সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

লাশ ফেরত দেয়নি মিয়ানমার, সীমান্তে সতর্কতা

আপডেটঃ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ | মে ৩০, ২০১৪

কক্সবাজার প্রতিনিধি : নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে শুক্রবার দুপুরে আবারও প্রচণ্ড গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে মিয়ানমার বাহিনী কর্তৃক দ্বিতীয় বারের মতো গুলি বর্ষণের ঘটনায় সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আতঙ্কে ওই এলাকার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে।

বিজিবি বান্দরবানের সেক্টর কমান্ডার সাইফুল ইসলাম তালুকদার জবলেছেন, ‘সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।’

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সীমান্তে প্রচণ্ড গোলাগুলির খবরের সত্যতা স্বীকার করে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত দেওয়ার কথা জানানো হলে বিজিবির একটি দল পাইনছড়ি সীমান্তে যায়। বেলা দেড়টার দিকে প্রথমে মিয়ানমারে পাঠানো হয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদু রশিদ, দোভাষী আবুল কাসেম ও ওয়ার্ড মেম্বার মুজিবুর রহমানকে। তারা মিয়ানমারে গিয়ে বিজিপির সঙ্গে আলোচনা করে ফেরত আসেন। এর কিছুক্ষণ পর মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বিজিপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এসে বলেন, ‘বাংলাদেশ সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে, আলোচনার সুযোগ নেই’ একথা বলে চলে যায়। এর পরপরই প্রচ- গুলি বর্ষণ শুরু করে মিয়ানমার বাহিনী। বিজিবিও পাল্টা জবাব দেয়।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদু রশিদ জানিয়েছেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা গুলাগুলির পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসলে সাদা পতাকা নিয়ে দোভাষী আবুল কাসেম ও ওয়ার্ড মেম্বার মুজিবুর রহমানকে ফের মিয়ানমারে পাঠানো হয়। কিন্তু মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা আলোচনায় বসতে এবং বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত দিতে আর রাজি হয়নি। বাংলাদেশি দুই মধ্যস্থতাকারির সঙ্গে খারাপ আচরণ করে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। চেয়ারম্যান জানান, নিহত বিজিবি সদস্যর লাশ স্থানীয় ক্যাম্পের পাশে পড়ে রয়েছে। তিনি নিজেই তা দেখেছেন।

এদিকে দুই মধ্যস্থতাকারি ফেরত আসার কিছুক্ষণ পর আবার গুলি বর্ষণ শুরু হয়। তা চলে আধা ঘণ্টাব্যাপী। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। এদিকে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ বিজিপি আকস্মিক বাংলাদেশের ভেতরে বিজিবির একটি টহল দলের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বিজিবির এক সদস্য নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে মিয়ানমার বাহিনী বাংলাদেশে ঢুকে গুলিবিদ্ধ মিজানকে টেনে হেচড়ে নিয়ে গেছে। মিজানুর রহমান কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভেলানগর গ্রামের বাসিন্দা।

নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির ৩১ ব্যাটেলিয়নের একটি সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ নায়েক মিজান বেঁচে আছে বলে খবর পাওয়া গেলেও সর্বশেষ শুক্রবার সকালে জানা গেছে তাঁর মৃত্যুর খবর। বিকেলে নাইক্ষ্যংছড়ির পাইনছড়ি সীমান্তে ৫২ নম্বর পিলার কাছে মিজানের লাশ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। লাশ গ্রহণের জন্য বিজিবির একটি দল সীমান্ত এলাকায় যায়। কিন্তু তার আগেই সীমান্তে ফের গুলি বর্ষণ শুরু করে মিয়ানমার বিজিপি বাহিনী। বিজিবিও পাল্টা জবাব দেয়। এই সময়ে প্রচণ্ড গুলাগুলিতে ভীতিকর পরিস্থিতির সুষ্টি হয়। আতঙ্কে লোকজন বাড়ি ঘর ছেড়ে নিরাপদ অবস্থানে পালিয়ে যায়।

সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
এদিকে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলি বর্ষণের ঘটনার পর থেকে বিজিবি সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, বিদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানের নামে মিয়ানমার আগে থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। তারা প্রায় প্রতিদিন সীমান্ত এলাকার সন্নিকটে অভিযান পরিচালনা করছে। এতে করে সীমান্তে এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই নিয়ে সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে।’

নাইক্ষ্যংছড়ির বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শফিকুর রহমান জানান, সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে সীমান্তের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রাখতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি।