বৃহস্পতিবার ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

প্রধান শিক্ষকের শরীরে ও মাথায় কালি দিয়ে অপমান

আপডেটঃ ৫:২২ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৬, ২০১৪

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষককে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটুনি দিয়ে শরীরে ও মাথায় কালি এবং রং দিয়ে অপমান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিগৃহীত সুলতান মাহমুদ স্বপন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। লজ্জা ও ভয়ে ওই শিক্ষক ঘটনাটি পুলিশকে জানাতে পারেনি।

শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নশাসন ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদারের সমর্থক নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান চৌকিদারের নেতৃত্বে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে যানা যায়। ইমরান চৌকিদার সম্পর্কে দেলোয়ার হোসেন তালুকদারের ভাগ্নে।

গ্রামবাসী ও ওই শিক্ষক জানায়, গত উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংসদ শওকত আলীর সাথে দেলোয়ার তালুকদারের বিরোধ তৈরি হয়। স্বপনের পরিবার শওকত আলীর পক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর থেকে স্বপনের পরিবারের সাথে দেলোয়ার তালুকদারের দ্বন্দ শুরু হয়। দেলোয়ার তালুকদারের সমর্থকরা গত ১৯ মার্চ স্বপনের বাড়ীতে হামলা করে তার বৃদ্ধ মা নুরজাহান বেগমকে মারধর করে ৩টি গবাদি পশু নিয়ে যায়। তখন নড়িয়া থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি।

গত শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে প্রধান শিক্ষক স্বপন ব্যক্তিগত কাজে নশাসন ইউনিয়নের ডগ্রী বাজারে যায়। তখন দেলোয়ার তালুকদারের ভাগ্নে নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ৫/৬ জন যুবককে নিয়ে ওই শিক্ষককে মারধর করে। শিক্ষকের শরীর থেকে শার্ট খুলে কালি লাগিয়ে দেয়। তারপর মাথায় রং দিয়ে বাজার থেকে তাড়িয়ে দেয়।

নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান চৌকিদার বলেন, এমন কোনো ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। কারা ঘটিয়েছে তাও আমি জানিনা। তবে উপজেলা নির্বাচনে হারজিত নিয়ে এলাকার ছেলেরা রং দিতে পারে এমন একটি খবর আমি শুনতে পেয়েছি। যদি দিয়েও থাকে তা নিয়ে ওই শিক্ষকের আপনাদের কাছে অভিযোগ করা ঠিক হয়নি। এলাকার মুরব্বীরাই বিষয়টির মিমাংসা করে দিতে পারত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডগ্রী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, একজন সম্মানীত শিক্ষককে চোখের সামনে অমানবিকভাবে অপমান করেছে ইমরান চৌকিদার। ভয়ে কিছুই বলতে পারিনি। তারা খুব প্রভাবশালী, প্রতিবাদ করলে এমন আচরন আমাদের সাথেও করা হবে।

নশাসন ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, আমি শুক্রবার এলাকায় ছিলাম না। তাই কি ঘটেছে জানিনা। বন্ধু বান্ধবরা দুষ্টমি করে রং দিতে পারে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দোষীদের বিচার করা হবে। আমার কোনো সমর্থক তাদের উপর হামলা করেছে এটা সঠিক নয়।

সুলতান মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতি করি না। আমার পরিবার স্থানীয় সাংসদের সমর্থক। দেলোয়ার তালুকদারের সাথে সাংসদের দ্বন্দ্ব হওয়ায় সে আমাদেরকে তার পক্ষে অবস্থান নিতে বলেছিল। তার কথামত না চলাতে আমাদের উপর নির্যাতন শুরু হয়। তারা এমন অমানবিকভাবে অপমান করবে ভাবতে পারিনি।’

নশাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন রতন বলেন, উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে নানাভাবে দেলোয়ার তালুকদার আমাদের হয়রানি করছে। বিষয়গুলি লিখিতভাবে থানায় জানানো হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শুক্রবার আমার ভাইকে পিটুনি দিয়ে মাথা ও শরীরে রং ও কালি দিয়ে বাজার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আল্লাহ তাদের বিচার করবেন।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কবিরুল ইসলাম বলেন, কোনো শিক্ষককে পিটুনি দিয়ে শরীরে রং ও কালি দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।