মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রাজধানীতে সিএনজি ছিনতাই চক্রের মূলহোতা তাজু গ্রেফতার..

আপডেটঃ ৯:২৯ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২২, ২০২০

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : রাজধানীতে সিএনজির যাত্রী বেশে ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা মোঃ তাজুল ইসলাম ওরফে তাজুকে (৩০) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ।সোমবার দিবাগত রাত সোয়া  ৩টার দিকে  ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বসুন্ধরা রিভার ভিউ এলাকায় অভিযান চালিয়ে  তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা ওয়ারী জোনাল টিম। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত তাজু তার সহযোগীরাসহ সিএনজিযোগে মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর ও গেন্ডারিয়া এলাকায় যাত্রীবেশে ছিনতাই করে আসছিল।গোয়েন্দা ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্তি উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আবু আশরাফ সিদ্দিকী আজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।আজ মঙ্গলবার ডিএমপি’র এক সংবাদ বিঞ্জপ্তিতে জানানো হয়, এস এম নজরুল ইসলাম হিরা (৫২) পেশায় একজন সাংবাদিক। তার অফিস মতিঝিলে। গত ১লা অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা  ৭টায় বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা মতিঝিল শাপলা চত্বরের উত্তর পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর একজন সিএনজি চালক তাকে এসে কোথায় যাবেন জিজ্ঞাসা করে। সে বলে সানারপাড় যাবে। সিএনজি চালক তাকে ৪০ টাকা ভাড়া দিতে বললে সে রাজি হয় এবং সিএনজিতে উঠে। সিএনজিতে পূর্বে থেকেই দুইজন লোক বসা ছিল। দুই যাত্রীর মাঝে তাকে বসানো হয়। সিএনজিটি রাত  সাড়ে ৭টার দিকে ওয়ারী থানার এস আলম গ্রুপের গ্যারেজের সামনে এসে পৌঁছলে সিএনজিতে থাকা লোকজন তাকে মারধর করে এবং চোখ ও দুই হাত বেঁধে ফেলে। এরপর তার কাছে থাকা একটি স্বর্ণের আংটি, একটি রাডো ঘড়ি, একটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা অপহরণের ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে তাকে পোস্তগোলা নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৪ অক্টোবর, ২০২০ ওয়ারী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।এতে আরও বলা হয়, সাংবাদিক এস এম নজরুল ইসলাম হিরার দায়েরকৃত মামলাটি থানার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা ওয়ারী জোনাল টিম। তদন্তকালে বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। এই ছিনতাই চক্রের মূলহোতা তাজুকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বসুন্ধরা রিভার ভিউ এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত তাজু এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনিয়ে নেয়া মোবাইলের বিকাশ একাউন্ট থেকে ২৫ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করাসহ তার সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। তার সহযোগিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ধৃত ছিনতাইকারী পুলিশের কাছে স্কীকার করে জানান , গ্রেফতারকৃত তাজু তার সহযোগীরাসহ সিএনজিযোগে মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর ও গেন্ডারিয়া এলাকায় যাত্রীবেশে ছিনতাই করে। এক্ষেত্রে ছিনতাইকারীরা একজন ব্যক্তিকে টার্গেট করে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে তার গন্তব্যস্থলে পৌছে দেয়ার জন্য ভাড়া নিয়ে কথা বলে। ভাড়া ঠিকঠাক হলে গাড়ীতে তুলে তার গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিছুদুর গিয়ে তাদের সুবিধাজনকস্থানে পৌঁছলে তাজুর সহযোগী যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীরা টার্গেটকৃত যাত্রীকে ভয়ভীতি ও মারধর করে জোরপূর্বক তার নিকট থাকা টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তী সময়ে ভিকটিমের মোবাইল ফোন দিয়ে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ বাবদ টাকা দাবী করে। মুক্তিপণ আদায় করতে ব্যর্থ হলে ভিকটিমকে  হাত, পা ও মুখ বেধে রাজধানীর বাইরে নিরব ও নির্জন স্থানে নিয়ে ফেলে দেয়।গ্রেফতারকৃত তাজুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে রুজুকৃত একটি হত্যা মামলায় সে দীর্ঘদিন কারা অন্তরীন ছিল মর্মে পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান।গ্রেফতারকৃত তাজুকে জিঞ্জাসাবাদ শেষে ডিএমপি’র ওয়ারী থানার মামলায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।