সোমবার ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

ডেসটিনির দুই মামলায় অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আদালত

আপডেটঃ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | জুন ১১, ২০১৪

ঢাকা: মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা দুটি অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন আদালত।

বুধবার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জহুরুল হক ওই অভিযোগপত্র দুটি আমলে নেন।

একই সঙ্গে বিচারক জেলহাজতে থাকা আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করার পাশাপাশি পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পরোয়ানা ফেরতের জন্য আগামি ১৩ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।

গত ৫ মে ডেসটিনির এমডি মো. রফিকুল আমীন, চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ হোসেনসহ ৬৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র উপস্থাপন করে দুদক।

এর আগেরদিন দুদকের উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার ওই অভিযোগপত্র দুটি সিএমএম আদালতে দাখিল করেন।

অভিযোগপত্র দুটির মধ্যে ডেসটিনি মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ লি. মামলায় ১০৪ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ৩০৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অন্যদিকে ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেডের ৮৩ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ২৩৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের ১৮ মাস পর ১৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র অনুমোদন করে দুদক। অনুমোদনের প্রায় সাড়ে ৩ মাস পর তা আদালতে দাখিল করা হয়।

ডেসটিনি মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ লি. মামলার অভিযোগপত্রে ৪৬ জনের এবং ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেড মামলার অভিযোগপত্রে ১৯ জনের নাম রয়েছে। সে হিসেবে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫ জন। তবে দুদকের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (এসপিপি) কবির হোসেন জানিয়েছেন, ১৪ জন আসামি রয়েছেন যাদের নাম দুটি মামলার অভিযোগপত্রেই রয়েছে। তাই সে হিসেবে আসামির সংখ্যা ৫১ জন।

অভিযোগপত্র যাদের নাম রয়েছে- ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রফিকুল আমীন, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক সেনাপ্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, ফারাহ দীবা, সাঈদ-উর-রহমান, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, জমশেদ আরা চৌধুরী, ইরফান আহমেদ, শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসেন, জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া, এসএম আহসানুল কবির, জুবায়ের হোসেন, মোসাদ্দেক আলী খান, আবদুল মান্নান, আবুল কালাম আজাদ, আজাদ রহমান, মো. আকবর হোসেন সুমন, সাঈদুল ইসলাম খান (রুবেল), মো. সুমন আলী খান, শিরীন আকতার, রফিকুল ইসলাম সরকার, মো. মজিবুর রহমান, লে. কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলম, ড. এম হায়দারুজ্জামান, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, কাজী মো. ফজলুল করিম, মোল্লা আল আমীন, মো. শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউল হক মোল্লা, সিকদার কবিরুল ইসলাম, মো. ফিরোজ আলম, ওমর ফারুক, সুনীল বরণ কর্মকার ওরফে এসবি কর্মকার, ফরিদ আকতার, এস সহিদুজ্জামান চয়ন, আবদুর রহমান তপন, মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খান, এসএম আহসানুল কবির (বিপ্লব), এএইচএম আতাউর রহমান রেজা, গোলাম কিবরিয়া মিল্টন, মো. আতিকুর রহমান, খন্দকার বেনজীর আহমেদ, একেএম সফিউল্লাহ, শাহ আলম, মো. দেলোয়ার হোসেন, জেসমিন আক্তার (মিলন) ও মো. শফিকুল হক।

আসামিদের মধ্যে এমডি মো. রফিকুল আমীন, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, লে. কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলম ও  মো. জিয়াউল হক মোল্লা কারাগারে আছেন এবং লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদসহ চার্জশিটভুক্ত অপর ৪৬ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি ও ক্রোকি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৩১ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম মামলা ২২ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়- ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন ও ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার কোটি সংগ্রহ করে। কিন্তু বর্তমানে তাদের পৃথক দুটি অ্যাকাউন্টে ৫৬ লাখ ও ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আছে। বাকি তিন হাজার ২৮৫ কোটি টাকা তারা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।