শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

প্রেমিক ভয়ঙ্কর…

আপডেটঃ ১০:১০ অপরাহ্ণ | মে ২৮, ২০১৪

নারায়ণগঞ্জ: সহপাঠীর সঙ্গে প্রেম। গোপনে কাজী অফিসে বিয়ে। এক পর্যায়ে জেনে যায় দুই পরিবার। আবেগের ফুলঝুড়ি ছড়ানো ছেলে মেয়ের এ ডানপিঠে প্রেম মেনেও নিতে চায়। কিন্তু বেঁধে দেয়া হয় সময়। যা হবার হবে দুজনের এইচএসসি পরীক্ষার পরই।

কিন্তু প্রেমিক তো বীর পুরুষ, অবাধ্য! তার যে তর সয়না, মন মানেনা। তাই এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রেই তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে প্রেমিকার সঙ্গে। অবশ্য কাছেই ছিলেন প্রেমিকার মা। তিনি এগিয়ে এসে মেয়ের অবাধ্য প্রেমিককে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। আর এতেই ক্ষোভের আগুনে যেন ঢেলে দেয়া হয় ঘি।

প্রেমিক বীরপুরুষ তাকে বহন করা সিএনজি অটোরিকশা থেকে বের করে আনে হাতুড়ি। ঝাল মেটাতে প্রেমিকার মায়ের মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মা। পরে তাকে ধরাধরি করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

না, এমন সিনেমাটিক ঘটনাটি কিন্তু বাইরের কোনো দুনিয়ার নয়, খোদ বাংলাদেশের আলোচিত জেলা নারায়ণগঞ্জের।

বুধবার সকালে সোনারগাঁ কাজী ফজলুল হক উইমেন্স ইউনিভর্সিটি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত প্রেমিক শাওন আহমেদকে আটক করেছে পুলিশ। শাওন সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম সনমান্দি গ্রামের অহিদুল্লাহর ছেলে।

আর প্রেমিকার নাম সুমনা। সে বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর এলাকার ইউনুছ আলীর মেয়ে। বর্তমানে তারা সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের ভাড়া বাসায় থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীও এলাকাবাসী জানায়, শাওন আহমেদ আর সুমনা সহপাঠী। তারা এবার সোনারগাঁ কাজী ফজলুল হক উইমেন্স ইউনিভার্সিটি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। বুধবার সকালে কেন্দ্রের বাইরে শাওন প্রেমিকা সুমনার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে প্রেমিকার মায়ের সঙ্গেও তর্ক শুরু করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে শাওন। এসময় তাকে বহন করা সিএনজি অটোরিকশা থেকে হাতুড়ি বের করে প্রেমিকার মায়ের মাথায় আঘাত করে। এতে মারাত্মক ভাবে আহত হন প্রেমিকার মা। তাকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান ও সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রেমিক শাওনকে আটক করে নিয়ে আসে।
 
অভিযুক্ত শাওন দাবি করেছে, বিয়ে করার পরেও বিষয়টি পারিবারিক ভাবে সমঝোতা না হওয়ায় ক্ষোভে এ ঘটনা ঘটেছে। শাওন আরো জানায়, ছয় মাস আগে সে তার প্রেমিকাকে কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বিষয়টি উভয় পরিবারই অবগত আছে। দুজনের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে মেনে নেয়ার কথা ছিল। প্রেমিকার পরিবার বিয়ের বিষয়টি মেনে না নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে আমার ওপর হামলা চালায়। এসময় আমি আত্মরক্ষার জন্য হাতুড়ি নিয়ে আঘাত করেছি।