বৃহস্পতিবার ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ভাইরাস সংক্রমিত সর্দিজ্বর,কাশি,গলা ব্যাথায় মশলা দ্রবাগুনে ভেষজ ক্বাথ! ———হাকীম এম.জি.ছরওয়ার———-

আপডেটঃ ১:১০ পূর্বাহ্ণ | মে ০৭, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  (চ্যানেল সেভেন বিডি ডটকম):-

বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে   আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যেন দেশ মৃত্যুর মিছিলে ধাবিত হচ্ছে! আক্রান্ত হয়ে মৃত্যের সংখ্যাও ক্রমান্বনয়ে বাড়ছে। পুরো বিশ্বের সঙ্গে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে আমাদের বাংলাদেশও। দেশে ইতোমধ্যে এই করোনা ভাইরাস রোগে মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত ১৮২ জনের। এতে দেশে করোনা ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ হাজার ১৪৩ জনে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান, অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। সোমবার (৪ মে ২০২০ইং) পর্যন্ত। সাম্প্রতিক একটি মেডিকেল জার্নালে তিনটি লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যেখান থেকে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার দেহে COVID-19 এর সংক্রমণ শুরু হয়েছে কিনা! প্রথমত, আপনার দেহে করোনা ভাইরাসের থাবা বসালে প্রথম পাঁচদিন আপনার কাশির সঙ্গে শুকনো কফ থাকবে। দ্বিতীয়ত, হঠাৎ করেই খুব জ্বর আসবে। সেই জ্বর চট করে নামতে চাইবে না। তৃতীয়ত, জ্বরের সঙ্গে শুরু হবে শ্বাসকষ্ট। সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে ফুসফুসে। ফুসফুস ফুলে ওঠা থেকে নানারকম সমস্যা দেখা দেবে শরীরে। সেই সঙ্গে সারা শরীরে ব্যথা এবং সর্দি, কাশি থাকবে। যে কোন সক্রমিত ভাইরাস মুক্তির অব্যর্থ দাওয়াই হলো মশলা দ্রবাগুনে ভেষজ ক্বাথ। যে সে ভেষজ ক্বাথ নয়, নির্দিষ্ট মশলা ও ভেষজ উপকরণ হারে মিশিয়ে তবেই তা তৈরি করতে হবে। দিনে চার থেকে পাঁচবার এক কাপ করে খেলেই সংক্রমিত ভাইরাস  উধাও। চারপাশে এই ভয়াবহ সংক্রামক পরিস্থিতিতে এমনই আশার বাণী শুনিয়েছেন ইউনানী-আর্য়ুবেদিক শাস্ত্রীয় গুরুজনগণ। তবেই মশলা দ্রবাগুনে এই ভেষজ ক্বাথ পানের মাধ্যমেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। দেখে নেওয়া যাক, বর্তমানের করোনা ভাইরাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যুদ্ধ করতে পারে কী এমন সেই মশলা দ্রবাগুনে ভেষজ ক্বাথ? উপকরণ বলতে তুলসী, দারুচিনি, আদা, গোলমরিচ, লবঙ্গ, এলাচ, লেবু ও জৈন ইত্যাদি। এই সব মশলা দ্রব্যময় ভেষজ উপকরণকে নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে তৈরি হবে মশলা দ্রবাগুনে ভেষজ ক্বাথ। এরপর এক কাপ কুসুম-কুসুম গরম পানিতে সেবন করতে হবে। তবে হ্যাঁ, চিনি দেওয়া চলবে না একেবারেই। ইউনানী-আর্য়ুবেদিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতে, যদি এই ভেষজ ক্বাথ খেতে খুব তিক্ততা অনুভূতি লাগে, তাহলে বড়জোড় সামান্য গুড় মিশিয়ে খেতে হবে। তাতেই চাঙ্গা হবে শরীর, মনও। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে এই মশলা দ্রবাগুনে ভেষজ ক্বাথ পানীয়।  সুস্বাস্থ্যের জন্য ওষুধের পাশাপাশি অনেক ঘরোয়া পদ্ধতির প্রচলন হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। আর এমনই একটি ঘরোয়া পদ্ধতি হলো এই মশলা দ্রবাগুনে ভেষজ ক্বাথ পানীয়। এই পদ্ধটিই প্রাচীন জার্মান, চিন, মিশর, ভারতবর্ষ জুড়ে ঘরোয়া পদ্ধতে ঠাণ্ডা, সংক্রমণ, অ্যাথারোসক্লেরোসিসের সমস্যা কমাতে উপকারী হিসেবে গ্রহন করে আসছেন।এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে বটে লিভার ও কিডনী পরিষ্কার রাখে। মশলা দ্রবাদী ভেষজ ক্বাথ এর উপাদান বা প্রস্তুতপ্রণালী সব সময় এক রকম নয় বা নির্দিষ্ট নয়। বিভিন্ন স্থানে বা পরিবারে এই ভেষজ ক্বাথ এর প্রস্তুত প্রণালীর ভিন্নতা রয়েছে। মশলা দ্রবাদী ভেষজ ক্বাথে থাকে সাধারনত তুলসী, আদা, লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি, লেবু, জ়ৈন যা ভেষজ গুনাবলী সমৃদ্ধ। এসব মশলা দ্রবাগুনে রয়েছে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কেরোটিন ও জরুরী মিনারেল যা স্বাস্থ্যের জন্য বয়ে আনে বাড়তি সুফল। ইউনানী-আয়ুর্বেদিক তত্ত্ব অনুযায়ী, মশলা দ্রবাদী ভেষজ ক্বাথে ব্যবহৃত উপাদান সমূহ শরীরকে সতেজ ও প্রানবন্ত করে এবং মনকে রাখে প্রফুল্ল। মশলা দ্রবাদী ভেষজ ক্বাথ ব্যবহারের ফলে এরা পরিপাকে সাহায্য করে। মৌসুমি সর্দিজ্বরে ও কাশি প্রতিরোধেও এই ভেষজ ক্বাথ অত্যন্ত চমৎকার কাজ করে। মশলা দ্রবাদী ভেষজ ক্বাথে একই সঙ্গে হরেক রকম মশলা ও ভেষজ উপস্থিতি হতে পারে আপনার নানাবিধ সমস্যার সমাধান। মশলা দ্রবাদী ভেষজ ক্বাথ গরম বা ঠান্ডা অবস্থায় পান করা যেতে পারে। তবে গরম অবস্থায় পান করাই উত্তম। সুস্বাস্থ্যকর এই মশলা দ্রবাদী ভেষজ ক্বাথ তৈরি করা বেশ সহজ। এছাড়াও এ ভেষজ ক্বাথ পানীয় শরীরের অবসন্ন ভাব ও কোলেস্টেরলের সমস্যা সমাধানেও কার্যকর। আসুন জেনে নেই অল্প সময়ে কিভাবে মশলা দ্রবাগুন দিয়ে ভেষজ ক্বাথ তৈরি করা যায়।উপকরণ গুলি: ১) তুলসী, ২) লেবু খোসা সহ, ৩) দারুচিনি, ৪) লবঙ্গ, ৫) গোলমরিচ, ৬) এলাচ, ৭) আদা, ৮) জৈন, ৯) বিট লবন, ১০) পানি। যে ভাবে তৈরি করবেন: লেবু কেটে নিন। এবার আদার খোসা ছাড়িয়ে নিন। আদা টুকরো করে কাটুন। এরপর একটি পাত্রে পানি নিয়ে তুলসী, লবঙ্গ, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, জৈন, লেবু, বিট লবন ও আদার টুকরোগুলো দিয়ে সিদ্ধ করুন। সিদ্ধ হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ক্বাথ গুলি একটি জগের মধ্যে নিন। লেবু, আদা সহ সব উপাদান গুলি ছেঁকে আলাদা করে রাখুন। এবার পানীয়টি ঠাণ্ডা হয়ে এলে কিংবা কুসুম-কুসুম গরম পান করুন। কি ভাবছেন? এই উপকরণ জোগাড় করে, নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে তৈরি করে খাওয়াটা বড্ড ঝক্কির? সেই কারনেই ভারতীয় আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা এই মশলা দ্রবাদী গুনে ভেষজ ক্বাথকে বাজারজাত করার পরামর্শ দিয়েছেন আয়ুর্বেদ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গুলিকে। বলা হয়েছে, টি ব্যাগের মত তৈরি করুন। খুব সহজেই যে কেউ ওই ব্যাগটি গরম পানিতে ডুবিয়ে নিজের পছন্দমতো লিকার বানিয়ে খেতে পারবেন। তাছাড়া এই তুলসী, দারুচিনি, শুকনো আদা, লবঙ্গ, এলাচ, জৈন এবং গোলমরিচ দিয়ে বেটে ট্যাবলেটও তৈরি করা যেতে পারে। তাও জনগণের পক্ষে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। তবে শুধু এই মশলা দ্রবাদী ভেষজ ক্বাথটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে যে কোন আবহের মাঝে মধ্যে উষ্ণ পানি খেতে হবে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে যে কোনও সংক্রমণের সঙ্গে যুঝতে পারবে শরীর। তাঁদের পরামর্শ মেনে যদি আমাদের দেশে ইউনানী-আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠান গুলো তুলসী, দারুচিনি, শুকনো আদা, লবঙ্গ, এলাচ, জৈন ও গোলমরিচের টি ব্যাগ তৈরি করে বিপুল পরিমানে বাজারজাত করতে পারে, তাহলে সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতিতে তা বেশ কার্যকরী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও ফুসফুসকে ভাল রাখার জন্য বাসায় বা বাসার বারান্দায় বসে মুক্ত বাতাসে শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যয়াম করুন কমপক্ষে দৈনিক দু’বার। নাক দিয়ে লম্বা নিশ্বাস গ্রহন করুন যতোবেশী নিতে পারেন নিন তারপর যতোক্ষন আটকিয়ে রাখতে পারেন রাখুন। তারপর মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে দম ছাড়ুন। এভাবে কয়েক বার করুন এবং আদা কেটে সামান্য লবন দিয়ে প্লেটে রাখুন। একটু পরপর মুখে দিন। গরম দুধ, গরম চা, কফি গ্রিন টি ঘন্টা খানিক পর পর পান করুন। কোনভাবেই গলা শুষ্ক রাখা যাবেনা। কিছুক্ষন পরপর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। কাশির সময় অবশ্যই রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন। অসুস্থ ব্যক্তি বা বয়স্ক, শিশুদের এড়িয়ে চলুন। এই সময়ে সর্দি-কাশি হলে যা করবেন বাইরে থেকে বাড়ি গিয়ে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করবেন।সারাদিন হালকা গরম পানি খান। গলায় ব্যথা বা সর্দি-কাশির সম্ভাবনা দেখা দিলে তো এই রুটিন চালু করতেই হবে। সেই সঙ্গে জোর দিন ভিটামিন সি খাওয়ার উপরেও। লেবু, আমলকী, পেয়ারায় প্রচুর ভিটামিন সি মিলবে। তবে হ্যাঁ আপনার ‘কি রোগ হলো’ আপনি বাঁচবেন কি বাঁচবেন না ভুলেও এসব চিন্তা-ভাবনা মাথায় প্রশ্রয় দিবেন না। মনে রাখবেন মানুষের মনবলই হচ্ছে আসল কথা। বনের বাঘে খায়না মানুষকে মনের বাঘে খায়! তবেই মনবল হারালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এটা সত্য, তাই মনবল চাঙ্গা রাখার জন্যে আপনার যা ভালো লাগে তাই করবেন।উপরোক্ত পদ্ধতিতে আপনি ৬থেকে ৭দিন চিকিৎসা নিলে এটা পরীক্ষিত সত্য যে দ্বিতীয় সপ্তাহ দিনের দিন আপনার ভাইরাস সংক্রমিত সমস্যা গুলি অনেকটাই সমাধান হয়ে আসবে। অপর দিকে তাজা শাক-সবজি, ফল, বাদাম রাখুন খাদ্যতালিকায়। যদি সর্দিজ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা হয় তা হলে বাড়িতে থাকুন। বিশ্রাম নিন। যে কোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধেই শরীর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে দ্রুতই। ততদিন অপেক্ষা করতে হবে। হাঁচি, কাশির সময় নাক, মুখ ঢেকে রাখুন যাতে ভাইরাস না ছড়ায়। সেই সঙ্গে বারবার হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহার করে হাত পরিষ্কার  করবেন। মুখে বা নাকে হাত দেওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা অবশ্যই পরিহার করতে হবে। যারা অসুস্থ রোগীর সেবার কাজে নিয়জিত, তারাও একটু দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন। লেখকঃ তরুন ইউনানী চিকিৎসক, হাকীম এম.জি.ছরওয়ার ডিপ্লোমা ইন ইউনানী মেডিসিন এন্ড সার্জারী 
ডি.ইউ.এম.এস; কিউ.এইচ.সি.এ-(ঢাকা)
ইউনান তিব্বিয়া কলেজ-ফেনী
কার্যনির্বাহী সদস্য: বাংলাদেশ ইউনানী মেডিকেল এসোসিয়েশন, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা। ই-মেইল: mgsarwor5@gmail.com