বৃহস্পতিবার ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আজ এসেছি হেলিকপ্টারে, আগামীতে আসবো গাড়িতে চড়ে : রাষ্ট্রপতি

আপডেটঃ ১০:২৩ অপরাহ্ণ | মে ২৮, ২০১৪

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ বুধবার কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত দুই উপজেলা মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন। তিনি হাওর অধু্যষিত তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন থেকে ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনসহ মোট সাত বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক।
উন্নয়নের মাঠচিত্র সরেজমিন পরিদর্শনকালে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে রাষ্ট্রপতি তার আকাঙ্খার কথা ব্যক্ত করে বলেন, আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, সড়কপথে ঢাকা থেকে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনে আসব। সে স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে চলেছে। আজ এসেছি হেলিকপ্টারে, আগামীতে আসব গাড়িতে চড়ে। অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিদর্শনকালে সেখানকার বাহাদুরপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন মাঠে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। হাওরের যোগাযোগ ব্যবস্থার চলমান উন্নয়নচিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হওয়ার পর হাওরের মানুষকে আর শুধু নৌকার উপর নির্ভর করতে হবে না। বর্ষাকালেও তারা সড়কপথে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম এমনকি জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবে। সড়কের দু’পাশে লোকজন বসতি স্থাপন করতে পারবে। নতুন নতুন গ্রাম গড়ে ওঠবে। এতে হাওরে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তাসংশ্লিষ্টদের আসা-যাওয়া এবং থাকা-খাওয়ার সমস্যার কারণে আগের মতো আর মন চাইলেই হাওরের নিজ এলাকায় তিনি যেতে পারেন না, এমন আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেন, আমি যেখানেই থাকি, প্রতিদিন হাওরের মানুষের খোঁজখবর নেই। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও আসতে পারি না।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সফরসঙ্গী যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। হাওরের তিন উপজেলাও এগিয়ে যাবে। তিন উপজেলার সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ৫০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে হাওরের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, করিমগঞ্জের নিয়ামতপুর থেকে বালিখলা ও মিঠামইনের গোপদীঘি হয়ে মিঠামইন সদর পর্যন্ত মোট ১৭ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে নির্মাণাধীন রয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৭ দশমিক শূন্য ৭ কিলোমিটার রাসত্মার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই সড়কের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া ভৈরব-কিশোরগঞ্জ সড়কের উজানচর থেকে বাজিতপুর সদর হয়ে অষ্টগ্রাম পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণাধীন রয়েছে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন। এই সড়কের ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই সড়কটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৪ কোটি টাকা।
বেলা পেৌনে ২টার দিকে অষ্টগ্রাম সদরে হেলিকপ্টার থেকে নেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে অটোরিকশা করে কাস্তুল গিয়ে কাস্তুল ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে নিজ উপজেলা মিঠামইনের গোপদিঘী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে পৌঁছান। সেখানে গোপদিঘী ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে অষ্টগ্রামে যান। যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিদর্শনকালে যোগাযোগমন্ত্রী ছাড়াও অন্যদের মধ্যে প্রেসিডেন্টপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক এসএম আলম, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে অষ্টগ্রাম ত্যাগ করেন।