বৃহস্পতিবার ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আন্তর্জাতিক রুটে উড়ছে যাত্রীবাহী বিমান….

আপডেটঃ ২:৫৬ অপরাহ্ণ | জুন ১৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক -: চ্যানেল সেভেন -: টানা ৮৬ দিন বন্ধের পর আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে গত মঙ্গলবার শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রা। শিগগিরি শুরু হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস, এয়ার অ্যারাবিয়া, ফ্লাই দুবাই এবং তুরস্কের তার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলাচলও। এ বিষেয়ে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় লন্ডন ফ্লাইট চালু হবে আগামী ২১ জুন থেকে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম থেকেই চীনের সঙ্গে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সেইসঙ্গে চালু রয়েছে চাটার্ড ফ্লাইটও।
এদিকে, আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালুর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী গোটা বিমানবন্দরকে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। বোর্ডিং ব্রিজসহ বিভিন্নস্থানে যাত্রীদের বসার চেয়ারগুলোতে স্টিকার লাগানো হয়েছে। ওয়েটিং থেকে শুরু করে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত এক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে দেশের আকাশপথ অবমুক্তের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর আকাশপথে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালুর প্রথম দিনে গতকাল ২৭৪ জন যাত্রী নিয়ে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট দেশটির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে বলে জানা গেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জানান, সকালে কাতার এয়ারওয়েজের কিআর-৬৩৯ নম্বর ফ্লাইটটি ২৭৪ যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়েছে। এর আগে এই ফ্লাইটটি সোমবার রাতে ৩৩ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসে। এই একই ফ্লাইট মঙ্গলবার রাতে আবার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসবে। আবার যাত্রী নিয়ে কাতার যাবে। আর ফ্লাইট ছাড়ার আগে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন বেবিচকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি রাখছি না। সবকিছু মেনেই আমরা ফ্লাইট পরিচালনা করছি। বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে আমরা কাতারের বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছি। এছাড়া চীন-যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলো ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। তাই সেসব দেশে আমরা ফ্লাইট চালু করতে পারছি না। তবে কাতার এয়ার ওয়েজকে যাত্রী বহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা ইউরোপসহ যেসব গন্তব্যে বাংলাদেশিদের প্রবেশে বাধা নেই, সেসব দেশে তাদের নিয়ে যাবে। বিমানবাহিনীর বঙ্গবন্ধু ঘাঁটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্কোয়াড লিডার সঞ্জিব সাহা বলেন, আমরা বিশ সদস্যের একটা টিম এসেছি বিমান বন্দরে। আমাদের সঙ্গে জীবাণুনাশক গাড়ি নিয়ে এসেছি। আমরা দফায় দফায় জীবাণুনাশক স্পে করছি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিত-উল আহসান বলেন, বিদেশি যাত্রীদের ক্ষেত্রে কোভিড ১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট ছাড়া তারা ভিসা পাবেন না। আমাদের বাংলাদেশিদের জন্য তাদের বাংলাদেশে ঢুকতে গেলেও তাদের করোনা সার্টিফিকেট লাগবে।
এদিকে, বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট চালু করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) চিঠি দিয়েছে বিদেশি চার এয়ারলাইন্স। এগুলো হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস, এয়ার অ্যারাবিয়া, ফ্লাই দুবাই এবং তুরস্কের তার্কিশ এয়ারলাইন্স। বেবিচক সূত্র জানায়, চিঠিতে তারা বাংলাদেশ থেকে যাত্রী নিয়ে স্ব স্ব দেশে ফ্লাইট চালাতে দেয়ার অনুমতি চেয়েছে। চার এয়ারলাইন্সের মধ্যে তার্কিশ এয়ারলাইন্স ১ জুলাই থেকে এবং বাকিরা অনুমতি পেলেই ফ্লাইট চালু করবে বলে আগ্রহ দেখিয়েছে। এয়ার অ্যারাবিয়া ঢাকা থেকে সরাসরি শারজাহ; ফ্লাই দুবাই ও এমিরেটস দুবাইয়ে এবং তার্কিশ এয়ারওয়েজ তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ফ্লাইট পরিচালনা করে। তুরস্ক ছাড়া অন্য রুটগুলোতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও ফ্লাইট পরিচালনা করে।
চার এয়ারলাইন্সের চিঠি পাওয়া প্রসঙ্গে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, তারা আমাদের কাছে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। তবে আমরা স্ব স্ব দেশের সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা তাদের বলেছি, যদি তাদের ফ্লাইট আমাদের দেশে আসে এবং তাহলে আমাদের দেশের এয়ারলাইন্সকেও সেদেশে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। আশা করছি তারা এই অনুমতি দেবে। সেক্ষেত্রে কবে নাগাদ বাকি এয়ারলাইন্সগুলো অনুমতি পেতে পারে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মাত্রই (১৬ জুন থেকে) কাতার এয়ারওয়েজকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছি। এক সপ্তাহ এ ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণ করবো। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে।
এ বিষয়ে তার্কিশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের সেলস অ্যান্ড ট্রাফিক অফিসার এজাজ কাদরি বলেন, গত ১২ জুন থেকে তুরস্কে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সিভিল এভিয়েশন। এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত তার্কিশ দূতাবাসও সেদেশে ভ্রমণের বিষয়টি উৎসাহিত করছে। তাই আমরা ১ জুলাই থেকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছি। যদি সব পরিস্থিতি অনুক‚লে থাকে তাহলে অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে তার্কিশ এয়ারলাইন্স।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২১ মার্চ থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বেবিচক। দীর্ঘ ৬৯ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে অভ্যন্তরীণ আকাশপথে চলছে যাত্রীবাহী বিমান। অভ্যন্তরীণ আকাশপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর ও সৈয়দপুর রুটে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়া হলেও এখনো দেয়া হয়নি কক্সবাজার, বরিশাল, রাজশাহী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এই তিনটি বিমানবন্দর স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী এখনো প্রস্তুত হয়নি। তারা লোকাল সাপোর্ট নিশ্চিত করতে পারলেই সেখানে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে।