বৃহস্পতিবার ১লা অক্টোবর, ২০২০ ইং ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Ad

সর্বশেষঃ

রাঙামাটিতে সিএইচটি সদস্যরা অবরুদ্ধ

আপডেটঃ ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৬, ২০১৪

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালসহ আট সদস্যের প্রতিনিধি দলকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বাঙালিদের ছয়টি সংগঠন। প্রতিরোধের মুখে শনিবার সকাল সোয়া দশটার দিকে রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের মোটেলে অবস্থান নিয়েছেন তারা। কাউকে না জানিয়ে রাঙ্গামাটি আসায় প্রশাসনও তাদের কোনো সহযোগিতা করছে না।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানান, পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তাদেরকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে রাঙ্গামাটিতে না আসতে। তা সত্ত্বেও প্রশাসনের কাউকে না জানিয়ে তারা রাঙ্গামাটি আসেন।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের (সিএইচটি) প্রতিনিধি দলের গোপনে রাঙ্গামাটি সফরের প্রতিবাদে শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি শহরের প্রধান সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে বাঙালি ছয় সংগঠন। কমিশনের প্রতিনিধি দল যতক্ষণ পর্যন্ত রাঙ্গামাটি ত্যাগ না করে ততক্ষণ পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

কমিশনের রাঙ্গামাটি সফরের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে ৩৬ ঘণ্টার অবরোধ শুরু করে কমিশন না আসায় সাত ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে বাঙালি সংগঠনগুলো। কিন্তু শুক্রবার রাতে সিএইচটি কমিশনের প্রতিনিধি দল গোপনে রাঙ্গামাটিতে অবস্থান করলে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার সকালে বাঙালি সংগঠনগুলো কাঠালতলী ফিসারি বাঁধের সড়কের উপর ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টায় খাগড়াছড়ি বাবুছড়া ও বাগাইহাট পরিদর্শন করে সিএইচটি। পরে কমিশন পর্যটন মোটেলে এক সংবাদ সম্মেলন করে। সম্মেলন চলাকালীন বাঙালি ছাত্র পরিষদ এ কমিশনকে খাগড়াছড়িতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পর্যটন মোটেল ঘেরাও করে। এ সময় বাঙালি ছাত্র পরিষদের সভাপতি আবদুল মজিদ সমাবেশ থেকে সিএইচটিকে ছাগড়াছড়িতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং ৩০ মিনিটের আলটিমেটাম দিয়ে তাদের খাগড়াছড়ি ত্যাগ করার আলটিমেটাম দেন। অবশ্য এ সময়ের মধ্যে সুলতানা কামালসহ সংস্থাটির কর্মকর্তারা গাড়িযোগে অবরোধকারীদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছুটা প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পরে পুলিশ পাহারায় সিএইচটি কমিশনের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এর আগে পর্যটন সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমরা বাবুছড়া আশ্রিত পাহাড়িদের কষ্টের কথা শুনেছি। একইভাবে জেলা প্রশাসকসহ বিজিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি ভূমিহারা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

দুই দিনের সফরকালে সিএইচটি কমিশনের সদস্যরা এখানকার ১৫টি সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বলে দাবি করেন। বাঙালি কোনো সংগঠনের সঙ্গে দেখা করেছেন কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তারা কেউ দেখা করতে আসেনি বলে জানান।

প্রতিনিধি দলে আরো রয়েছেন সিএইচটি কমিশনের সদস্য খুশি কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, স্বপন আদনান, হানা সামশ।