বুধবার ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রংপুরে ব্রাহ্মনীকুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ…..

আপডেটঃ ৮:৩৩ অপরাহ্ণ | জুন ১৩, ২০২১

শেখ তিতুমীর: -রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার ব্রাহ্মনীকুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম , স্বেচ্ছাচারিতা ,অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের অসৌজন্যমূলক আচরনের অভিযোগ উঠেছে । অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীর নিকট আতংকের নাম , প্রধান শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম । উক্ত প্রধান শিক্ষক এহেন কাজ নাই যা করিতে পারেন না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে শুরু“ করে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশকে ও তোয়াক্কা করেন না ।এমন কি হাই কোর্টের নির্দেশকে ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন তিনি । কর্মচারী বৃন্দ কর্তৃক এমপিও সিটে জন্ম তারিখ সংশােধনের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে রিটের আদেশ কপি। যার রিট পিটিশন নং -২২৩৩ / ২০১৯। এ ব্যাপারে গত ০৮/০৬/২০২১ ইং তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় জননিরাপত্তা বিভাগ প্রশাসন -১ বাংলাদেশ সচিবালয় , ঢাকা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভোক্তভোগীরা। গত ২০০৫ ইং থেকে অদ্যবধি বিদ্যালয়ে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে নিজ শ্যালক মো: শাহজাহান মিয়াকে ১৫ বছর ধরে সভাপতি রেখে এবং নিজ সমর্থিত লোকদেরে সদস্য করে স্কুল পরিচালনা করে আসছেন । ফলে তিনি এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠছেন শিক্ষক কর্মচারীদেরকে মানসিক এবং আর্থিক ভাবে নির্যাতন করে আসছেন। বিদ্যালয়ের কর্মচারী মো: আমিনুল ইসলাম ( দপ্তরী ) ইনডেক্স নং ১০১৬৬০৫ , বিধি মােতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে এবং ০১/০৫/২০০৪ ইং তারিখ হতে এমপিও ভুক্ত কর্মচারী হিসাবে চাকুরী করে আসছেন । কিন্তু রহস্যজনক ভাবে এমপিও ভুক্ত থাকার ১০ বৎসর পর ২০১৪ ইং সালের জানুয়ারী মাসের এমপিও , কাগজ পত্রে তার জন্ম তারিখ ১৫/১০/১৯৭৮ ইং এর স্থলে ১৫/১০/১৯৬২ ইং হয়ে আসে । অপরদিকে অপর কর্মচারী মো: আমজাদ আলী (নৈশ প্রহরী) , ইনডেক্স নং -১০১৬৬০৬ , বিধি মােতাবেক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে এবং ০১ / ০৫ / ২০০৪ ইং তারিখ থেকে এমপিও ভুক্ত হয়ে চাকুরী করে আসছেন । ২ ভুক্ত হওয়ার ১৩ বৎসর পর ২০১৭ ইং সালের জানুয়ারী মাসের এমপিও তে তার জন্ম তারিখও রহস্যজনক ভাবে ০৭/০৫/১৯৭৯ ইং এর স্থলে ২১/০৩/১৯৬২ ইং হয়ে আসে । এমপিও সিটে জন্ম তারিখ সংশােধনের জন্য প্রধান শিক্ষকের নিকট আবেদন করলে প্রত্যেক কর্মচারীর নিকট ৩ লাখ টাকা দাবি করেন । এরই প্রেক্ষিতে আমজাদ আলী ও আমিনুল ইসলাম বিভিন্ন দপ্তরে অভিযােগ করায় প্রধান শিক্ষক , আমজাদ আলীর বেতন ভাতা জুন / ১৮ ইং হতে স্থগিত করে দেন । তিন বৎসর যাবত বেতন না পেয়ে আমজাদ আলী স্ত্রী , সন্তান ও বৃদ্ধা অসুস্থ ’ মাকে নিয়ে খুবেই কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিদ্যালয়ের দুইজন কর্মচারীর এমপিও শিটে জন্ম তারিখ সুকৌশলে প্রধান শিক্ষক নিজেই কমিয়ে তাদেরকে অবসরে পাঠিয়ে উক্ত পদে নতুন দুইজন কর্মচারী নিয়োগে বড় অংকের উৎকোচ গ্রহনের পায়তারা করছেন । বড় অংকের উৎকোচ দারি অভিযোগ ও রয়েছে তার উপর। বিদ্যালয়ের চার জন