রবিবার ১৬ই মে, ২০২১ ইং ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

রাণীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচনে নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা …

আপডেটঃ ৮:২৬ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২১

মোঃ জিয়াউর রহমান – রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচন। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। তবে ভোটাররা বলছেন, এবারের নির্বাচনের চিত্র চলছে একেবারেই ভিন্ন মাত্রায়। পৌর নির্বাচনের ৪র্থ ধাপে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ পৌরসভায় ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ।

গত ২৭ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রচার-প্রচারণায় বেশ এগিয়ে প্রায় সব প্রার্থীরা। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৭০২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৩শ ৯০ ও নারী ভোটার ৭ হাজার ৩শত ১২ জন।

২০১৬ সালে ২০দল মনোনীত প্রার্থী মোকাররম হোসাইনকে পরাজিত করে এ পৌরসভার মেয়র হন আ’লীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমগীর সরকার। তবে তিনি পৌরসভা এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করতে সাধ্যমত চেষ্টা করেন।
রাণীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা:
পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১২জন প্রার্থী। এরা হলেন- আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান(নৌকা) আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বর্তমান মেয়র আলমগীর সরকার(ক্যারাম বোর্ড) অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেক(জগ) উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নওরোজ কাউসার কানন(চামুচ) পৌর আ’লীগের সম্পাদক সাবেক ভিপি রফিউল ইসলাম(কম্পিউটার) আ’লীগ নেতা ইসতেখার আলী(মোবাইল ফোন) পৌর আ’লীগের সদস্য উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক সাধন বসাক(নারিকেল গাছ) ও রুকুনুল ইসলাম ডলার(রেল ইঞ্জিন) প্রতিকে। তবে আ’লীগের একজন বাদে সকল বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে বহিস্কার হয়েছেন। এরমধ্যে ইসতেখার আলী আ’লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজেকে নির্বাচন থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুন নবী পান্না বিশ্বাস(ধানের শীষ) বিদ্রোহী প্রার্থী পৌর বিএনপির সদস্য মোখলেসুর রহমান(হ্যাঙ্গার) জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর হোসেন(লাঙ্গল) নির্দলীয় প্রার্থী ও গেলবারের নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মোকাররম হোসাইন(ইস্ত্রি) প্রতিকে নির্বাচনী প্রচারণা করছেন। তবে এদের মধ্যে মোখলেসুর রহমান নিজেকে নির্বাচন থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। নির্বাচনে মেয়র পদের পাশাপাশি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পৌরসভা এলাকার বাজারঘাট শহরের অলিগলি জুড়ে ঝুলছে প্রার্থীদের প্রতিক সম্বলিত পোষ্টার। শুধু বাজারঘাট নই, পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর ও পাড়া মহল্লা। সাথে তাল মিলিয়ে চলছে ভোটের মাইকিং। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাইছেন ভোট, ভোটারদের কাছ থেকে নিচ্ছেন দোয়া ও আর্শিবাদ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনার পাশাপাশি চলছে ভোটের হিসেব-নিকেশ। এদিকে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সাধারণ ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। প্রার্থীরা উঠান-বৈঠক, পথসভা, গণসংযোগসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ।

ভোটাররা বলছেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতিক নই, মেয়র প্রার্থীদের দোষ-গুণ, ব্যক্তি ইমেজ এসবের বিশ্লেষণেই হবে ভোটের মাঠের লড়াই। এখন বড় আলোচনা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাক্তি ইমেজে। পৌরসভা এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, খারাপ ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ এ পৌরসভায় বিদ্যমান নানা সমস্যার সমাধানে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান পৌরবাসী।

শহরের শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, পূর্বে পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের দলীয় প্রতিক প্রাধান্য পেত। তবে এবারে একেবারে ভিন্ন অবস্থায় ব্যক্তি ইমেজের প্রভাবেই হবে ভোটের মাঠে লড়াই। তবে এবার পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগ ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকায় ব্যক্তি ইমেজের প্রভাব থাকছে ।

ভান্ডারা এলাকার বাসিন্দা শহিদুল বলেন, বিগত সময়ে পৌরবাসী কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই এবার পৌরসভার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে ভোট প্রদান করবে।

নৌকার বিকল্প নেই বলে জয়ে আশাবাদী নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান । পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদুন নবী পান্না বিশ্বাস। এদিকে প্রচারণায় পিছিয়ে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আ’লীগের ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র উপজেলা যুবলীগের সভাপতি(বহিস্কৃত) আলমগীর সরকার।তিনি গতবারে বিপুল ভোটে নৌকা প্রতিকে নির্বাচনে জিতেছিলেন। পৌর এলাকায় তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়াও পৌর আ’লীগের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম(বহিস্কৃত) তিনি একবার কাউন্সিলর ছিলেন,ছাত্রজীবন থেকেই আ’লীগের রাজনীতি করে আসছেন পৌর সমাজে তারও বেশ গ্রহণ্যযোগ্যতা রয়েছে। তাছাড়াও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক সাধন বসাক(বহিস্কৃত আ’লীগ নেতা) তারও হিন্দু সম্প্রদায়ে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এদিকে আ’লীগের প্রয়াত নেতা উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুকুনুল ইসলাম ডলার ও প্রয়াত উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কাশেমের ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নওরোজ কাওসার কানন তাদের পিতার ব্যাক্তিগত জনপ্রিয়তাও ভোটের মাঠে ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে নৌকার প্রার্থীর।

এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে গতবারের ২০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এবারের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকাররম হোসাইন।কারণ মোকাররমের পরিবারের এই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রে বেশ অবদান রয়েছে,তাছাড়া সে নিজেও এলাকায় পরোপকারী তরুণ নেতা হিসাবে পরিচিত,গেলবারের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর সাথে চরম প্রদিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নৌকার জয় মানেই উন্নয়ন। তাই ভোটাররা পৌরসভার উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নৌকা মার্কায় ভোট দিবে। আমি আশাবাদী বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে। আমি নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে একটি জবাবদিহিতা মুলক আধুনিক মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করবো।
বিএনপি মনোনীত মাহমুদুন নবী বলেন, এখানে ভোট কারচুপির একটা শঙ্কা তো রয়েছেই। তারপর বিগত সময়গুলোতে পৌরবাসী বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে, তাই এবারও আশা রাখছি পৌরবাসী আমাকেই জয়ী করবে। নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত নগরী সাজাতে কাজ করবো।

আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলমগীর সরকার বলেন, দলের মনোনয়ন না পেলেও জনগণের মনোনয়নে আমি ভোটে দাড়িয়েছে,বিগত ৫ বছর আমি পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়নসহ মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাড়িয়েছি। তাই আমি বিশ্বাস করি জনগণ আমাকে আবারো নির্বাচিত করবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকাররম হোসাইন বলেন, ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছি তাতে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। প্রশাসনিক কোন বাধা বিপত্তি বা ভোটে কোন অনিয়ম না হলে আমি জয়ী হবো বলে বিশ্বাস করি।
অফিসার ইনর্চাজ এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন, এ যাবত পৌর নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়াও ভোটের মাঠে যে কোন বিশৃঙ্গলা ঠেকাতে আমার পুলিশ বাহিনী সর্বদা মাঠে রয়েছে। এবং সুষ্ঠ সুন্দর পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এদিকে কোনো প্রার্থী যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন না করতে পারেন, সেদিকে নজর রাখছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আখিঁ সরকার।