শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবাসী

আপডেটঃ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ | মে ৩০, ২০১৪

বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে কয়েকদিন ধরে বিজিবির সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনি বিজিপির উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে গুলিবিনিময় ও হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এতে ওই এলাকায় বসবাসরতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল নয়টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি ইউনিয়নের পানছড়িতে ৫২ নং পিলার এলাকায় নাইক্ষ্যংছড়ির ৩১ বিজিবির একটি টহল দলের উপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বিজিপি। এই ঘটনায় বিজিবির নায়েক মিজানুর রহমান তার ব্যবহৃত অস্ত্রসহ (সিপাহী নং- ৫৩৯৪৯) নিখোঁজ হয়। মিজানুর রহমানকে বিজিপি সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়।

শুক্রবার সকালে নিখোঁজ মিজানুরের সন্ধানে বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় গেলে বিজিপি সদস্যরা মিজানুরের হদিস না দিয়ে বিজিবি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। দুপুরের দিকে গুলিবিনিময় আরো বাড়তে থাকে। এ সময় কয়েকশ রাউন্ড পাল্টাপাল্টি গুলির ঘটনা ঘটে। 

এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছে। তবে যারা সরে যেতে পারেননি তারা উৎকণ্ঠায় আছেন।

ওই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আলম এই প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এখানে এমন অবস্থা হয়েছে যে নিরাপদ স্থানে যাবো দূরে থাক, কারো সঙ্গে ফোনে কথা বলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।’ 

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ৪৮ থেকে ৫৫ নং পিলারের সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা বাহিনীর আরো কয়েকটি টহল দলসহ সেনা সদস্যদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।

শুক্রবার সকালে নিরাপত্তাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে মিজানুরের লাশ ফেরত চায়। তবে সে বিষয়ে তারা সাড়া না দিয়ে পাল্টা গুলি চালায়। ফলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান তারা।

দোছড়ির ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহম্মদ জানান, দুর্গম এই সীমান্তে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় আতঙ্কে ওই এলাকার স্থানীয়রা এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ উয়েন লুয়িনকে তলব করা হয়। একই সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তে নিখোঁজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক মিজানুর রহমানের মুক্তির দাবি জানানো হয়।