সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)।

আপডেটঃ ১২:৫২ অপরাহ্ণ | মে ২৮, ২০১৪

নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের নিয়োগপ্রাপ্ত ১০ জন শিক্ষকই সম্বল।

শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের লাইন ধরে ক্লাস করতে হয়। এক ব্যাচের ক্লাস শেষ হলে আরেক ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে প্রবেশ করেন।

শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত আবাসিক ব্যবস্থা। হোস্টেলে থাকার পর্যাপ্ত জায়গা নেই।  ছাত্রীদের জন্য হোস্টেলে বরাদ্দ ১০০ জনের। ছেলেদের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা ২০৮ জনের। ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও অসস্তোষ। ছাত্রছাত্রীদের ডাইনিংয়ের খাবারের জন্য আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠান থেকে নেই কোনো অর্থ বরাদ্দ।

ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য পর্যাপ্ত গবেষণাগার নেই। গবেষণাগারে নেই পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি। যেগুলো আছে সেগুলোও পুরনো আমলের।

নেই আর নেই এর সমুদ্র যেন রাজশাহীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)। শুরুতে আইএইচটি প্রতিষ্ঠিত হয় প্যারামেডিকেল নাম নিয়ে ১৯৭৬ সালে ৯ দশমিক ৭ একর জায়গার ওপর। পরে এটির নামকরণ হয় ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি বা আইএইচটি।

প্রতিষ্ঠার সময়ে ৪০ জন ছাত্রের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন ১০ জন। তখন ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি ও রেডিওগ্রাফি নামে তিনটি অনুষদ ছিল। প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছর পরও নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক সংখ্যা ওই ১০ জন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আনা ভাড়া করা শিক্ষক দিয়ে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস নেওয়া হয়।

বর্তমানে সাতটি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, ডেন্টাল, ফিজিওথেরাপি ও রেডিওথেরাপি এই ছয়টি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ডিপ্লোমা কোর্স প্রদান করা হয়। স্যানিটারি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এসআইটি) বিষয়ে ডিপ্লোমা প্রদান করা হয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত টেকনোলজিস্টদের। এছাড়া ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ফিজিওথেরাপি ও ল্যাবমেডিসিন বিষয়ে প্রদান করা হয় বিএসসি ডিগ্রি।

সাতটি ডিপ্লোমা কোর্স ও দুইটি বিষয়ে বিএসসি কোর্স মিলিয়ে আইএইচটিতে সর্বমোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ জন। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি অন্যান্য কোনো সুযোগ-সুবিধা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্লাসরুমের সংকট রয়েছে। কোনো বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ক্লাসরুম নেই। ক্লাসের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ফিজিওথেরাপি ও রেডিওলজি বিভাগে যন্ত্রপাতি নেই। অন্যান্য বিভাগে যে যন্ত্রপাতিগুলো আছে সেগুলোও মান্ধাতা আমলের।

বিএসসি ফিজিওথেরাপি তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, তাদের অনুষদে কোনো পার্মানেন্ট (স্থায়ী) শিক্ষক নেই। গেস্ট টিচার দিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়।

বিএসসির থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, কাইনেসিওলজি, ইলেকট্রোথেরাপি কোর্সের জন্য ঢাকা থেকে শিক্ষক নিয়ে আসতে হয়। এই বিষয়ের পড়ানোর জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফিজিক্যাল মেডিসিনের বিভাগের শিক্ষকরাও ক্লাস নেন। তারা গুরুত্ব দিয়ে ক্লাস নেন না বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে কোর্সের জন্য ১০০টি ক্লাস নেওয়া দরকার সেখানে ১০টি ক্লাস নিয়েই শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। এ ছাড়া বিএসসির জন্য আলাদা কোনো ক্লাসরুম ও ল্যাব নেই।

যোগাযোগ করা হলে ছাত্রলীগ আইএইচটি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশীদ বলেন, আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে বারবার শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে সমাধানের জন্য বলেছি, শিক্ষকরা আমাদের সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. গাজীউল আলম বলেন, শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামো সুবিধা বাড়ানোসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগে সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর বেশ কয়েক দফা চিঠি দিয়েছি। সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।