সহকারী শিক্ষক মো: ফারুক হােসেন , মাওঃ:মো: মশিউর রহমান , মো: শফিকুল ইসলাম ও মোছাঃ রেকেয়া বেগম বিএড স্কেল প্রাপ্তি হতে ১০ বৎসর পূর্ণ হয় ২০১৮ ইং সালে । বিধিমতে ১০ বৎসর পূর্ণ হওয়ার ২০১৮ ইং সাল হইতে তারা উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির যােগ্য হন। যা প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অদ্যাবধি বহুবার আবেদন করা সত্বেও প্রধান শিক্ষক উচ্চতর স্কেলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন না । প্রধান শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষকের উচ্চতর স্কেলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন বাবাদ ১লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। দাবীকৃত টাকা প্রদান করলেই কেবল তিনি উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন অত্য বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক জানিয়ে দেন । ইতিমধ্যে মো: ফারুক হোসেন এর নিকট থেকে ১২/০৮/২০২০ ইং তারিখে ২০ হাজার টাকা গ্রহন করেন এবং আরো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন । উল্লেখ্য যে সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেনের নিকট থেকে প্রধান শিক্ষক বিধি – বহির্ভূতভাবে সরকারী বেতন ভাতা এপ্রিল / ১৮ ইং মাসের ১৬ হাজার ৫শত টাকা হইতে ১১ হাজার টাকা কর্তৃন করেন। যাহা জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযােগ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষক কর্মচারীদেরকে চাকুরির ভয় ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন । এমনকি প্রতিমাসের বিলে স্বাক্ষর করতেও প্রত্যেক শিক্ষক কর্মচারীকে উৎকোচ দিতে হচ্ছে । কোন শিক্ষক টাকা দিতে না চাইলে তার বিল ভাতা না দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন । তার আচারনে পীরগাছা থানার শিক্ষক সমাজ অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযােগ শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রমান হওয়া সত্বেও প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে মামলার ভীতি প্রদর্শন করেন। শিক্ষা অফিসার অনাকাঙ্কিত মামলা এড়াতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে বিরত থেকেছেন । ফলে দিন দিন উক্ত প্রধান শিক্ষক , সহকারি শিক্ষক ও কর্মচারীর উপর মানসিক নির্যাতন এতটাই করে যাচ্ছেন, তিনি নিজেকে আইনের উর্ধ্বে মনে করেন । যে কোন সময় সহকারি শিক্ষক ও কর্মচারীর চাকুরির সমস্যা ঘটাবেন , শিক্ষক, কর্মচারীগন সেই উৎকণ্ঠায় আছেন। এখন শুধু শিক্ষক কর্মচারীদের একটাই প্রশ্ন তারা কি সত্যের মুখ দেখবে না ? নাকি উক্ত প্রধান শিক্ষকের মানসিক এবং আর্থিত নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। এ ব্যাপারে ২৭/০৫/২০১৮ ইং তারিখে মো: ফারুক হোসেন জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক , উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ। মো: আমজাদ হোসেন ও মো: আমিনুল ইসলাম কর্তৃক ২৬/০৬/২০১৮ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর, সকল শিক্ষক কর্মচারী এবং সচেতন অভিভাবক বৃন্দ কর্তৃক, ১০/১০/২০১৮ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর, সকল শিক্ষক / কর্মচারী এবং সচেতন অভিভাবক বৃন্দ কর্তৃক ১০/১০/২০১৮ ইং তারিখে জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক ২৭/০২/২০১৯ ইং তারিখে তদন্ত পূর্বক কর্মচারীবৃন্দের এমপিও সংশােধনের সুপারিশ করেন।