সোমবার ১০ই মে, ২০২১ ইং ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

বিএনপি’র শাসনামলে জিয়া ও খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষন বাজাইতে দেয়নি : তথ্যমন্ত্রী

আপডেটঃ ৮:২৮ অপরাহ্ণ | মার্চ ০৮, ২০২১

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ (এমপি) বলেছেন, বিএনপি নেতা  ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন সেই সময় বঙ্গবন্ধুর  ৭ ই মার্চের ভাষন বাজাইতে দেয় নাই। তখন বিএনপি (তারা) বঙ্গবন্ধুর নামটা ও নিষিদ্ব করেছিল। ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নামটা গোচ করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বিএনপি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট নিজের জন্মের দিনটা বদলে দিয়ে খালেদা জিয়া অত্যন্ত নেক্কারজনক ভাবে তিনি ১৫  আগস্ট কেক কাটা শুরু করলেন। সেই বিএনপি যখন হঠা? করে ঘোষনা দিল আমরা ৭ মার্চ পালন করবো  তখন আমরা অনেকটাই আশ্চর্য্য হয়েছিলাম।আজকে তাদের এ যে দলের দুর্বিসন্ধি সেটা ফাস  হয়ে গেছে।

তিনি রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১১ টায় রাজধানীর গুলশানের ইয়ুদ ক্লাব মাঠে  ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ডিএনসিসি উদ্যোগে আয়োজিত আতশবাজি উ?সব পালন এবং জমকালো অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রকৃত পক্ষে সেই দিন স্বাধীনতা ঘোষনা করে দিয়ে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের  মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।তখন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা তখন লিখেছে, চতুর শেখ মুজিব কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষনা করে দিয়েছেন। আমাদের চেয়ে চেয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোন কিছুর করার নেই।তা-ও এমন ভাবে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনটা ঘোষনা করে গেলেন,তাকে অভিযুক্ত করা যাচেছ না।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জানতেই, কবে স্বাধীনতা ঘোষনা করতে হবে।পাকিস্তান সরকারের আমল থেকে তিনি কাজ শুরু করেন।এর পর থেকে তিনি পরিকল্পনা গ্রহন করতে থাকেন। সেই লক্ষেই তিনি ধীরে ধীরে কাজ আরম্ভ করেন। জাতির মনন তৈরী করেছিলেন এবং পরিকল্পনা করেন।সেই লক্ষে তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছিলেন।  বঙ্গবন্ধু জানতে, কখন কোন ঘোষনাটা দিতে হবে। 
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি যদি হুকুম দিতে নাও পারি তাহলে তোমরা-তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো এবং শত্রুত মোকাবেলা কর। কিভাবে যুদ্বটা পরিচালনা করতে হবে সেটা ও তিনি বলেছিলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হে আহম্মকের দল। যারা বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, ৭ ই মার্চ পালন করার উদ্দেশ্য হচেছ  বঙ্গবন্ধুকে কটাঙ্গ করা। ৭ মার্চের ভাষনকে নিয়ে প্রশ্ন উপস্থাপন করা। একটি হীন উদ্দেশ্যে তারা ৭ মার্চ পালন করছে। আসলে তারা একটা ভাল কাজ করতে পারতো। তাদের উদ্দেশটা ভাল ছিল।কিন্তু তারা আজকে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার মধ্য দিয়ে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। আসলে তারা ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে ৭ মার্চ পালন করতে চায় নায়।এটি আসলে  দু:খজনক।বিএনপি যে ইতি হাসের কাঠ গড়ায় ছিল  সেই কাঠ গড়াতেই রয়ে গেছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রথমত এটা বিএনপি;র দ্বীনতা। তাদের দলেও অনেক মুক্তিযোদ্বা আছে। তাদেরকে দিয়েও বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তির অনুষ্টান উদ্বোধন করতে পারতো। তারা তা না করে হত্যার দায়ে দুর্নীতির দায়ে দন্ডপ্রাপ্ত  পলাতক আসামী তারেক রহমানকে দিয়ে বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তির অনুষ্টান উদ্বোধন করলো। অর্থা? বিএনপি যে একটা খুনের দল, খুনিদের দল এবং তারা যে দুনীতিগ্রস্ত একটি দল।সেটা আবারও  প্রমাণিত হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ডিএনসিসি মেয়র মো: আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ডিএনসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত সচিব মো: সেলিম রেজা।এছাড়া অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি, নৌ পরিবহন মন্ত্রী খালিক মোহাম্মদ চৌধুরী এমপি, আলহাজ মোহাম্মদ হাবিব হাসান এমপি, শিরিণ আহম্মেদ এমপি, আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: বজলুল রহমানসহ আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ,মহিলা আওয়ামীলীগসহ সহযোগী অংগ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ডিএনসিসির কর্মকর্তা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং অন্যান্যরা এসময়  উপস্থিত ছিলেন।