বৃহস্পতিবার ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

৩০২ কলেজের শিক্ষা ব্যবস্হা জাতীয় করনে প্রাপ্তির সীমানা…

আপডেটঃ ৬:৫০ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৫, ২০২১

মোঃ এমদাদুল হক বাবুল, পুর্বধলা – নেত্রকোনা:   মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশ,      স্বাধীনতার সু্বর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ-শত কষ্ট আর দুর্যোগ এবং ঐতিহ্যগত ষড়যন্ত্র, বাঙালির  অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে নাই। এই বাংলা আজ বিশ্বের উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তালিকায় সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে চুড়ান্তপর্বে উন্নীত। শত অর্জনে, শত সাফল্যে যতটা গর্বিত বাঙ্গালি,-তার চেয়ে বেশি লজ্জিত ষড়যন্ত্রের স্পর্শতায়।   একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্হায় অস্থিরতা– সমাজ/রাষ্ট্রকে যেমনি অনগ্রসর করে দেয়।তেমনি শিক্ষা জাতীয়করনের এক মহাসংকটে  মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি দাড়িয়ে বাংলাদেশ। শিক্ষা জাতীয় করনে বঙ্গবন্ধুর অনুসরণীয় পদক্ষেপ অনুসরন করেই উনার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয় করন সম্পন্ন করে–, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্টানগুলো জাতীয় করনের প্রথম ধাপেই প্রতিটা উপজেলায় একটি করে স্কুল ও একটি করে কলেজ জাতীয় করনের শুরুতেই যত বিড়ম্বনা,। তার সবটুকুই বিধি বর্হিভূত নিয়োগ প্রদান-এবং ডিজি বনাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় সাংঘর্ষিক অবস্থানই-প্রধান অন্তরায়। বেতন প্রদান কারী কতৃপক্ষ মাউশি ০২জন, আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ০৩জন, শিক্ষক নিয়োগ সমর্থন করে, ফলে কিছু কিছু প্রতিষ্টান বেতন প্রদানকারী কতৃপক্ষের নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করেই প্রতি বিষয়ে ০৩ জন শিক্ষক নিয়োগ করে নিজেদের হাতকে শক্তিশালী করলেও – মাউশিকে করেছে বিব্রত।এখানেই সংকট ঘনীভূত হয়েছে এবং জাতীয়করন বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘসময়েও শিক্ষক/কর্মচারীদের আত্মীকরন প্রক্রিয়াটি শুধু যাচাইয়ের পথ ধরেই এগুচ্ছে।তাই দৃশ্যতঃ দেখা যাচ্ছে–প্রতিষ্টান সরকারি হলেও এখানে  নিয়োজিত শিক্ষক/কর্মচারীগন এখনো বেসরকারিই রয়ে গেছেন। একই জায়গায় এই দ্বৈত নীতি চরম হতাশায় নিমজ্জিত করেছে সদ্য সরকারিকৃত ৩০২টিকলেজের শিক্ষক কর্মচারীদেরকে।এই সমস্ত প্রতিষ্টানগুলোর সুনির্দিষ্ট নীতিমালার স্পষ্টীকরনে অস্পষ্টতা -নিয়ন্ত্রনকারী কতৃপক্ষের মনিটরিং এ অনীহার কারনে দৃশ্যমান ক্ষতির মুখোমুখি দাড়িয়ে একটি বিশাল জনগোষ্টী।এদিকে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা না থাকায় ২০১৮সালের ৮ই আগষ্টে এইসমস্ত কলেজগুলো সরকারি করনের প্রজ্ঞাপন জারি করার পর থেকে কলেজ আয়ের অংশ শিক্ষক/কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণে–গড়িমসি করছে স্বাক্ষরদানকারী কতৃপক্ষ।