বৃহস্পতিবার ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ ইং ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০….

আপডেটঃ ৮:১৬ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৫, ২০২১

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতের মধ্যে গাইবান্ধা সদরে চারজন, ফুলছড়িতে দুইজন, পলাশবাড়ীতে তিনজন এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একজন। ৫ এপ্রিল সোমবার সকালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ফুলছড়ি উপজেলায় নিহত দুইজনের মধ্যে একজন ঝড়ের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তাই সরকারিভাবে ঝড়ে নিহতের সংখ্যা ৯ জন হিসাব করা হয়েছে। নিহতরা হলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের ঢনঢনিপাড়া গ্রামের মিঠু মিয়ার স্ত্রী সাহারা বেগম (৪১), হরিণসিংগা গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে মুনির (৫), আরিফ খান বাসুদেবপুর গ্রামের রিজু মিয়ার স্ত্রী আর্জিনা বেগম (২৮), রিফাইতপুর গ্রামের খগেন্দ্র চন্দ্রের স্ত্রী জোৎস্না রানী (৫৫), পলাশবাড়ী উপজেলার ডাকেরপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০), মোস্তফাপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে গোফফার (৪২), মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের মমতা বেগম (৫৫), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত হলদিয়া গ্রামের সোলেমান আলীর স্ত্রী ময়না বেগম (৪০), ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী গ্রামের বিটুল মিয়ার স্ত্রী শিমুলী বেগম (২৫), ফুলছড়ি উপজেলার রেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতিয়ার চর গ্রামের বারেক মিয়ার ছেলে হাফিজ উদ্দিন (৬০)। তাদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিন ঝড়ের সময় বাতাসে ইজিবাইজ উল্টে নিহত হন। গত ৪ এপ্রিল রবিবার বিকাল ৩টার দিকে গাইবান্ধা সদরসহ সাত উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় ঘণ্টাব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি, দোকানপাটসহ সরকারি স্থাপনা। নষ্ট হয়েছে আমের মুকুল ও আমন ধানের গাছসহ বিভিন্ন ফসল। সোমবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বলেন প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। হঠাৎ বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়াসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণসহ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। এলাকাবাসী বলেন গত রবিবার বিকাল পৌনে চারটা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে ঝড়ো হাওয়া। সঙ্গে দমকা বাতাস ছিল। সেই সঙ্গে কোনো কোনো এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হয়েছে। বাতাসের পরপরই বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় চন্ডিপুর ইউনিয়নের সীচা গ্রামের মৃত আছমত উল্লাহ’র ছেলে মোসলেম আলীর পরিবারসহ অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।