শুক্রবার ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে অব্যাহতভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে -প্রধানমন্ত্রী…

আপডেটঃ ৬:৪৬ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৬, ২০২০


আফরোজা সুলতানা – বিশেষ প্রতিনিধি- : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ ০৬ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত এক ভিডিও বার্তা্য ১৪ তম আসেম অর্থ মন্ত্রী সভায় বক্তৃতা করেন । ১৪ তম আসেম অর্থ মন্ত্রী সভায় অংশীদার দেশসমূহের মাননীয় অর্থ মন্ত্রীগণ এবং ইউরোপীয়ান কমিশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট গন উপুস্থিত ছিলেন ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উক্ত ১৪ তম আসেম অর্থ মন্ত্রী সভায় বলেন , এ বছর চতুর্দশতম আসেম অর্থ মন্ত্রী সভার আয়োজন করতে পেরে বাংলাদেশ অত্যন্ত আনন্দিত। এই মহতী অনুষ্ঠানে যোগদান করায় আমি আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকী প্রতিপালনের জন্য চলমান ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষ্যে আমরা এই সভাটি অনেক আড়ম্বরপূর্ণভাবে আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির কারণে আমাদেরকে এই সভাটি ভাচূর্য়াল ভিত্তিতে আয়োজন করতে হয়েছে। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি একটি বৈষম্যহীন, সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমি তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি অত্যন্ত খুশি যে এ সংকটময় সময়ে আপনারা বিনম্র চিত্তে এবং সহমর্মিতা প্রদর্শনপূর্বক এ সভায় যোগদান করেছেন।এক্সেলেন্সিজ,অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এমন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এশীয় ও ইউরোপীয় জাতিসমূহের জন্য আসেম হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম। অংশীদার দেশসমূহের জন্য গুরুত্ব বহন করে এমন অভিন্ন অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে চতুর্দশ আসেম অর্থ মন্ত্রী সভাটি আলোচনা করবে।

কোভিড -১৯ মহামারি সকল দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে; জনগণের বেশিরভাগই আয় হ্রাস এবং চাকুরি হারানোর সম্মুখীন হয়েছে। দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য খাত কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। অধিকাংশ দেশেই টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের সুচকসমূহের অর্জন ও কষ্টার্জিত সমৃদ্ধি এখন হুমকির সম্মুখীন। স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহ এ মহামারির কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,
বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে অব্যাহতভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং আর্থ-সামাজিক সূচকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে ও ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা “ভিশন ২০৪১” গ্রহণ করেছি। এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশট ভাল অবস্থানে ছিল। তবে করোনা ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এবং অর্থনৈতিক পূনরুদ্ধারের জন্য সুবিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ গ্রহণ করা সত্ত্বেও এ মহামারী আমাদের অগ্রযাত্রার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। আমার সরকার এখন পর্যন্ত আমাদের অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরের পাশাপাশি আমাদের সমাজের বিভিন্ন খাতকে সহায়তা করার জন্য 14.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমতুল্য ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই সহায়তা প্যাকেজের পরিমাণ জিডিপির ৪.৩ শতাংশের সমান। কয়েক মাসব্যাপী মহামারির প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর পর আমাদের অর্থনীতি ঘুরে দাড়াতে শুরু করেছে। রপ্তানি, প্রবাস আয়, কৃষি উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রবণতাই এটি নির্দেশ করে যে, আমাদের অর্থনীতি এখন টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে পুনরায় ফিরে আসছে।
এক্সেলেন্সিজ,
কোভিড-১৯ মহামারি বহুমুখী বৈশ্বিক সমস্যা তৈরি করেছে এবং বৈশ্বিক ভাবেই এটির সমাধান করা দরকার। এই সংকট মোকাবিলার জন্য একটি সু-সমন্বিত রোডম্যাপ প্রয়োজন। রাজস্ব প্রণোদনা, কনসেশনাল আর্থিক সহায়তা এবং ঋণের মাত্রা কমানোর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ এলডিসি এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহকে বেইল আউটের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জি-7, জি-২০, ওইসিডি দেশসমূহ, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাসমূহকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। উন্নত অর্থনীতির দেশসমূহকে অবশ্যই উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য প্রতিশ্রুত অথচ অদ্যাবধি অপূরণকৃত কোটা মুক্ত বাজার সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে। আমরা আশা করছি যে, বিশ্ব শীঘ্রই কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন পেতে চলেছে। বিশ্বের সকল দেশের জন্য বিশেষত: এলডিসি এবং উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পাবার জন্য ব্যবস্থা করা জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি। উন্নত দেশসমূহ, এমডিবি এবং আইএফআইএসসমূহ এ ক্ষেত্রে উদার সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। আমরা অতীতে শিখেছি যে বিচ্ছিন্নতা নয় বরং সহযোগিতা যে কোনও সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে। এই কঠিন সময়ে আমাদের সমৃদ্ধির পথে সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে অধিকতর পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরিশেষে, আমি আশা করি যে, চতুর্দশ আসেম অর্থ মন্ত্রী সভা ঈপ্সিত ফলাফল অর্জন করবে যা সদস্য দেশসমূহের জন্য উপকার বয়ে আনবে। আমি আবার আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।