মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আশুলিয়া থেকে জাল টাকা ব্যবসায়ী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার,বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ…

আপডেটঃ ৭:০৩ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১০, ২০২১

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর আশুলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় লাখ জাল টাকা, বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ ব্যবসায়ী চক্রের দু’ সক্রিয় সদস্যকে  গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০) এর একটি দল।র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০) এর   সহকারী পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার আজ রোববার  এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান,আটককৃত ব্যক্তিরা হচেছ, মোঃ মিজানুর রহমান (৩৯) ও  মোঃ রেজাউল ইসলাম (৩৬)।র‌্যাব জানিয়েছে, অভিযানকালে ধৃত আসামীদের নিকট থেকে ১লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যমানের জালনোট, ৫ টি মোবাইল  ফোন, ১ টি কিবোর্ড, ২ টি টোনার, ১ টি ল্যাপটপ, ১ টি লেমিনেটিং মেশিন, ১ টি প্রিন্টার, ১০ টি স্ক্যানার বোর্ড, ২ টি থাই বোর্ড, ৮৫০ গ্রাম টু পার্ট পেপার জল ছাপ, ৩ বোয়ম সোনালী রং, ৫ টি এন্টি কাটার, ১ টি  হিট লাইট, ৫ টি হিট লাইট বাল্ব, ৫ টি রাবার, ২ টি এন্টি কাটার ব্লেড, ২ টি ক্লাম, ৬ টি স্কেল, ২ টি ফয়েল পেপার, ১ টি হাতুড়ী, ৩ টি লিকুইড রং, ৩ টি গাম, ২ কেজি পেইন্ট, ২ কৌটা হলুদ রং, ৫ টি সেনসিটিজার, ২ টি ব্যাগ, ৪ টি থাইগ্লাস, ২২ কেজি টাকা বানানোর কাগজ উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সূত্রের মাধ্যমে জানতে পারে যে, রাজধানীর আশুলিয়া থানার দক্ষিণ ভাদাইল সাকিনস্থ হাজী নুরুল হক প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুলের পার্শ্বে জাহাঙ্গীরের বাড়ির ৩য় তলার পূর্ব পাশের ফ্লাটে রুমের ভিতর একটি চক্র জাল টাকা তৈরি করে আসছে। পরবর্তীতে এমন প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে অভিযান চালিয়ে জালনোট ব্যবসায়ী  মোঃ মিজানুর রহমান (৩৯) ও  মোঃ রেজাউল ইসলাম (৩৬)কে বিভিন্ন মালামালসহ গ্রেফতার করে। ধৃত আসামী মোঃ মিজানুর রহমান (৩৯)’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে ২০১২ সালে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে। ইতিপূর্বে ধৃত আসামী মাদক মামলায় পুলিশ কর্তৃক ধৃত হয়ে ১ বছর কারাভোগ করে। কারাভোগ শেষে গত ৩ মাস পূর্বে অধিক মুনাফার লোভে জাল টাকা তৈরি চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ে। ধৃত অপর আসামী মোঃ রেজাউল ইসলাম (৩৬) তার এই অবৈধ জাল টাকা তৈরীতে সহযোগী হিসেবে কাজ করত বলে জানা যায়।ধৃত আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ জালনোট তৈরি করে আসছিল। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে জালনোট তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করে জালনোট তৈরী করে। জাল টাকা তৈরি ও বিপণনের কাজে জড়িত চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত।

একটি গ্রুপ অর্ডার অনুযায়ী জাল নোট তৈরি করে, অপর গ্রুপ টাকার বান্ডিল পৌঁছে দেয়, আরেক গ্রুপ এসব টাকা বাজারে ছড়িয়ে দেয়। আসামীরা প্যাকেট আকারে সুনির্দিষ্ট কিছু লোককে সরবরাহের নিমিত্তে বিপুল পরিমান জালনোট তৈরী এবং বাজারে সরবরাহ করে আসছিল বলে ধৃত আসামীরা স্বীকার করে। এবিষয়ে উদ্ধারকৃত জাল টাকা, সরঞ্জামাদি ও গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।