শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

র‌্যাবের অপকর্মের দায় খালেদাকে নিতে হবে

আপডেটঃ ১০:১৪ অপরাহ্ণ | মে ২৮, ২০১৪

ঢাকা: মুন্সীগঞ্জের জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার র‌্যাব বিলুপ্তির দাবির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, র‌্যাব কোনো অপকর্ম করে থাকলে তার দায় খালেদা জিয়ার ওপরই বর্তাবে।

বুধবার সন্ধ্যায় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার র‌্যাব বিলুপ্তির দাবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হানিফ বলেন, ‘খালেদা জিয়াই র‌্যাব গঠন করেছিলেন। এমনকি খালেদা নিজেও স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শায়েস্তা করার জন্যই র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। তিনি র‌্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন। এর ফলে র‌্যাবের কোনো কোনো সদস্যের মাঝে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। র‌্যাবের সেসব অপকর্মের দায় খালেদা জিয়ার ওপরই বর্তাবে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এ ধরনের দাবি করতেই পারেন। র‌্যাবকে কী উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল, ইতোমধ্যেই বেগম খালেদা জিয়া তা স্বীকারও করেছেন। আমরা অন্তত একটি বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ দেই যে, এর আগে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে আইনজীবীদের সভায় বলেছেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বা নেতাকর্মীদের সায়েস্তা করার জন্যই র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল।’

‘২০০৪ সালে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। এটা তিনি অনেকটাই অবচেতন মনে স্বীকারও করেছেন। আমরা সেই র‌্যাবকে দেশের সন্ত্রাস দমনের জন্য ব্যবহার করেছি। বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে দীর্ঘ দুইবছর এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে অনেকের মাঝেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বা দায়িত্বের বাইরেও দুই একটা অপকর্ম করার প্রবণতা রয়ে গেছে। সেখান থেকে দুইএকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে।’ এমনটাই বললেন হানিফ।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আজকে মুন্সীগঞ্জের জনসভায় যে বক্তব্য দিয়েছেন তার অধিকাংশই অসত্য এবং ভিত্তিহীন। তার স্বভাব অনুযায়ী বরাবরের মতো এবারো আওয়ামী লীগকে বিষোদগার করেছেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।’

হানিফ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ সরকার তাৎক্ষণিকভাবে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, বাংলাদেশের কোনো সরকারই তা নিতে পারেনি। সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, যারা র‌্যাবে ছিল সেই কর্মকর্তাদেরকে গ্রেপ্তার করে তদন্তপূর্বক বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাদের শুধু অবসরেই পাঠানো হয়নি, তাদেরকে রিমান্ডেও পাঠানো হয়ছে। এরপরও বেগম খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন যে, তাদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে হত্যা মামলায় দখানো হয়নি। এই মিথ্যা তথ্য তিনি কেন দিয়েছেন সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। কারণ সবাই জানে তাদেরকে এ হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।’
 
হানিফ আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন দেশে যত গুম-খুন-হত্যার ঘটনা ঘটেছে তার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রধান্ত্রীকে আইনের আওতায় আনা হবে। খালেদা জিয়া এ কথা বলার আগে আয়নায় তার নিজের চেহারা দেখার দরকার ছিল। তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন যে হত্যা-সন্ত্রাস-নারকীয় ঘটনা ঘটেছে তার জবাবদিহি কে করবে? ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তার সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে, তার সন্ত্রাসী বাহিনী আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে ২৪ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল, তার জবাবটা কে দেবে? সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে প্রকাশ্য জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে হত্যা করা হয়েছিল সে দায়ভারটা কে নেবে? টঙ্গীর জনপ্রিয় এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টারকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার দায়ভার কে নেবে? ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে শাহজালালের মাজারে হত্যার চেষ্টার দায় কে নেবে? আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যার দায়ভার বেগম খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে এসব অপকর্মের দায় স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। তারপর তিনি সরকার কিংবা অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার নৈতিক অধিকার পাবেন। তার আগে অন্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করা ওনার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

দেশে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিষয়ে জনগণ তার মুখ থেকে আর কোনো কথা শুনতে চায় কি না সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। উনি ক্ষমতায় থাকতে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন করেছেন। শুধু উনার পুত্রদ্বয়ই নয় উনি নিজেও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। উনার পুত্ররা যে দুর্নীতি দেখিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়াকে আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনবেন, এটা আমার মনে হয় স্বপ্ন-স্বপ্নই থেকে যাবে।’