বুধবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

চাঁদপুরে স্কুলের ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ-সচেতন মহলের বিক্ষোভ…

আপডেটঃ ৭:১৮ অপরাহ্ণ | মে ২২, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টারঃ চাঁদপুর সদরের কল্যাণপুর ইউনিয়নের দাসাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সচেতন মহল বিক্ষোভ করেছে। ২১মে বৃহস্পতিবার এই বিক্ষোভে ফেঁটে পড়েন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীরা জানায়,ঠিকাদার কাজের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম করেছে। নিম্নমানের ইট ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে রাতের আঁধারে দ্রুত কাজটি করে চলেছে। ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত না থেকে ঠিকাদারের লোকজন কাজ করার কারণে এলাকাবাসী বাধা দেয়। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় যে কোন সময়ে এই ভবনটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সচেতনমহলের বিক্ষোভকারীরা আরো জানায়, দাসাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ তলা ভবনটি ফেসেলিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দে গোধূলি এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। পরবর্তীতে ঠিকাদার তপন কুমার সেই কাজটি স্থানীয় ঠিকাদার শাহাদাৎ ও শাহেদ এর কাছে এই ভবনের কাজটি বিক্রি করে ফেলে। আর এরপর থেকেই এই কাজের শুরুতে নিম্নমানের ইট ও নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করলে বেশ কয়েকবার বাঁধার সম্মুখীন হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ভবনের চতুর্থ তলার ছাদের ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। এ সময় দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান উপস্থিত না থেকে কাজ শুরু করায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে কাজটি বন্ধ করে দেয়।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারী ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজ করার জবাব চাইলে তার সাথে ঠিকাদারদের হট্টগোল শুরু হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করলে পরবর্তীতে ঠিকাদার শাহেদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ব্যাপারে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে এনে কল্যাণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারী জানান,আমি এই স্কুল কমিটির সভাপতি। তাই সচেতনমহলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই স্কুল অনিয়মের বিষয়ে তদারকি করতে গেলে ঠিকাদারদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। ঠিকাদার তাদের মনগড়া ভাবে এই ভবনের কাজ করে যাচ্ছে । কাজ করার সময় ইঞ্জিনিয়ারকে একবারও দেখা যায়নি।দুর্যোগ ও করোনা কালীন সময়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দ্রুত গতিতে কাজটি করায় এলাকাবাসী বাঁধা দেয়। কেননা করোনা ও দুর্যোগ কালীন সময়ে চাঁদপুরে সকল সরকারি ও বেসরকারি সকল কর্মযজ্ঞ বন্ধ করেছে সরকার। আর তারা এই মহামারী করোনা ভাইরাস ও দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই চাঁদপুর দাসাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে। আর বিষয়টি জানাজানি হয়ে স্থানীয় সচেতনমহলের দৃষ্টিগোচর হলে ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগে সচেতন এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। 
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের চাঁদপুরের প্রকৌশলী ফাহিম ইকবাল জানায়, দুর্যোগ ও করোণা কালীন সময়ে কাজ করার কোন বিধান নেই। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ের ঢালাইয়ের কাজ করেছে। অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ হয়েছে শুনেছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 
অভিযুক্ত ঠিকাদার শাহাদাৎ জানায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে ইঞ্জিনিয়ার কে অবহিত করা হয়নি। এটাই আমাদের বড় ভুল ছিলো। পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারের সাথে যোগাযোগ করে কাজ শুরু করব। আর নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। যদি হয়ে থাকে তাহলে ডিপার্টমেন্ট তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবে।