রবিবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

তুরাগে করোনা সংকটে অসহায়দের পাশে- মানবিক ওসি তদন্ত সফিউল্লাহ

আপডেটঃ ৮:১২ অপরাহ্ণ | মে ০৮, ২০২০

মোঃ ইলিয়াছ মোল্লাঃ- গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় । এরপর থেকে করোনা প্রতিরোধে মাঠে কাজ শুরু করে তুরাগ থানা পুলিশ । পরবর্তীতে তুরাগ থানা এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হলে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন মধ্য আয়ের শ্রমজীবী মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ায় ডি এম পির তুরাগ থানার ইন্সপেক্টর ( তদন্ত ) মোহাম্মদ সফিউল্লাহ । তিনি সহ তুরাগ থানার সকল সদস্যগন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি খাদ্য সহয়তা কার্যক্রম শুরু করেন । বর্তমানে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে । এমনকি পুলিশের এই কর্মকর্তা তার থানা এলাকার অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিজ হাতে বহন করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন । ইন্সপেক্টর ( তদন্ত ) জনাব মোহাম্মদ সফিউল্লাহ চাকুরী জীবনের শুরু থেকেই তার বেতনের একটি অংশ গরীব অসহায়দের কল্যাণে ব্যয় করে আসছেন । শুক্রবার ( ৮ই মে ), তার মে মাসের উত্তোলনকৃত ৪সদস্যর রেশনের চাল, ডাল, তেল, চিনি সহ সমস্ত মালামাল যারা লজ্জায় মানুষের কাছে ত্রাণ নিতে যায়না এমন কয়েকটি নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে বিলিয়ে দেন । অতীতে এমন মানবিক পুলিশ অফিসার দেখেননি তুরাগের মানুষ । জনাব মোহাম্মদ সফিউল্লাহ বলেন, চীনের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাস এখন সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে । এ থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশও । ইতিমধ্যে আক্রান্ত দেশগুলোর করোনাভাইরাস মোকাবেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে । করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জরুরি পরিসেবা ব্যতীত সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে । সকল ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখার পাশাপাশি মানুষের উন্মুক্ত চলাফেরার উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে । এরই প্রেক্ষিতে কার্যত জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে । পুলিশের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের নির্দেশনায় মানুষের মাঝে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, হোম কোয়েরেন্টাইন নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানোর মত কাজগুলোও করতে হচ্ছে পুলিশকে । আর করোনাভাইরাস ঠেকাতে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে তুরাগ থানা পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে । এর বাইরে মানুষের মাঝে সবচেয়ে তাক লাগানো বিষয় হচ্ছে পুলিশ কিছু মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার বিষয়টি । তুরাগে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর থেকে এর প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে তুরাগ থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন । এরই ধারাবাহিকতায় এলাকার জনসাধারণ বা জনগণকে করোনা সতর্কতা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সর্বোচ্চ প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছি আমরা তুরাগ থানা পুলিশ । এলাকার প্রতিটি অলিতে গলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে । এলাকবাসির উদ্দেশে জনাব মোহাম্মদ সফিউল্লাহ আরও বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসের বিষয়টি একটি আতঙ্কের বিষয় । অনেকেই না বুঝে আপনাকে সাহায্য নাও করতে পারে । রোগব্যাধি আল্লাহ দেয়, আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন এবং সকলেই সচেতন হন । মনের জোর রাখেন, মনের শক্তি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাডিয়ে দেয়। পরিচ্ছন্ন থাকুন, নিজেকে কিছুদিন সীমাবদ্ধ রাখুন, ইনশাল্লাহ ভাইরাস আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা ।