শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

কিশোর গ্যাং একটি বড় সমস্যা -আইজিপি

আপডেটঃ ১০:১১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১১, ২০২১

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : ইন্সপ্যাক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে কিশোর গ্যাং একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই না তারা ড্রাগ (মাদক) নিয়ে নষ্ট হয়ে যাক।
আইজিপি বলেন, বিষয়গুলোর প্রতি পরিবারের সচেতন হতে হবে। এটা আপনাদের দায়িত্ব। অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবারের দায়িত্ব তার সন্তান কোথায় যায়, কী করে তার খোঁজ রাখা, নিয়ন্ত্রণ করা। দায়িত্ব না নিতে পারলে সন্তান জন্ম দিয়েছেন কেন? এটা অভিভাবকের সামাজিক দায়িত্ব, ধর্মীয় দায়িত্ব।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা উত্তরা র‌্যাব সদর দফতরে ‘র‌্যাব সেবা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘দরিদ্র মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া’ অনুষ্ঠানে আইজিপি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ১ জানুয়ারি থেকে র‌্যাব সেবা সপ্তাহ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, শীত বস্ত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে সপ্তাহ পালিত হয়েছে।
রাজধানীর কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলশিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ ক্রাইম’ উল্লেখ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, কলাবাগানের ঘটনাটি দেখেন, সেখানে ধর্ষণ হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রাইম (অপরাধ)। কিন্তু তারা দুই জনই কিশোর। আমাদের আইনে তারা শিশু।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য নিজেকে পরিশোধিত করা। ভালো-মন্দ চিনতে হবে। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে।
আমাদের আধুনিক আইন দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যেন আইনের আধুনিকায়ন করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি না করি। পত্রিকার পাতা খুললেই কিশোর গ্যাং। কিশোরদের জেলে রাখা যাবে না, থানা হাজতে রাখা যাবে না, মোবাইল কোর্টে দেওয়া যাবে না। তাহলে আমরা তাদের রাখবো কোথায়? প্রভিশন অফিসার কতজন আমাদের, কোথায় তারা। অনেকেই জানেন না। এগুলো না হওয়া পর্যন্ত না আমরা কি বিচার করবো না? থেমে থাকবো? কিশোর গ্যাং কালচার প্রতিরোধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমাদের শিশু সংশোধনাগার বা কারেকশন সেন্টার করে দেন। তবে, শিশুদের সচেতনার জন্য পরিবাবকে দায়িত্ব নিতে হবে।
র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আমাদের অনেক কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও অতিমারিতে তা সম্ভব হয়নি। দুই হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হবে। জেএসসির শিক্ষার্থীদের পাঁচ হাজার, এসএসসি’র শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার ও অন্যান্য শ্রেণির অসচ্ছল শিশুদের তিন হাজার টাকার শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একটি করে ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে একটি এলইডি লাইট, কলম, পেন্সিল ও বঙ্গবন্ধুর রোজ নামচাসহ বেশ কিছু বই রয়েছে।’
জেএসসি, এসএসসি মিলিয়ে ২৫ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
র‌্যাব সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন,র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল আহমেদ, র‌্যাবের গনমাধ্যম শাখার মূখপাত্র লে, কর্ণেল আশিক বিল্লাহসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।