মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

দুঃশ্চিন্তা এক মরণ ব্যাধি -কবীর হোসেন

আপডেটঃ ৭:৩১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

মাথা ভরা চিন্তা! চারদিকে হতাশার হাতছানি। যদি নিজের অবস্থার দিকে তাকায় মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো এক ভয়াবহ অবস্থায়। ডিপ্রেশনকে পৃথিবীর সবথেকে বড় মরণব্যাধিতে ভূষিত করা উচিত। এই রোগে মানুষের মন আগে মরে যায়, দেহ আরো অনেক পরে মরে। শরীর মরে গেলে সবাই টের পায়, মন মরে গেলে কেউই টের পায় না। বেশিরভাগ রোগের জন্য রোগী নিজেই দায়ী থাকে। কিন্তু ডিপ্রেশন এমন একটা রোগ যেটার জন্য রোগীর পারিপার্শ্বিকতা, সমাজ আর পরিবার, অর্থনৈতিক অবস্থা দায়ী থাকে।
অথচ এই দায় স্বীকার কেউই করে না, এটার কোনো শাস্তিও নাই।আর ডিপ্রেশন কি জিনিষ, যে ভুগে নাই, সেও জানে না ডিপ্রেশন কতটা ভয়াবহ মরণব্যাধি।
ডিপ্রেশনে থাকা ব্যক্তি কখনোই নিজের দুরাবস্থার কথা কাউকে জানতে দেয় না। কারন নিজের কথাগুলো বলার মত বিশ্বস্ত কেউ না থাকার কারনেই সে এতদিন ধরে ডিপ্রেশনে ভোগে আসতেসে।
যতক্ষণ পর্যন্ত অন্তত একজন মানুষ থাকে  সবকিছু শেয়ার করার জন্য, ততদিন কারো পক্ষেই চাইলেও ডিপ্রেশনে দূর করা সম্ভব নাহ।
যতক্ষণ পর্যন্ত কারো মাঝে কিছু পরিমাণ হলেও সৃজনশীলতা অবশিষ্ট থাকে, ততক্ষণ তাকে সম্পূর্ণরূপে শূন্যতা গ্রাস করতে পারে নাহ।
ডিপ্রেশন যখন কাউকে দখল করে নেয়, তখন একজন মানুষের জীবনীশক্তি বলতে যা থাকে, সেটা পুরোপুরি হারিয়ে যায়৷
মানুষটা কোন কিছুতেই আনন্দ খুঁজে পায় না, আগ্রহ খুঁজেও পায় না।তার কোন কিছু করারও ইচ্ছা জাগে না। এমনকি মরে যাবার অনুভূতিকেও তার তখন সম্পূর্ণ সাধারণ ব্যাপার বলে মনে হয়।
এটাই হচ্ছে ডিপ্রেশনের প্রকৃত অবস্থা, বা প্রকৃত রূপ।
যখন আপনার মনে হবে আপনি ডিপ্রেশনে ভোগছেন, অস্থির অস্থির মনে হবে। তখন প্রিয় কোন মানুষের সান্নিধ্য থাকেন কিংবা কোন বন্ধুকে ডেকে আড্ডা দেন কিংবা ভালো কোনো মুভি দেখে। যা আপনার মন কে প্রফুল্ল রাখবে।  নিয়মিত মেডিটেশন করতে পারেন। একজন মুসলিমের জন্য নিয়মিত সলাত আদায়ই পারে তার ডিপ্রেশন দূর করতে। ঘোরাঘুরি আপনার ডিপ্রেশন কমিয়ে দিতে পারে।
হতাশা মানুষের জীবনে থাকবেই হতাশা জীবনেরই অংশ যদি অতি হতাশায় ভোগেন তাহলে দ্রুত কোন মানসিক ডাক্তারের শ্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। আমাদের দেশে প্রচুর মোটিভেশনাল কাউন্সেলিং সেন্টার রয়েছে সঠিক কাউন্সিলি এর মাধ্যমে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে পারেন, ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়া মানি বেঁচে যাওয়া।