মঙ্গলবার ১১ই মে, ২০২১ ইং ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

ধানমন্ডি থেকে বিআরটিএ’র জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার..

আপডেটঃ ২:৪০ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২১, ২০২১

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে বিআরটিএ’র নামে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বিভিন্নজাল সনদপত্র তৈরি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য মোঃ নুরুল আলম (৪৫)কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-২। বুধবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় গোপনে অভিযান চালিয়ে তাকে বিভিন্ন মালামালসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।এ সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জাল কাগজপত্র, নকল সিল, জাল লাইসেন্স তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।র‌্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন আজ বৃহস্পতিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি  দল বিকেলে  রাজধানীর ধানমন্ডি থানার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় ভিআইপি হাট নামক বাড়ির নীচ তলার গার্ডরুম থেকে বিআরটিএ’র নামে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বিভিন্ন জাল সনদপত্র প্রদানকরী প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য মোঃ নুরুল আলম (৪৫)কে গ্রেফতার করে।এ সময় তার নিকট থেকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) থেকে শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জাল কাগজপত্র, নকলসিল, জাল লাইসেন্স তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি র‌্যাবকে জানান, সে বিআরটিএ থেকে শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স, লাইসেন্স নবায়ন, ইঞ্জিন পরিবর্তনের আবেদন তৈরি, লাইসেন্সের মালিকানা পরিবর্তন, অথরিটি স্থানান্তর করে দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার নামে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল।গ্রেফতারকৃত আসামী নুরুল আলম আরও জানায়, মোটরসাইকেল রেজিষ্টেশন করতে ১৮ হাজার টাকা, প্রাইভেটকার লাইসেন্স করতে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা, রুট পারমিট-২ হাজার টাকা, ফিটনেস প্রদান করতে ২ হাজার টাকাসহ কারো লাইসেন্স হারিয়ে গেলে সে লাইসেন্স নতুন করে তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিতো বলে স্বীকার করেছে। প্রতারক মোঃ নুরুল আলম জানায়,বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জাল সিল ব্যবহার করে নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, নকল ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির বিভিন্ন জাল কাগজপত্র,লার্নার্স পেপার ইত্যাদি প্রদানের নাম করে সাধারণ জনগনের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামী একজন পেশাদার প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। অভিযানকালে তার নিকট হতে বিপুল পরিমানে বিআরটিএ কর্তৃক পুলিশ সুপার বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন ফরম, ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফরম (বিভিন্ন নামীয়), মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট আবেদন ফরম, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন ফরম, বিভিন্ন ব্যাংকের মানি রিসিভ, পেশাদার চালকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন ফরম, বিআরটিএ বিভিন্ন কর্মকর্তার নকল সিলসহ জালিয়াতের কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়।আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে,। এ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বাকি সদস্যদের  গ্রেফতারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এবিষয়ে  প্রয়োজনীয়  আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।