মঙ্গলবার ১১ই মে, ২০২১ ইং ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

গুলশানে ফুটপথে মুজা বিক্রেতা হোটেল কর্মচারী হারুন প্রধান -যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে করছে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি !

আপডেটঃ ১১:২৬ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১১, ২০২১

ক্রাইম রিপোর্টার : করোনা পরিস্হিতির আগ মূহুর্তে বেশ কিছুদিন যাবৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুদ্ধি অভিযান চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শুদ্ধি অভিযান তার নিজের দলের লোক থেকে শুরু করেছেন। “এ্যারোমেটিক ম্যাজিক ল্যাডি” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, হাইব্রিড নেতা ও দখলবাজদের শক্ত হাতে দমন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উন্নত রাষ্ট্রের শিখড়ে। হাইব্রিড নেতাদেরকেও হুশিয়ারী দিয়ে দমন করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অভিযোগে পদত্যাগ করান। এরপর ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়া ওরফে লেংড়া খালেদকে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র, ক্যাসিনো সরঞ্জামাদি, জুয়া খেলার বিপুল পরিমান টাকা ও মাদক সহ গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি, টেন্ডাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। খালেদের তথ্য মতে রাজধানীর নিকেতন থেকে যুবলীগের সমবায় সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামিম ওরফে জিকে শামিমকে তার বাসা থেকে বিপুল পরিমান নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, অস্ত্র ও মাদক সহ গ্রেফতার করা হয়। যুবলীগের পর গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এনামুল হক এনুর কয়েকটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিপুল পরিমান অবৈধ টাকা, স্বর্ণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করে। প্রধানমন্ত্রীর তখন এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন সর্বস্তরের জনগন। শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে বলেছিলেন শুধু ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগই নয় এবার অভিযুক্ত কাউন্সিলর সহ নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধ অ্যাকশন নেওয়া হবে।

প্রশাসন সহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকা শহরে এমন অপরাধীদের তালিকা আছে তাদের কাছে। যেকোন সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। এমন অভিযোগ উঠেছে গুলশান থানার ১৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সেক্রেটারি হারুন প্রধান এর বিরুদ্ধে। গুলশান এলাকায় তার কর্মীরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসায়ে সেল্টার, সরকারী-বেসরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল, ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখানো সহ নানা অপকর্মে জড়িত। জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক র্নিমূলের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করা, মাদক ব্যবসায়ীদের সেল্টার দেয়া, মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের দিয়ে মাদক নির্মূল কমিটি গঠন সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ২০০৬-২০০৭ সালে বি এন পি নেতা সুজন এর সাথে বি এন পি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে হাইব্রিড ও নব্য আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে খ্যাত বলে অনুসন্ধানে যানা যায়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এ সাংবাদিক টিম গুলশান থানা এলাকায় কাজ করা কালীন এসব তথ্য জানতে পারে। তার রয়েছে বিশাল চাঁদাবাজিতে সক্রিয় ক্যাডার বাহিনী। সাধারণ মানুষ যারা ফুটপাতে কোন রকম ঝুড়ি টুকরিতে ব্যাবসা করে তারা হারুন প্রধানকে চাঁদা প্রদান না করলে টর্চার সেলে নিয়ে মারধর করে থানা পুলিশে সপর্দ করে মামলা দেয়। হারুন প্রধান সহ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় রয়েছে অসংখ্য জিডি, একাধিক মামলা। মোকদ্দমায় জড়িত এসব সাঙ্গ পাঙ্গ সাথে নিয়ে তাদের মাধ্যমে হারুন প্রধান তার সকল চাঁদাবাজির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি এসব তথ্য জানায়।

বড় বড় রাঘব বোয়াল নেতাদের সাথে রয়েছে হারুন প্রধান এর সখ্যতা। মূলত সে একজন ফুটপথে বসে মুজা বিক্রেতা, বাড়তি আয় উৎস খুজতে কাজ নেয় গুলশানে হোটেল বয় হিসাবে। কূটনৈতিকতায় পারদর্শী হয়ে বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে মিডিয়ায় খবর প্রকাশকে পুঁজি করে নিজের আখের গোছানোর পথ অবলম্বন করতে শুরু করে। ইতিমধ্যে স্পা হারুন হিসাবে খ্যাতি রয়েছে তার। সেখানে লোকজন আনা নেওয়ার কাজ করতে বড় পারদর্শী হয়ে উঠে। স্পা থেকেই তার চাঁদাবাজির উৎস শুরু দলীয় পরিচয়ে বনে যায় যুবলীগ নেতা। গুলশান লেকপার সহ ফুটপথে ঝুড়ি পাতলেই তার নামে ৫০০ টাকা হারে উঠতে শুরু করে যে কাজে সহযোগী চিহ্নিত চাঁদাবাজ তার দুইভাই। টাকার গরমে হারুন প্রধান গুলশান থানা যুবলীগের ১৯ নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারির পদ বাগিয়ে নেয়। টাকা হলো, পদ হলো, নারী না হলে চলে? কড়াইলের ৭ তলা গুদাম বস্তির বরিশাইল্লা জহিরের বোন কে বিয়ে করে কিছু দিনের মাথায় আবার টিটনের বোনকে বিয়ে করে, তারা হারুন প্রধানের মারপিট আর অত্যচারে এখন গাজীপুর গার্মেন্টস্ কর্মী। এরপর বাড্ডার লুৎফন টাওয়ারের এক গার্মেন্টস্ কর্মীকে বিয়ে করে, সেখানে তার একটি বাচ্চা আছে বলে জানা যায়। তাকে রেখে গুলশান কড়াইল বস্তির এক মেয়েকেও বিয়ে করে সে, তার ভয়ে পালিয়ে বেঁচেছে অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় গুলশান থানায় তার নামে ১০-১২ টা জিডি ও একধিক চাঁদাবাজির মামলায় সে এখন পলাতক রয়েছে। গুলশান থানা যুবলীগের ১৯নং ওয়ার্ডের বর্তমান সভাপতি কবির হোসেন শান্তকে এই প্রতিবেদক সত্যতা নিশ্চিত করনে। তার মুঠোফোনে ফোন করে জানতে চাইলে ঢাকার বাইরে আছি এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা তাকে জিজ্ঞেস করেন ইত্যাদি বলে এড়িয়ে যায়। কিন্তু এড়িয়ে গেলে কি হবে সত্য গোপন থাকে না তৎকালীন গুলশান থানা যুবলীগের আহবায়ক হৃদয় মোটা অংকের টাকা দূর্নীতি করে বিদেশ পালিয়ে গেলে শান্তকে তার রাজত্ব বুঝিয়ে দিয়ে যায়। কিন্তু শান্ত মোটেই এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। হৃদয়ের রাজত্বে শান্ত শান্ত ভাবে চালালেও শান্ত তার সেনা প্রধান করেছেন হারুন প্রধানকে। সকলের খুটির জোর ঘুড়েফিরে বিদেশের মাটিতে। সেই শক্তি ভর করেছে হারুন প্রধান এর উপর। ফুট পাতের চাঁদা না পেলে কতটা ভয়ংকর হতে পারে এই হারুন প্রধান? কলা বিক্রেতা জাহিদ টাকা দিতে না পারায় পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়। এছাড়া জুয়েল নামের এক লোক জুতা বিক্রেতা তার নিকট ১০,০০০ টাকা চাঁদা দাবী করে এই হারুন প্রধান সে দিতে অস্বীকার করলে তার ১৫-২০ জনের ক্যাডার বাহিনী জুয়েল কে পিটায়। এবিষয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করে জুয়েল। তার প্রধান অভিযুক্ত আসামি হারুন প্রধান।

গুলশানে অবস্থিত A W R কোম্পানির নির্মানাধীন বিল্ডিং হারুন প্রধান ক্ষমতার দাপটে সারে চার লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি কালে যুবলীগের সেক্রেটারি মাঈনুল ইসলাম নিখিলের ভাতিজা পরিচয়ে দেয়। এবং তার নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন রকম অপকর্মে জড়িত থেকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আর সেই টাকা দিয়ে নামী দামী মটর সাইকেল হাকিয়ে বেড়াচ্ছে। অদৃশ্য আতঙ্কে ফুটপাতে বিকিকিনি করা সাধারণ মানুষেরা নাকাল হয়ে পড়েছে হারুনের কালো থাবায়। পুলিশ প্রশাসন ফুটপাত উঠিয়ে দিচ্ছে ফলে অসহায় হয়ে পড়ছে এসব মানুষ। ফুটপাত বসলে তাদের চাঁদা দিতে হবে, এসব গরীব অসহায় মানুষের আর্তনাদ আমরা যাব কোথায় ?