মঙ্গলবার ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

বদলে যাবে দেশ ॥ দেড় বছরের মধ্যে ৪ মেগা প্রকল্পের যাত্রা…

আপডেটঃ ১:০১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৬, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার, -:আগামী দেড় বছরের মধ্যে চালু হচ্ছে চার মেগা প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ও কর্ণফুলী টানেল। এর মধ্যে দুটি ঢাকায়, একটি চট্টগ্রামে। দেশের যোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বৃহৎ এই প্রকল্পগুলো সরকারের পক্ষ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নিয়ে শেষ করার চেষ্টা চলছে। করোনা, আর্থিক সঙ্কট, নক্সায় ত্রুটিসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে কোনটিই আসলে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরাসহ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব প্রকল্প চালু হলে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতির চিত্র। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় পা রাখবে দেশের মানুষ। আন্তর্জাতিক সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। বাড়বে কর্মসংস্থান। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিকাশ ঘটবে দেশের পর্যটন শিল্পেরও। সব মিলিয়ে সামনে অপেক্ষা করছে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ।
এদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, এসব প্রকল্প যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা যাবে দেশ তত বেশি এগিয়ে যাবে। বুয়েটের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, সবচেয়ে বেশি আশাজাগানিয়া এই চারটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভবিষ্যত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো আরও এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে। এমনিতেই সব প্রকল্প বিলম্বে শেষ হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।
ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুসহ চারটি বড় যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ শেষে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্প্রতি সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সরকারের যে দায়িত্বটি আমি পালন করছি সেখানে চারটি মেগা প্রজেক্ট আছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে চলছে, গতি পেয়েছে।
সব আগামী ২০২২ সালে উদ্বোধন করতে পারব। ২০২২ সালের জুনের মধ্যেই আমরা এই প্রকল্পগুলো চালু করব।
চার প্রকল্পের মধ্যে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মেট্রোরেল চালুর যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, তা যথাসময়ে অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছরের মার্চে বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে চলে যায় পুরো দেশ। এ অবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলোও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর অক্টোবর থেকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রকল্পগুলোতে আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়।
মেট্রোরেল ॥ দিন দিন আশাজাগিয়ে তুলছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও করোনার আঘাতসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় তা হচ্ছে না। আগামী বছরের জুনে পুরো প্রকল্প চালুর কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ইতোমধ্যে প্রকল্পের অগ্রগতি হিসেবে দেশের প্রথম মেট্রোরেলে ৪৮ টাকা ২৫ পয়সা ভাড়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪০ পয়সা ধরে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ভাড়ার এই হার প্রস্তাব করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। গত রবিবার মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণী বৈঠকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে ডিটিসিএ ভবনে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। মেট্রোরেলটি (এমআরটি লাইন-৬) ৪০ মিনিটেরও কম সময়ে উত্তরা-মতিঝিল ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দূরত্বের পুরো রুট ভ্রমণ করতে পারবে। এ রুটে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।
মেট্রোরেল নির্মাণে সরকারী অর্থ ও বৈদেশিক ঋণের মাসিক এবং দৈনিক খরচ, পরিচালন ব্যয়, কর্মীদের বেতন, বিদ্যুত বিলসহ বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করা হয়েছে। মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালন ব্যয় যোগ করলে প্রতি মাসে খরচ পড়বে ৬৯ কোটি ৯১ লাখ ৭২ হাজার ২২৯ টাকা। দৈনিক হিসাবে এ খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৩ লাখ ৫ হাজার ৭৪১ টাকা। দিনে ৪ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে মেট্রোরেল। দৈনিক ব্যয় ও যাত্রী পরিবহন হিসাব করেই প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ধরা হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। এই হিসাবে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রীপ্রতি ৪৮ টাকা ২৫ পয়সা আদায় করা হবে। আর মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত রুট বর্ধিত হলে সেখানকার ভাড়ার পরিমাণ পরে যোগ হবে। এ অংশের কাজ নতুন করে করছে এমআরটি লাইন-৬ কর্তৃপক্ষ।
মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা সরকারের তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে মেট্রোরেল চালু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নতুন করে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার রুট বর্ধিত করায় স্টেশন একটি বেড়ে ১৭টি হচ্ছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, উত্তরা থকে আগারগাঁও প্রথম অংশের কাজের অগ্রগতি ৭৭ শতাংশের বেশি। সফটওয়ার, সিস্টেমসহ ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল অংশ নিয়ে প্যাকেজের কাজও শেষ হয়ে গেছে অর্ধেক। বাকি অংশের কাজও প্রায় অর্ধেক বলে জানা গেছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫০ ভাগের বেশি।
পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৮২ ভাগ ॥ ২০০১ সালের চার জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন থেকেই দেশের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এর মধ্যে কেটেছে ১৯ বছরের বেশি সময়। গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা দুই মিনিটে দেশে আরেকটি নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি। এদিন পদ্মা সেতুতে সর্বশেষ স্প্যান বসানো হয়েছে। যুক্ত হয়েছে মাওয়া-জাজিরা দুই প্রান্ত। দৃশ্যমান হয়েছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের সেতুটি। ২০২২ সালে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
