মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

সিনহা হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ওসি প্রদীপ – আশিক বিল্লাহ….

আপডেটঃ ৮:১৭ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)’র গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেছেন, সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস।ওসি প্রদীপের ইয়াবা বাণিজ্যের কথা জেনে যাওয়া ও তার বিরুদ্ধে ভিডিও ইন্টারভিউ চাওয়ায় প্রথমে হুমকি ও পরবর্তীতে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই মুখপাত্র।মেজর সিনহাকে হত্যার পর বাহারছড়া ক্যাম্পের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ বাকি আসামিদের নিয়ে মাদক উদ্ধারের পরিকল্পনা করেন ওসি প্রদীপ।আজ রোববার কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলের পর বিকেলে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।র‌্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুব স্পষ্টভাবেই একটি বিষয় সামনে এনেছেন। ঘটনার সাক্ষি, আলামত, আসামিদের জবানবন্দির মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠভাবে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী টেকনাফ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ। হত্যাকান্ড ধামাচাপা দেওয়া এবং অন্যখাতে প্রবাহিত করার জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাশের প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করেন অপর আসামি পরিদর্শক এসআই লিয়াকত আলী, মো. নুরুল আমিন, পুলিশের সোর্স মুহাম্মদ আয়াজ ও মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন। আবার লিয়াকত আলীকে সহযোগিতা করেন আরেক পুলিশ সদস্য নন্দ দুলাল। পাশাপাশি এপিবিএন’র তিন সদস্যের সহায়তায় এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে ওই ফাঁড়ির আরও পুলিশ সদস্য সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করার এবং ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘হত্যাকান্ড তদন্তের ভার র‌্যাব পাওয়ার চার মাস ১০ দিন পর তদন্ত কর্মকর্তা সহকারি পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম আদালতে আজ চার্জশিট দাখিল করেছেন। ৮৩ জন সাক্ষিকে অন্তর্ভূক্ত করে ২৬ পৃষ্ঠার এই চার্জশিটে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।’আসামির মধ্যে ৯ জন টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য, তিন জন এপিবিএন’র বরখাস্ত হওয়া সদস্য এবং তিন জন গ্রামবাসি রয়েছে। এরমধ্যে ১৪ জন কারাগারে আছেন। একজন পলাতক । কারাগারে থাকা ১৪ জনের মধ্যে ১২ জন তাদের নিজ নিজ দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। দুই আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং কনস্টেবল রুবেল শর্মা জবানবন্দি দেননি।গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের দিকে আসার পথে বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে তল্লাশির নামে গাড়ি থেকে নামিয়ে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।