মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রাঙামাটিতে ১টি ঘরের অভাবে রয়েছে রবিধান চাকমা…

আপডেটঃ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২১, ২০২০

নির্মল বড়ূয়া মিলন, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি : রাঙামাটি পার্বত্য জেলার ১০২নং রাঙাপানি মৌজার কারবারী (গ্রাম প্রধান) রবিধন চাকমার কোন ঘর নাই। ভাঙ্গা ঘরের চাল না থাকায় ৬মাস আগে ঘরের বাকি অংশ খোলে এখন এ শীতের দিনে স্ত্রীসহ পড়েছেন মহাবিপদে। এখন তার ঘরের স্থানে খালি ভিটা পড়ে আছে। বৈশি^ক মহামারী করোনা ভাইরাস চলাকালিন ঘর মেরামতের জন্য খুটি ও বেড়া খুলে এখন তারা মানুষে বাড়িতে গিয়ে রাত্রি যাপন করছে। গ্রামের লোকজন ঘর করে দিবেন এমন আশা নিয়ে ঘর খুলেন কিন্তু হঠাত কারবারী রবিধন চাকমার মুখ দিয়ে রক্ত যাওয়া শুরু হলে উলুছড়ি গ্রামের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তোলে চিকিৎসা করেন। কারবারী রবিধন চাকমা এখন সুস্থ্য আছেন কিন্তু কোন ঘর নাই। শীতের দিনে শীত নিবারনের জন্য নাই কোন কম্বল-সম্বল, সে সাথে মাথা গোজার ঠাই পর্যন্ত নাই এ গ্রাম প্রধান পরিবারটির। এরই মধ্যে কিছুদিন পর আসছে শত্যপ্রবাহ। এখন একদিকে যেমন শীত আর কুয়াশা রোদ্দজ্জল আকাশ দেখতে দেখতে খালি ভিটায় বসেই রোদ পোহানো ছাড়া আর কোন গতি নাই। এভাবেই শীত আর কুয়াশেতে দিনলিপি চলে গ্রামপ্রধান (কারবারী) রবিধন চাকমা ও তার স্ত্রীর।
স্ত্রী সোনামালা চাকমা, ১ কন্যা ফুলরানী চাকমাকে বিয়ে দিয়েছে সাপছড়িতে ও ১ ছেলে ধারেজ চাকমা বিয়ে করে তার বৌ নিয়ে আলাদা ভাবে থাকে। রাঙামাটি সদর উপজেলার রাঙামাটি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের উলুছড়া (আলুটিলা) গ্রামের কারবারী রবিধন চাকমার পরিবার। স্ত্রী সোনামালা চাকমা দিনমজুর হলেও অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে সন্তানদের তিনি লালণ-পালন করে প্রতিনিয়ত কায়িক ও শারীরিক পরিশ্রম করে বড় করে বিয়ে দিয়েছে। কারবারী রবিধন চাকমার পরিবারে নানা রোগ শোক নিয়েও পরিবারের সকলের মুখে একমুঠো খাবার তুলে দিতে অমানুষিক শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এ নারী। তাকে একদিকে কারবারী রবিধন চাকমার চিকিৎসা খরচ ও খাওয়ার খরচ চাালাতে হচ্ছে।
মেয়ে ফুলরানী চাকমার অর্থের অভাবে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে বিয়ে দিতে হয় তাকে। ছেলে ধারেজ চাকমা ৮ম পাস করার পর লেখাপড়া বন্ধ। সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস তার স্ত্রীর শ্রম। সামান্য কৃষি চাষাবাদ হচ্ছে তার একমাত্র অবলম্বন।
নুন আনতে পানতা ফুরায় সংসারে একদিকে কারবারীর চিকিৎসা অপরদিকে সংসার চালানো সোনামালা চাকমা আর পেরে উঠছেনা। রবিধন চাকমার পিতা সূর্য্য কান্ত চাকমা দয়া করে তার নামে ১০ শতক জমি দান করলেও বসবাসের জন্য মাথা গোঁজার ঠাই নতুনভাবে একটি তুলতে পারেনি অর্থের অভাবে।
গ্রাম প্রধান কারবারী রবিধন চাকমা বলেন, ২০০২ চাকমা সার্কেল চীফ আমাকে ১০২ নং রাঙাপানি মৌজার উলুছড়া-আলুটিলার কারবারীর দায়িত্ব দিয়েছেন। আগে তো মানুষের কাজ করে সংসার চালাতাম কিন্তু গ্রাম প্রধান হিসাবে কারবারীর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অন্য জনের বাড়িতে শ্রম দিয়ে আয় করার রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য কারবারী ও হেডম্যানরা ভাতা পাচ্ছেন। আমি কারবারী হিসাবে কোন ভাতাও পাচ্ছিনা। আমাদের উলুছড়া-আলুটিলা এলাকায় অনেক বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করিয়ে দিয়েছি কিন্তু কখনো নিজের জন্য সাহায্য চাইতে পারেনি। আমি এখন অচল তাই কয়েকবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে সাহায্যের আবেদনপত্র নিয়ে আগের চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছি কিন্তু রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আগের চেয়ারম্যানের পিয়ন আমাকে চেয়ারম্যানের অফিসে ডুকতে পর্যন্ত দেয়নি। এখন শোনেছি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বদল হয়েছে, আমার পরিবারের দুঃখ-কষ্টের কথা সরকারের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার অনুরোধ করছি।
রবিধন কারবারীর স্ত্রী সোনামালা চাকমা বলেন, সংসার ও স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাকে। ঘর তুলবো কিভাবে। রোদ কুয়াশেতে দিনরাত তাদের কষ্ট করতে হচ্ছে। স্বামীকে নিয়ে মানুষের ঘরে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাদের জীবন। তিনি বলেন, শুনেছি মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায় পরিবারকে ঘুর তুলে দিচ্ছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাই। চাই তার কাছে একটু মাথা গোঁজার ঠাই।
উলুছড়া-আলুটিলা এলাকার গ্রাম প্রধান কারবারী রবিধন চাকমা ও তার স্ত্রী সোনামালা চাকমার পরিবার সরকার এবং সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে ১টি ঘরের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। কারবারী রবিধন চাকমার মুঠোফোন নাম্বার ০১৫৫৮২৭৫০২৮।