সেতুর কাজ শেষ হলে, দক্ষিণের ২৯ জেলার মানুষের যোগাযোগে বিরাট পরিবর্তন আসবে। সময় বাঁচবে অন্তত ৩ ঘণ্টা। এখানেই শেষ নয় যা একসময় গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ আন্তর্জাতিক সড়ক ও রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়। আর উপকৃত হবে তিন কোটির বেশি মানুষ। দারিদ্র্য কমবে ১ দশমিক ৯ শতাংশ হারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সেতুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে ভবিষ্যত বাংলাদেশ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
গত ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৯১ ভাগ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ দশমিক ৩৮ ভাগ। প্রকল্পের নদীশাসন কাজের ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এলাকার কাজের শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি ৮২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
পরিবহন সেতুমন্ত্রী বলছেন, সেতুটি সবার জন্য ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে উন্মুক্ত করা হবে। জানা গেছে, পদ্মা সেতুর ওপর নির্মিত সড়ক হবে চার লেনের। সেতুর কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে। নির্মাণ শেষে পদ্মা সেতু জিডিপিতে ১ দশমিক ২৬ শতাংশ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
এলিভেটেড এক্সপ্রেস ॥ নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে চলছে যানজট নিরসনে সবচেয়ে আশার প্রকল্প ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। রাজধানী শহরের উত্তর-দক্ষিণ অংশের সংযোগ ও ট্রাফিক ধারণক্ষমতা বাড়াতেই এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয়। তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে পুরো প্রকল্প। তবে একসঙ্গে পুরো কাজ শেষ হচ্ছে না। ভাগে ভাগে খুলে দেয়া হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এর প্রথম অংশ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খুলে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সবটুকু শেষ হবে ২০২৩ সালের জুন মাসে।
গত বছর পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ১৯ ভাগের বেশি। প্রথম ধাপের অগ্রগতি ৫৬ ভাগ। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী যেতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ আধাঘণ্টা। তবে টোল দিয়ে ব্যবহার করতে হবে দেশের প্রথম এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছিল। এরপর প্রকল্পের একাধিক অংশের নক্সা পরিবর্তন, আর্থিক সঙ্কট, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণে কাজের গতি খুবই মন্থর। এ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একাধিকবার নানা সঙ্কটের কথা তুলে ধরে তা সমাধানে কাজ চলছে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সঙ্কটের সমাধান হলেও নির্মাণে গতি কম। সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো নির্মাণ গতি প্রকল্পের প্রথমাংশেই। অর্থাৎ বিমানবন্দর থেকে বনানী অংশে। দ্বিতীয় অংশে মাত্র ১০টি পাইল স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। আর তৃতীয় অংশে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
এখন প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগের কাজ চলছে বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত। তৃতীয় ভাগে কাজ হবে তেজগাঁও থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম অংশটি ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। দ্বিতীয় অংশ ৫ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার ও তৃতীয় অংশ ছয় কিলোমিটারের কিছু বেশি। সব মিলিয়ে মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ওড়াল সড়কে ওঠানামার জন্য র‌্যাম থাকবে ৩১টি। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।
প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। অর্থায়ন করছে ইতাল থাই এবং চাইনিজ কোম্পানি সিনোহাইড্রো ও চায়না সেনডং। এর মধ্যে ইতাল থাইয়ের মালিকানা ৫১ শতাংশ। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে সিনোহাইড্রো ১৪ শতাংশ এবং চায়না সেনডংয়ের মালিকানা ৩৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে তিন কোম্পানি মিলে চায়না এক্সিম ব্যাংক ও আইসিবিসি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৮৬১ মিলিয়ন ডলার। টাকার অঙ্কে ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিচালক এ এইচ এম এস আকতার বলেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ১১ কিলোমিটার অংশের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এর পরপরই এই অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। ২২ সালের মাঝামাঝি পুরো কাজ শেষ করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। শেষ না হলে ২০২২ সালের মাঝামাঝি অর্ধেক অংশ খুলে দেয়া হতে পারে।
বলেন, নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হলে নগরীর বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে একেবারে কুতুবখালী পর্যন্ত খুব স্বল্প সময়ে পৌঁছা যাবে। এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চলবে ৮০ কিলোমিটার বেগে। কোন রকম থ্রি-হুইলার উঠতে পারবে না।
২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট এই প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছিল। তখন কথা ছিল ২০১৮ সালেই ঢাকায় উড়াল সড়কে চলবে গাড়ি। পরে এই প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছিল। এরপর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির কথা জানানো হয়। এখন বলা হচ্ছে ২০২৩ সালে শেষ হবে পুরো প্রকল্পের কাজ।
কর্ণফুলী টানেলের অগ্রগতি ৬১ ভাগ ॥ কর্ণফুলী টানেলের সর্বশেষ অগ্রগতি ৬১ শতাংশ। এটি চট্টগ্রামের অন্যতম মেগা প্রকল্প। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ২০২২ সালের মধ্যে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ টানেল দিয়ে বছরে প্রায় ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে।
কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, কাজের গতি বাড়াতে জনবল ও যন্ত্রপাতি বাড়ানো হয়েছে। দ্রুতগতিতে চলছে কাজ। প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৬১ শতাংশ। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় টিউব বসানোর কাজ চলছে।
জানা যায়, করোনা প্রাদুর্ভাবের ধাক্কা কাটিয়ে পূর্ণগতিতে চলছে কর্ণফুলী টানেলের কাজ। চীনের সাংহাই নগরীর ‘ওয়ান সিটি টু টাউনের’ আদলে চট্টগ্রাম শহর ও আনোয়ারাকে গড়তে কর্ণফুলী নদীতে তৈরি হচ্ছে টানেল। এক প্রান্তে আনোয়ারার ভারি শিল্প এলাকা। অন্য প্রান্তে চট্টগ্রাম নগরী, বিমান ও সমুদ্রবন্দর। বিভক্ত দুই প্রান্তকে যুক্ত করতে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
তিন দশমিক ৪ কিলোমিটার টানেল নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৫ সালের নবেম্বরে অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ সরকার ও চাইনিজ এক্সিম ব্যাংক যৌথভাবে অর্থায়ন করছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে টানেলটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে পাল্টে যাবে চট্টগ্রাম তথা দেশের অর্থনীতি। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে শিল্পকারখানা ও পর্যটন শিল্পের।