ফলে মানবেতর না হলেও জীবিকা নির্বাহে হিমসিম খাচ্ছে এই সমস্ত প্রতিষ্টানে কর্মরত শিক্ষক/কর্মচারীগন ।আরো ভাগ্যের নির্মম পরিহাস -অনেক প্রতিষ্টানই ২০১৮সালের ৮ই আগষ্টের পুর্বের কলেজ অংশের বেতন নিতে যেয়ে যে অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে -সেটি যেমন দুঃখজনক, তেমনি লজ্জাজনকও।যা পেশাগত ঐতিহ্যকে সমুন্নত নয় বরং জীবিকা নির্বাহে সম্ভবতঃ প্রয়োজ্য ছিল –যেটি হয়তো সময়ই বলে দিতে পারবে!”সরকারি”নামক সুখপাখিকে পাওয়ার জন্য কতই না অপমান,=ফরাসি বিপ্লবের সন্তানদের ভাষায়,–“হায়রে প্রাপ্তি তোর নামে কতই না কলংক” ? অন্যদিকে শিক্ষকদের বিলম্বিত আত্মীকরন ব্যবস্হা তাদের স্বপ্নের পদোন্নতির সুযোগ থেকে করছে বঞ্চিত।–এগুলো সবই কি শিক্ষকদের ভাগ্যের বিড়ম্বনা ? শিক্ষক মানেই কি বিড়ম্বনা? যদি সেটি হয়, তাহলে- নিঃসন্দেহে এটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পথে অন্তরায় হয়ে দাড়াবে।অন্যদিকে যে সমস্ত প্রতিষ্টানগুলো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তাদের স্বপ্নের সীমাহীন ব্যপ্তি শিক্ষাঙ্গনে  বিভক্তি এবং জবাবদিহিতাকে ম্লান করেছে।   লক্ষ করা যাচ্ছে,–সদ্য জাতীয় করনকৃত প্রতিষ্টানগুলো বর্তমানে “না সরকারি,”- “না বেসরকারি”এমন অবস্থায় দাড়িয়ে। ফলে, -এদের অর্থ আদায় এবং ব্যয়ে,ও পরিচালনায় দোদুল্যমান অবস্হায় পাঠদানে যেমন বিঘ্ন হচ্ছে, তেমনি প্রতিষ্টানগুলোর সাথে জড়িত সকলকে করছে হতাশাগ্রস্ত–এতে ব্যহত হচ্ছে প্রাতিষ্টানিক সকল  শিক্ষা কার্যক্রম।  এটি বর্তমান বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের অশনিসংকেত।যদি ত্রুটিপুর্ন কোন একটি ব্যবস্হা জাতীয়  অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে সেই ব্যবস্হা বাতিল পুর্বক অন্যান সকল বিধিবিধান অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুততম সময়ে জাতীয়করন প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ জাতিকে তৃণমূলের শিক্ষা ব্যবস্হায় উপকৃত করবে। ২০১৮সালে ৩০২কলেজের সরকারি করনের প্রজ্ঞাপন জারীর পরবর্তী সময়ের শিক্ষক/কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য সরকারকে উপকৃত করে নাই, বরং বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। যদি প্রতিষ্টান থেকে আদায়কৃত অর্থ শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের কল্যানে ব্যয় না হয়, তখন অসন্তোষের জন্ম নেয়। অথচ সদ্যআদায়কৃত অর্থের কোন অংশই সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে না। ফলে সরকারের চলমান শিক্ষা জাতীয় করনে “না সরকারি” -“না বেসরকারি”– -প্রতিষ্টানগুলোর দোদুল্যমান বিরাজমান  অবস্হা শিক্ষা ব্যবম্হায় যেমন ক্ষতি সাধিত হচ্ছে তেমনি সরকারকেও বিতর্কিত করছে। এটি থেকে উত্তোরণের একমাত্র পথ হচ্ছে — ত্রুটিযুক্ত বিষয়গুলো স্থগিত রেখে,অন্যান সবগুলো পদের পদায়ন একতোপে সম্পন্ন করার কাজ দ্রুততম সময়ে সমাপ্ত করা-এবং শুন্য পদ পুরন বা বিলুপ্তি ঘোষণা করা, -অন্যথায় প্রস্তাবিত প্রতিষ্টানগুলোকে বেসরকারি ব্যবস্হায় ফিরিয়ে দেওয়া। এতে সমালোচিত হলেও সেটি হবে অস্হায়ী, — কিন্তু ফলাফল হবে সুদুর প্রসারী……….।