহন মটর শ্রমিক ফেডারেশনের (গভঃ রেজি- ২৭২৩) পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যে সকল শ্রমিক ফেডারেশন ও শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিকদের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে অসহায় সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকৃত ত্রান ও নগদ অর্থ আবেদনকৃত সদস্যদের মাঝে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও লোকাল প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে পৌছে দিলে কৃতজ্ঞ থাকিব।
আপনারা জানেন বর্তমান করোনা ও মহামারি ঠেকাতে সমগ্র বাংলাদেশকে লগডাউন ঘোষনা করায় এবং সমগ্র বাংলাদেশে সিটি পরিবহনসহ আন্তঃজেলা পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সড়ক পরিবহন মটর শ্রমিক ফেডারেশনের এর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তার এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য সাদুবাদ ও মোবারকবাদ জানাই।
আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি দীর্ঘদিন গণপরিবহন বন্ধ থাকায় গণপরিবহনের চাল সুপারভাইজার ও হেলপার দের কর্ম না থাকার কারণে ১০০ জনের মধ্যে ৯৮ জন শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছে আপনারা জানেন গণপরিবহন শ্রমিক দিন আনে দিন খায় এমতাবস্থায় আমরা আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে গাজীপুর জেলায় বসবাসকারী আমাদের সংগঠনের সদস্য কিছু শ্রমিকদেরকে সহযোগিতা করেছি যাহা পরিমাণে খুবই কম
আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আমারা সাধ্যমত চেষ্টা করেছি মাত্র। এই অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকৃত ত্রাণ ও নগদ অর্থ পরিবহন শ্রমিকরা যেন সহজ ভাবে পায় সেই ব্যবস্থার জন্য মিডিয়ার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি ।
কিন্তু বর্তমান লকডাউনের কারণে সমগ্র বাংলাদেশের সড়ক পরিবহনের সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০ লক্ষ শ্রমিক বেকার অসহায় অবস্থায় মধ্যে আছেন । যাদের প্রতিদিন গাড়ি না চললে বেতন বন্ধ। এমন অবস্থায় সারা বিশ্ব যখন লকডাউন অবস্থায় আছে আমাদের নিম্ন আয়ের দেশ দীর্ঘদিন পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। এর সাথে সাথে পরিবহন শ্রমিকরাও চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে ।
আমরা আমাদের নিজস্ব কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে সামান্য কিছু সহযোগিতা করতে চেষ্টা করেছি । দীর্ঘদিন গাড়ি বন্ধ থাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যে ঘোষণা দিয়েছেন ত্রাণ অথবা নগদ অর্থ পরিবহন শ্রমিকদের দিবেন। আমরা সেই মোতাবেক আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছি। সরকারের সাথে আঁতাত করে দীর্ঘ ২৭ বছর পরিবহন শ্রমিক টাকা নেয়।
ঐ সকল অসাধু নেতারা আমাদের মিডিয়ায় বলেছেন শ্রমিক কল্যানের কোন অর্থ তাদের তহবিলে নেই। আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে চাই – ১৯৯৩ ইং সাল থেকে এই সংগঠন সারাদেশে ১০ থেকে ১২ লক্ষ বাস, মিনি বাস, ট্রাক, কভার ভ্যান, হালকা যান এবং সিএনজিসহ সকল প্রকার যানবাহনের শ্রমিক সংগঠনের নামে শ্রমিক কল্যানের টাকা আদায় করেছেন। সেই সকল নেতাদের বক্তব্য মতে সারা বাংলাদেশের পরিবহন শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে গত ২৭ বছর ধরে যারাছিনিমিনি খেলেছেন আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুদকে মাধ্যমে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজীর অর্থ তদন্ত করে পরিবহন শ্রমিকদের কল্যানের টাকা আত্যসাৎকারীদের সুষ্ঠ বিচারের দাবী জানাচ্ছি ও বর্তমান সকল পরিবহন শ্রমীকদের দাবী শ্রমিক চাঁদা ও মালিক সমিতিসহ সকল প্রকার চাদার নামে যে ন্রৈাজ্য পরিবহন সেক্টরে করেছেন ভবিষ্যতে প্রত্যেকটি বাস টার্মিনালে সকল প্রকার চাঁদা মুক্ত রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি।