বৃহস্পতিবার ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

তুরাগের চন্ডাল ভোগে মতি মাস্টারের জমি নিয়ে হাজী মোস্তফার বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা : নির্মাণ কাজ বাঁধাগ্রস্ত, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা….

আপডেটঃ ৯:৫৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার : চ্যানেল সেভেন বিডি -: রাজধানী তুরাগের চন্ডাল ভোগ গ্রামে মতিউর রহমান ওরফে মতি মাস্টারের প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৫ কাঁঠা জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী  আরাফাত সুপার মার্কেট ও জমির মালিক হাজী মোস্তফার মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে চরম বিরোধ চলছে। এক পক্ষ জমিতে নির্মাণ কাজ করলে তার প্রতিপক্ষ এসে ফের জমিতে বাঁধা দিচেছন। এতে করে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এতে করে জমি ও মার্কেটের মালিক প্রভাবশালী হাজী মোস্তফা সমঝোতার নামে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা শুরু করছে। এতে করে তার  নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্ত হচেছ। জমি দখল ও বেদখলকে কেন্দ্র করে হাজী মোস্তফা ও মতি মাস্টারের লোকজনের মধ্যে যে কোন সময় বড় ধরনের  অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে চন্ডাল ভোগ গ্রামের স্থানীয় লোকজন আশংকা করছেন।জানা যায়, মো: রাজধানী তুরাগের চন্ডাল ভোগ গ্রামের মৃত তাজিম আলীর পুত্র হলো মতিউর রহমান ওরফে মতি মাষ্টার। মাতা মরহুমা করিমনন্নেছা। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড। মতি মাস্টার  এই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং  সাবেক একজন স্কুল শিক্ষক ।ভুক্তভোগী জমির মালিক ও সাবেক স্কুল শিক্ষক মতিউর রহমান মাস্টার জানান,  তুরাগের চন্ডালভোগ গ্রামে আমার ৫ কাঁঠা উচুঁ বসতি জমি রয়েছে।যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।চন্ডালভোগ মৌজার  আর এস দাগ ৫৯ সিএস দাগ ২৮ এসএ দাগ ২৫  মহানগর সিটি জরিপ দাগ ৬৬৪ মোট জমির পরিমা আট দশমিক ২৫ শতাংশ (৮.২৫ অযুতাংশ) । অথবা ৫ কাঁঠা। পারিবারিক ভাবে  আমার মার দেয়া হেবা দলিলমূলে আমি এই সম্পত্তির একাই মালিক। আমি দীর্ঘ  দিন ধরে এই জমি ভোগ দখল করে আসছি।তিনি অভিযোগ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর  সকাল ৮টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরীফুর রহমান শরীফ এর আপন চাচা জৈনক হাজী মোহাম্মদ মোস্তফা দল বল নিয়ে আমার দখলকৃত জমিতে অনাধিকারে প্রবেশ করে এবং অন্যায় ভাবে জমি জবর দখলের চেষ্টা চালায়। তখন আমি লোক মারফতে খবর পেয়ে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের তুরাগ থানায় গিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে জানালে তারা আমার কথা শুনে জিডি গ্রহন না করে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: মনির সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আমার জমিতে আসি।

তখন পুলিশের এসআই উক্ত নির্মানাধীন জমির মালিক হাজী মোস্তফাকে ডেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানান।এক পর্যায়ে পুলিশ স্থানীয় লোকজনদের সহায়তার উভয় পক্ষকে শান্তিশৃংখলা বজায় রাখার জন্য জমির মালিকানা দাবি’দারদের নিয়ে সমঝোতা (মীমাংশা) করার জন্য বলেন।সে মতে উভয় পক্ষ এতে একমত পোষন করে।মতিউর রহমান আরো জানান, এঘটনার এক  দিন পর গত ৭ সেপ্টেম্বর  জমি মাপঝোঁপ করার কথা থাকলেও হাজী মোস্তফা গাড়ির শো-রুমের নির্মাণ কাজ  বন্ধ না রেখে লেবার দিয়ে পূনরায় কাজ শুরু করেন। বিষয়টি স্থানীয় মুরুব্বি ও সালিশী বৈঠকের লোকজনকে জানালে তারা বিষয়টি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও তুরাগ থানা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ  মো: নাছির উদ্দিনকে অবহিত করলে তিনি ওই দিন সকাল ১০টার দিকে চন্ডালভোগ গ্রামের জমি দেখতে আসেন।এসময় তিনি আরাফাত সুপার মার্কেটের মালিক জৈনক হাজী মোস্তফা ও মতিউর রহমান মাস্টারকে বলেন যে, মার্কেট নির্মান কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে। এবিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজনদেরকে সাথে নিয়ে আমিন দিয়ে জমি মাপঝোপ করতে এবং প্রয়োজন হলে আমাকে জানাতে। এই কথা বলে তিনি উভয় পক্ষকে বলে চলে যান। পরবর্তীতে এঘটনাটি গত ৪ দিন অতিবাহিত হতে চললেও  হাজী মোস্তফা আইন ও সালিশী বৈঠককে কোন তোয়াক্কা না করে তার দলবল নিয়ে নির্মান কাজ অবাধে চালিয়ে যাচেছন বলে তিনি জানান।মতিউর রহমান মাস্টার ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, এরপর গত ৮ সে্প্টেম্বর আমি আমার জমিতে গেলে  হাজী মোস্তফা ও তার সহযোগীরা আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।আমার সাথে তাদের গালিগালাজ, তর্কবিতর্ক ও কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আমাকে কোন জমি ও রাস্তা পাবিনা বলে বলে জানান। যাবার বেলায় তারা আমাকে দেখে নিবে বলে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাণনাশের হুমকী দেয়। ফের জমিতে আসলে জীবনে শেষ করা সহ পারিবারিক ভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে হুশিয়ারী দেয় হাজী মোস্তফা গং। 

ভুক্তভোগী মতি মাস্টার আরো বলেন,আমি একজন শিক্ষক মানুষ।সারা জীবন মানুষ ও সমাজের কল্যাণের জন্য কাজ করেছি। ইতোপূর্বে আমি ডিয়াবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ ৬ বছর শিক্ষকতা করেছি। এছাড়া আমার বাড়ির পাশে বিগত ৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত আমার বাবা মা’র নামে গড়ে তোলা হয় তাজিম আলী-করিমনন্নেছা মুসলিম কিন্ডার গার্ডেন। এই স্কুলের আমি প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিডাল ছিলাম। বর্তমানে স্কুলটি সমাজের কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোকের কারণে শিক্ষাকার্যক্রম ধবংসের মুখে পড়েছে।বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়তই  হাজী মোস্তফা ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যদের হুমকীর মুখে অনেকটাই মানবেতর জীবন যাপন করছি। যে কোন সময় তারা আমার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশংকায় ভুগছি।এবিষয়ে জানতে হাজী মোস্তফা এ প্রতিবেদককে জানান, এটা আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। আমার জমির দক্ষিণ পাশে মতিউর রহমানের জমি রয়েছে। আমি তার বাবা-মার কাছ থেকে ১০ কাঠা জমি ইতিপূর্বে ক্রয় করে ভোগ দখলে আছি।তিনি আরো বলেন, আমি আমার জমিতে মার্কেট নির্মাণ করার সময় মদি মাস্টার দলবল ও পুলিশ নিয়ে এসে আমার জমিতে বাঁধা প্রদান করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মতি মাস্টারের সাথে আমার বিরোধ দেখা দিয়েছে। ডিএনসিসির স্থানীয় ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড  কাউন্সিলর আলহাজ মো: নাছির উদ্দিন সরেজমিনে এসে জমিটি দেখে গেছেন। এখন উভয় পক্ষের আমির দিয়ে জমি পূনরায় মাপার কাজ চলছে। আপাতত নির্মাণ কাজ আংশিক বন্ধ রয়েছে।চন্ডালভোগ গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মতি মাস্টার ও ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরীফুর রহমানের আপন চাচা হাজী মোস্তফার মধ্যে বিরোধ চলছে।

হাজী মোস্তফা তার জমিতে পুনরায় মার্কেট গাড়ির শো-রুম করতে গেলে মতি মাস্টার স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ নিয়ে এসে এতে বাঁধা দিয়ে এঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষ একে অপরের কাছে জমি পাবে বলে দাবি করছে।এতে জমি মাপঝোঁপ ও জবর দখল নিয়ে এক ধরনের ধূম্্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে হাজী মোস্তফা ক্ষমতাধর হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করছে। অচিরেই এই সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।এদিকে, ভুক্তভোগী জমির মালিক মতিউর রহমান মাস্টার বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  ও জাতিরজনকের সুযোগ্য কণ্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করছি, আমি বাঁচতে চাই, আমি আমাকে সাহার্য্য করুণ। আমাকে আপনি বাঁচান।এছাড়া আমি তুরাগের চন্ডাল ভোগ গ্রামের আরাফাত সুপার মার্কেটের মালিক হাজী মোস্তফার অহেতুক হয়রানী ও জমি রক্ষা সহ ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে  মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি বেনজীর আহমেদ,এলিট ফোর্স র‌্যাব ডিজি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিস্ট বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।